২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:০৩

সরিষাবাড়ীতে মৎস্য অফিসের এনএটিপি-২ প্রকল্পে উপকরণ বিতরণে অনিয়ম

 

জাকারিয়া জাহাঙ্গীর,সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ী সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসে এনএটিপি-২ প্রকল্পের অধীনে মৎস্য চাষিদের মধ্যে প্রদর্শনী উপকরণ বিতরণে অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিজন উপকারভোগীকে মাথাপিছু ২০ হাজার টাকা সমমূল্যের উপকরণ দেওয়ার কথা থাকলেও নগদ পাঁচ হাজার করে টাকা ও কিছু মাছের খাদ্য প্রদান করে সিংহভাগ টাকা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।এ নিয়ে মৎস্যচাষিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) প্রকল্পের আওতায় মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় গত অর্থবছরের মে মাসে সরিষাবাড়ী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৪৮টি প্রদর্শনীতে (৪৮ জন মৎস্যচাষি) নামে মাথাপিছু ২০ হাজার টাকা সমমূল্যে মাছের খাদ্যসহ মৎস্য চাষের বিভিন্ন উপকরণ বরাদ্দ আসে।মঙ্গলবার দুপুরে মৎস্য অফিসারের কার্যালয়ে উপকরণ বিতরণ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ফিরোজ আল মামুন।উপকারভোগীদের মাঝে নগদ টাকা প্রদানের নিয়ম না থাকলেও প্রতিজনকে পাঁচ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। বাকি ১৫ হাজার টাকার উপকরণ প্রদানের নামে খাদ্য ক্রয়কালে মোটা অঙ্কের টাকা প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আত্মসাত করেছেন বলে জানা গেছে।

নাম গোপন রাখার শর্তে কয়েকজন মৎস্যচাষি অভিযোগ করেন, ‘মৎস্য অফিসার নগদ টাকা বিতরণের বিষয়টি তাঁদের গোপন রাখতে বলেছেন।’বিষয়টি স্বীকার করে প্রকল্পের ফিল্ড অফিসার নায়েব আলী জানান, ‘আমাদের এ প্রকল্পের নগদ টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়ে কিছু খাদ্য-উপকরণ কিনে দেওয়া হয়েছে।এছাড়া কিছু টাকা অফিসিয়াল খরচ হয়। মৎস্য অফিসার নিজেই সবকিছু দেখাশোনা ও উপকরণ ক্রয় করেছেন। আমাদের শুধু মাঠ দেখার দায়িত্ব।’

এ ব্যাপারে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার নাজমুল হক বলেন, ‘উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। কোন টাকা দেওয়া হয়নি। আপনাকে যিনি এ সব কথা বলেছেন- আপনি তার কাছ থেকেই শুনুন।’ এছাড়া ব্যস্ত আছি বলে তিনি মুঠোফোন কেটে দেন।ভারপ্রাপ্ত ইউএনও (এসিল্যান্ড) ফিরোজ আল মামুন বলেন, ‘আমি শুধু খাদ্যের বস্তা বিতরণ উদ্বোধন করে দিয়েছি। টাকা প্রদানের বিষয়টি জানি না।’

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৪ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/রাত ৮:৫৫