২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:৫৫

বেতন-বোনাস পরিশোধ বেশির ভাগ কারখানায়

 

ডেস্ক নিউজ : দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ঈদের আগেই পোশাক শ্রমিকদের জুলাই মাসের মজুরি ও ঈদ বোনাস প্রায় পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।তবে আগস্ট মাসের বেতন নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ আছে তাদের।যদিও শ্রমিক নেতারা বলছেন, কয়েকটি কারখানায় বকেয়া বেতন ও মজুরি নিয়ে মালিকরা টালবাহানা করছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জুলাই মাসের বেতন ও বোনাস পুরোপুরি পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিল্প মালিকরা।বকেয়া বেতনের পাশাপাশি ১৯ আগস্টের মধ্যে চলতি মাসের অগ্রিম বেতন পরিশোধের ঘোষণাও দিয়েছেন তাঁরা।যদিও বেশির ভাগ শিল্প-কারখানায় ঘোষিত সময়ে জুলাই মাসের বেতন-বোনাস পরিশোধ করলেও চলতি মাসের অগ্রিম বেতন নিয়ে সংকটের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইফি) তথ্য অনুসারে জুলাই মাসের বেতন ও বোনাস প্রায় ৯৮ শতাংশ কারখানায় দেওয়া হয়েছে।তবে আগস্ট মাসের অগ্রিম বেতন নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছুই জানাতে পারেননি প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিদর্শক মো. সামছুজ্জামান ভূইয়া।

বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জুলাই মাসের বেতন বোনাস নিয়ে বিকেএমইএ সদস্য কারখানাগুলোর কোনো সমস্যা হয়েছে বলে এমন কোনো খবর আমাদের কাছে নেই।এসব চলতি মাসের শুরুতেই দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের উদ্যেক্তারা জানান।’ এ ছাড়া আগস্ট মাসের অগ্রিম ১০-১৫ দিনের বেতন মালিক শ্রমিক এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সম্মতির মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে আগামী ১৮ ও ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে।

পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ জ্যৈষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘মজুরি ও বোনাস প্রদানে গতকাল পর্যন্ত তেমন কোনো সমস্যা হয়নি বলে আমার ধারণা। সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান আমাদের হাতে না থাকলেও আমাদের আশা, এরই মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি কারখানা তাদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে।অগ্রিম বেতনের জন্য আগামী ১৯ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’তিনি আশা করেন বেতন-বোনাস নিয়ে প্রতিবারের মতো এবারও পোশাক শ্রমিকরা বাড়ি যাবে।

বিজিএমইএ সহসভাপতি মো. মাহমুদ হাসান খান বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, জুলাই মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস নিয়ে তেমন কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও কারখানাভেদে আগস্ট মাসের বেতন নিয়ে কোনো কোনো কারখানায় মজুরি নিয়ে মালিকদের সমস্যা হতে পারে। কেননা একই মাসে বেতন, বোনাস এবং অগ্রিম বেতন দেওয়া পুরোটাই মালিকের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।

শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, মালিকদের প্রতিশ্রুতি অনুসারে গতকাল ১৬ আগস্টের মধ্যে জুলাই মাসের বেতন ও বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।এমনকি কোনো কোনো মালিক সরাসরি দিতে না পারার অক্ষমতার কথা স্বীকার করেছেন।

এদিকে তিন মাসের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত কারখানার ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার পর এক মাসের বকেয়া বেতন পেয়েছে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার মেসার্স বাঁধন করপোরেশন লিমিটেডের আন্দোলনরত শ্রমিকরা।পোশাক কারখানাটির কয়েক শ শ্রমিক অবস্থান কর্মসূচি পালন ও পাঁচ কর্মকর্তাকে কারখানার  ভেতর অবরুদ্ধ করলে বুধবার বিকেলে বিজিএমইএর সঙ্গে বৈঠকের পর মালিকপক্ষ গভীর রাতে গত জুন মাসের বকেয়া বেতন প্রদান করে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পরিদর্শক (ইনটেলিজেন্স) মাহমুদুর রহমান জানান, বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর মালিকপক্ষ আগামী ১৮ আগস্ট ঈদ বোনাস এবং জুলাই ও আগস্ট মাসের বকেয়া বেতন ৩০ আগস্ট প্রদান করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।তবে সব পাওনাই শ্রম আইন অনুযায়ী দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চলতি বছরের জুন মাসের বেতন বকেয়া পড়ায় জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় কারখানাটির শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করলে গত ১৯ জুলাই কলকারখানা অধিদপ্তর, বিজিএমইএ, কারখানাটির মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়।এতে ৩০ জুলাই বেতন পরিশোধের লিখিত ঘোষণাও দেওয়া হয়।

কিন্তু বেতন পরিশোধ না করে গত ৩১ জুলাই থেকে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে পালিয়ে যায় মালিকপক্ষ।এরই জেরে বুধবার বিকেলে কারখানার কয়েক শ শ্রমিক জামগড়া এলাকায় টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।এ সময় সড়কটিতে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে বিকেল ৫টায় সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।পরদিন বুধবার শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৭ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:১৩