১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:২১

শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরীঘাটে আটকে থাকা ট্রাকে ১৫টি গরুর মৃত্যু

 

 

খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরিঘাটের শরীয়তপুর অংশের নরসিংহপুর আলুরবাজার ফেরিঘাটে যানজট, খাবার সংকট, তীব্র গরম ও ফেরি সংকটের কারণে গত তিন দিনে ১৫টি গরু মারা গেছে। অনেকদিন ট্রাকে থাকায় পশুগুলো অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে। আটকে থাকা বাস যাত্রী, ট্রাক চালক ও ট্রাকের হেলপাররা প্রচন্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এক সাথে প্রায় ২শতাধিক যানবাহনের চাপ থাকায় খাবার সংকট দেখা দিয়েছে ফেরিঘাট এলাকায়। সংকট কাটাতে ব্যবসায়ী ও গাড়ী চালকরা এ ঘাটে ফেরি বাড়ানোর দাবী জানিয়েছে।


বিআইডব্লিউটিসি সুত্র জানায়, গত দুই-তিনদিন যাবত কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌ রুটে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় ও ডুবোচরের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার যাত্রীবাহি বাস, পণ্যবাহী ও মালবাহী ট্রাক শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরি পার হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত শুরু করে। কোরবানী উপলক্ষে শত শত গরুর ট্রাক এখন অবস্থান করছে আলু বাজার ফেরিঘাটে। এ ফেরিঘাটে করবী, কুসুমকলি ও সর্বশেষ আজ শুক্রবার যুক্ত হয়েছে মাওয়া ফেরিঘাট থেকে আসা কেতকি নামক একটি ফেরি। মাত্র এই তিনটি ফেরি দিয়ে গাড়িগুলো পারাপারের কারণে প্রায় ২কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃস্টি হয়েছে। ফেরি সংকটের কারণে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ২ শতাধিক ছোট বড় যানবাহন।


শত শত যানবাহন আটকে পড়ায় যাত্রী ও চালকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ফেরীঘাটে। শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত আলু বাজার ফেরিঘাট প্রান্তে গরমে ঝিনাইদাহ ও সাতক্ষিরা থেকে নিয়ে আসা ১৫টি গরু মারা গেছে। গরু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন প্রচন্ড তাপদাহ ও খাবার সংকটে অসুস্থ হয়ে গরুগুলো মারা যাচ্ছে। গাড়ী চালক ও ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘাটে আরও ফেরি দেয়ার দাবী জানিয়েছেন।


গরু ব্যবসায়ী মোঃ রেজাউল করিম বলেন, ফেরি সংকট, তীব্র গরম আর খাবার সংকটের কারণে আমার ৪টি গরু মারা গেলো।
ব্যবসায়ী মোঃ সালাহউদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, আমরা কয়েক জনে মিলে পশুগুলো নিয়ে ফেনী যাচ্ছিলাম, আমাদের চোখের সামনেই ৭টি গরু মারা যায়। আমরা কিছুই করতে পারলাম না। আমরা গরীব মানুষ, এ ক্ষতি কি ভাবে পোষাবো?

শরীয়তপুর আলুর বাজার ফেরিঘাটের বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার জানান, আলুর বাজার-হরিণাঘাটে মাত্র দুটি ফেরি ছিল, আজ আরও একটি ফেরি যোগ হয়ে প্রতিদিন একশত থেকে একশ বিশটি গাড়ী পারাপার হতে পারবে। খুব শীঘ্রই চাপ কমে যাবে।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, ফেরিঘাটে সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়েন আছে। বৃহস্পতিবার একটি গরু মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। এরপরে আর গরু মারা যাওয়ার কোন সংবাদ বা অভিযোগ পাইনি।

কিউএনবি/বিপুল/১৭ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/ রাত ৮:০১