১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:৫৯

বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতারা

নিউজ ডেস্কঃ  কোনো কারণ ছাড়াই কামরাঙ্গীর চর থানার ৫৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী মো .খলিলুর রহমান খলিলকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে বারোটায় পুলিশ তার কামরাঙ্গীর চর থানার ঝাউলা হাটি, হযরত নগরের বাসা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় যোগাযোগ করলে থানা থেকে জানানো হয় আজ সকালে তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। মামলার প্রথম আসামি তাকে করে, তার বড় ছেলে আমজাদ হোসেন সোহাগ এবং তার ছোট ছেলে ৫৫ নং ওয়ার্ড যুব লীগেরে প্রস্তাবিত সভাপতি সাদ্দাম হোসেন শাকিল’কে আসামি করা হয়। কিন্তু এখনো কিসের মামলা সেটা জানা যায়নি। এই নিয়ে আতঙ্কে আছে তার পরিবার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেরাণীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ঢাকা ২ আসনের সম্ভাব্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহিন আহামেদের সমর্থক খলিলুর রহমান খলিল এবং তার পরিবার। এই নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বিষয়টি ভালোভাবে দেখছেন না। ফলে এই পরিবারটিসহ শাহিন আহামেদের সমর্থকদের মামলা দিয়ে ধমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে একই রাতে কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক এইচ এম মিন্টু এবং থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সায়দুর রহমান রতনের বাসায় দফায় দফায় অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু অভিযানের সময় তাদের কাউকে বাসায় পাওয়া যায়নি।

এইচ এম মিন্টু জানান, খাদ্যমন্ত্রীর লোকজন আর পুলিশ আমাদের কাউকেই শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। নেতাকর্মী দিয়ে না পারলে পুলিশ দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। নিজের দল ক্ষমতায় থাকার পরেও নিজের বাসায় নিশ্চিন্তে থাকতে পারছি না। খাদ্যমন্ত্রী চায় না, আমরা শাহিন আহামেদের সাথে রাজনীতি করি।

আটকৃত কামরাঙ্গীর চর থানার ৫৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হাজী মো.খলিলুর রহমান খলিলের ছেলে একই ওয়ার্ডের যুব লীগের প্রস্তাবিত সভাপতি সাদ্দাম হোসেন শাকিল বলেন, আমার নামে তিনটি মিথ্যে মামলা আছে। যেগুলো খাদ্যমন্ত্রীর লোকজন দিয়েছে। গতকাল পুলিশ যখন সাড়ে বারোটার দিকে আমার বাসায় এসেছিল, তখন আমি টের পেয়ে আগেই বের হয়ে যাই। তখন পুলিশ বাসার এমন কোন জিনিস নেই যা তারা চেক করেনি, আলমারি, সোডকেস থেকে শুরু করে সব চেক করেছে। বাসা এলোমেলো করে ফেলেছে। বাবা বাসার নিচ তলায় থাকে, পুলিশ গিয়ে বাবার রুমের দরজা ভেঙ্গে আমাকে না পেয়ে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। অথচ বাবার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা হাজী মোঃ খলিলুর রহমান খলিল সাহেবকে কোনো ধরনের মামলা ছাড়াই খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের নির্দেশে থানা পুলিশ রাত সাড়ে বারোটার সময় গ্রেপ্তার করেছে।তার অপরাধ হলো আমি যুব লীগ নেতা মোঃ সাদ্দাম হোসেন শাকিল, কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক জননেতা শাহীন আহমেদ ভাইয়ের সমর্থক ও তাকে ভালবাসি বলে। খাদ্যমন্ত্রী জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে কোন সম্পর্ক না থাকায় দিশেহারা হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী দ্বারা বাড়ী-ঘরে হামলা করছে।আমি প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা খলিলুর রহমান খলিল সাহেব কে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাবার বয়স যখন ১২/১৩ তখন থেকে আওয়ামী লীগ করে। রাজনীতি করে। যখন বিএনপির নাসির উদ্দিন পিন্টু ছিলো বাবাকে তখন নানান ভাবে শারীরিক নির্যাতন করেছে। ওনার নামে প্রায় দশ বারোটা মামলা দিয়েছে। তখন আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ করে দিয়েছিল। পিন্টু নিজে বাবাকে মেরেছে। ওনি বিশ বছর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় এসেও মামলা খেলাম, হামলার শিকার হলাম, আমার অফিস, ক্লাব ভাংচুর করলো খাদ্যন্ত্রীর লোকজন, কাউন্সিলর হোসেন ও তার ক্যাডারারা।

সাদ্দাম হোসেন শাকিল আরো বলেন, এই গত রোজার ঈদে আমাদের ব্যবসায়ীক অফিস ভাঙচুর করেছে। এসব করার পর যখন পুলিশকে ফোন দেই, তখন পুলিশ এসে নানান নাটক করে। কোন মামালা, অভিযোগ কিছু নেয় না। আর আজকে এসে আমাকে না পেয়ে বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা শাহিন চেয়াম্যানের সমর্থন করি সেটা খাদ্যমন্ত্রীর পছন্দ হয় না। শাহিন চেয়ারম্যান একজন ভালো লোক। তার সাথে রাজনীতি করাতে এই অবস্থা। বিগত বিএনপির সময় আমরা হামলার শিকার হইনি, তবে মামলা খেয়েছি। কিন্তু দলক্ষমতায় থাকার পরও এখন মামলা, হামলা দুইটায় খেতে হচ্ছে। সকালে পরিবার থেকে যখন বাবার খোঁজ নেয়ার জন্য থানায় যোগাযোগ করা হয় তখন খবর আসে বাবার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে দিয়েছে পুলিশ। বাবা ১ নম্বর, আমি দুই নম্বর, বড় ভাই তিন নম্বর আসামি। কি মামলা দিয়েছে এখনো জানি না।

তিনি বলেন, কামরাঙ্গীর চর থানা আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি।

কিউএনবি/নিল/ ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ইং/২১ঃ০০