১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:৫৮

উলিপুরে ভিজিএফ‘র ১শ বস্তা চাল আটক

 

শিমুল দেব, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের উলিপুরে ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ‘র ১শ বস্তা চাল আটকের ঘটনায় চালের প্রকৃত মালিকানা নিয়ে ২ দিন ধরে নানান নাটকীয়তার পর মঙ্গলবার (১৪ আগষ্ট) থানায় মামলা করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চৌমহনী বাজারে।জানা গেছে, ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ভিজিএফ‘র চাল বিতরনের জন্য উলিপুর খাদ্য গুদাম থেকে বরাদ্দকৃত চাল সরবরাহ করা হয়।

রোববার (১২ আগষ্ট) বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত ১শ চুয়াল্লিশ দশমিক চারশত চল্লিশ মেঃ টন এর মধ্যে ৬৪ দশমিক চারশত নব্বই মেঃ টন চাল উত্তোলন করা হয়। ওই দিন সন্ধায় ট্রলিতে করে চাল নিয়ে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ যাওয়ার পথে চৌমহনি বাজারে ব্যবসায়ি আব্দুল মালেকের গুদামে ৩০ কেজি ওজনের ১শ বস্তা চাল রেখে বাকি চাল নিয়ে যাওয়া হলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাগণ এবং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এসব চালের মালিক কে জানতে চাইলে তাৎক্ষনিক ভাবে ওই বাজারের উপস্থিত লোকজন ও গুদাম মালিক জানান, চালগুলো বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে নামিয়ে এখানে রাখা হয়।

রাত গভীর হওয়ায় চালের বস্তা গুলো গুদামের মালিক আব্দুল মালেকের দায়িত্বে রেখে প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ চলে আসেন। সোমবার (১৩ আগষ্ট) বুড়াবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক লিখিত ভাবে প্রশাসনকে জানান তার উত্তোলনকৃত সমুদয় চাল ইউপি গুদামে রয়েছে। ওই দিনই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ওই ইউপি’র গুদাম পরিদর্শনে গিয়ে উত্তোলনকৃত চাল সঠিকভাবে মজুদ পান। চাল আটকের ঘটনায় ২ দিন ধরে খাদ্য অধিদপ্তরের সীলযুক্ত ১শ বস্তা চালের প্রকৃত মালিকানা নিয়ে সৃষ্টি হয় নানান নাটকীয়তা। কোন পক্ষই আটককৃত চালের দায় নিতে চাননি।

এ ঘটনায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে পুলিশ আটককৃত চাল গুলো থানায় নিয়ে আসেন। চালের প্রকৃত মালিকানা না পাওয়া গেলেও ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের গুদামে সরকারি চাল পাওয়ার অভিযোগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১৪ আগষ্ট) মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৫, তারিখ-১৪/০৮/২০১৮ ইং।

ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক জানান, আমার পূর্ব পরিচিত ট্রলির মালিক ফরিদ উদ্দিন ফোন করে রোববার সন্ধায় গাড়ির সমস্যার কথা বলে চাল ভর্তি বস্তা গুলো আমার গুদামে রেখে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলে আমি গুদামে রাখার অনুমতি দিয়েছি। এ সময় চালের বস্তাগুলো বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিএফ’এর জন্য বরাদ্দকৃত বলে সে আমাকে জানায়।বুড়াবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাঁসানোর জন্য আটককৃত চাল গুলো আমার ইউনিয়নের বলে প্রচার করছেন। আটককৃত ১শ বস্তা চালের প্রকৃত মালিক কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রলির মালিক ফরিদ উদ্দিনকে আটক করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে বুড়াবুড়ি ইউপির বরাদ্দকৃত চালের ২শ বস্তা ট্রলি চালক ফরিদ উদ্দিনের মাধ্যমে ওই ইউনিয়নে নিয়ে যাওয়ার পথে চৌমহনী বাজারে ১শ বস্তা চাল নামিয়ে দেওয়া হয়। চালগুলোর প্রকৃত মালিক কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাল গুলো বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও মামলার বাদী রবিউল ইসলাম বলেন, ভিজিএফ’এর ১শ বস্তা চাল আব্দুল মালেকের গুদামে পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।এখানে অনেকগুলো ঘটনা জড়িত তদন্তে প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, সরকারি চাল উদ্ধারের পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করবেন দূদক।উপজেলা নিবার্হী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আটককৃত চাল উদ্ধার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৪ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/বিকাল ৪:২৪