ব্রেকিং নিউজ
১৭ই জুন, ২০১৯ ইং | ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:৩১

গোপালগঞ্জে টুং টাং শব্দে মুখর কামার পল্লী

 

এম শিমুল খান,গোপালগঞ্জ : আগামী ২২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা অর্থাৎ কুরবানির ঈদ।ঈদকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গোপালগঞ্জের কামাররা।দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা।

কুরবানির পশু কাটাকুটিতে চাই ধারালো দা, বটি, চাপাতি ও ছুরি।তাই কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে গরম লোহার পিটাপিটিতে টুং টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জের কামার শালাগুলো।আর সামনে আগুনের শিখায় তাপ দেয়া, হাতুড়ি পেটানোর টুং টাং শব্দে তৈরি হচ্ছে দা-বটি, চাপাতি ও ছুরি। পশু কুরবানিতে এ সব অতিব প্রয়োজনীয়।তাই যেন দম ফেলারও সময় নেই কামারদের।নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করছেন কামাররা।কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন তারা।সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকগুণ ব্যস্ততা বেড়ে যায় কামারদের।

কয়েকজন কামারের সাথে আলাপ করে জানা যায়, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০, দা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বটি ২৫০ থেকে ৫০০, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা, চাপাতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিন জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অনেক ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা।পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি কিনতেও লোকজন ভিড় করছেন তাদের দোকানে। আগে যে সব দোকানে দুজন করে শ্রমিক কাজ করতো,এখন সে সব দোকানে ৫-৬ জন করে শ্রমিক কাজ করছেন।কামার দোকানদারদের অভিযোগ কুরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়লার দাম ও শ্রমিকের দাম বেড়ে গেছে।অপরদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ ঈদ উপলক্ষে দা, চাপাতি ও ছুরির দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ শহরের কাচা বাজরের কামার সত্য রঞ্জন দাশ বলেন, সারা বছর কাজ কম থাকে।কুরবানির ঈদ এলে আমাদের কাজ বেড়ে যায় কয়েক গুণ।ছুরি শান দেওয়ার জন্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের গুণাগুণের উপর ভিত্তি করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে অপর কামার প্রভাস চন্দ্র দাশ বলেন, কুরবানির ঈদ উপলক্ষে আমাদের বেচা কেনা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।তবে ঈদের দুই দিন আগে থেকে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা বেচাকেনা হবে।তখন আমাদের খাওয়ার সময়ও থাকে না।

এ ব্যাপারে কামার আনন্দ বলেন, কুরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়লা ও শ্রমিকের মূল্য বেড়ে গিয়েছে।দুই মাস আগেও প্রতি বস্তা কয়লার দাম ছিলো ৪০০থেকে ৪৫০ টাকা।সেই কয়লা এখন আমাদের ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।তাই আমরা চাপাতি, ছুরি ও দায়ের দাম একটু বেশি নিচ্ছি। তা না হলে আমাদের লাভ হবে না।

দোকানি বাদল মিয়া বলেন, ঈদকে সামনে রেখে কাজের চাপ বেশি। কাজের চাপে কখন খাওয়ার সময় চলে যাচ্ছে আমরা টেরও পাই না। চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে আমাদের বিক্রি তত বাড়ছে।

এ ব্যাপারে ক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, আমি একটি চাপাতি ৫০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। এছাড়া আমাদের এলাকার ছুড়ি, দা, জবাই করা ছুরিসহ প্রায় ১৯টি জিনিস রিপেয়ারিং করার জন্য এসেছি। ঈদ উপলক্ষে কামাররা মজুরি অনেক বেশি নিচ্ছে।

অপর ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে কামাররা তাদের মজুরি, ছুরি, দা, চাপাতির দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি একটি চাপাতি ৭০০ টাকা এবং একটি ছুরি ২০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। যা দুই মাস আগেও ছিল ছুরির দাম ১৫০ টাকা ও চাপাতির দাম ৫০০ টাকা।

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:৩০

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial