২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১০:৫৭

তিন কোটি টাকার সড়ক তিন মাসেই শেষ

 

জাকারিয়া জাহাঙ্গীর, জামালপুর : জামালপুর পৌর শহরের মাছিমপুর-বেলটিয়া বাইপাসের ৪ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা সড়কটি দুর্বলভাবে নির্মাণের কথা বললেও সংশ্লিষ্ট দফতর সেটা মানতে নারাজ।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেলটিয়া মোড় থেকে সড়ক দিয়ে এগোতেই খুঁপিবাড়ী এলাকা।ওই এলাকার ব্যাংকার রুবেল মিয়ার বাড়ির সামনে সড়কটি দেবে ও ফেটে গেছে।

তা থেকে একটু সামনেই দ্বীন ইসলামের পুকুরের পাড়ের অংশে প্রায় ৮০ মিটার সড়ক এখনো পিচ ঢালায় করা হয়নি।সেখান থেকে ১০০ মিটার পর একটি মুরগির ফার্মের সামনের পুকুরের পাশেও দেবে গেছে। জঙ্গলপাড়া মিয়া বাড়ির মোড়ে সাদেক আলীর বাড়ির সামনে সড়কটির কিছু অংশ ভেঙে গেছে।

মিয়া বাড়ি এলাকার আক্তারুজ্জামানের বাড়ির সামনে দেবে গিয়ে পানি জমে রয়েছে।নাছিরপুর জুনাব খান ও মাছিমপুর এলাকার বাচ্চু মিয়ার বাড়ির সামনের ভালভার্ট ভেঙে সড়কটি দেবে গেছে।মাছিমপুর জামে মসজিদের সামনে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্তের।জামালপুরের এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, সোয়া ৪ কিলোমিটার মাছিমপুর-বেলটিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য ৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

সড়কটির প্রশস্ত ১৮ ফুট।২০১৭ সালের ১৫ মে নির্মাণ কাজটি শুরু হয়। গত ২০ মে নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।মেসার্স দূর্গা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ রাস্তা নির্মাণের কাজটি পেয়েছেন।তবে উপ-ঠিকাদার হিসেবে কাজটি করছেন জামালপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন খান।স্থানীয়রা জানান, মাত্র ৩ মাস ধরে সড়কটি নির্মাণ হয়েছে।এ ৩ মাসের মধ্যে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙে ও দেবে গেছে। এছাড়াও অনেক স্থানে সড়কের মধ্যে ফাটল ধরেছে।

একটি সড়ক নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যে এমন অবস্থাই প্রমাণ করে, কাজের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি রয়েছে।এ প্রশ্নটি কে করবেন। প্রতিবাদ করার লোক এখন খুঁজে পাওয়া যায় না।আর কয়েক মাস গেলে এ সড়কটি হবে এলাকাবাসীর গলার কাটা।পুকুরের পাশ দিয়ে ভালোভাবে পাইলিং করা হয়নি।ফলে পুকুরের পাশ দিয়ে সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। সড়ক নির্মাণের সময় এসব কাজ ভালোভাবে করার জন্য কয়েকজন বলেও ছিল। কিন্তু এখন যে পরিবেশ, কিছু বলতে গেলে নিজের বিপদ চলে আসবে।

সড়কে অনিয়ম হয়েছে কি না সড়কটি যে কেউ দেখলেই বলতে পারবে। এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, সড়কটি দিয়ে ৮ থেকে ১০ টন ওজনের যানবাহন চলাচলের কথা। কিন্তু ওই সড়কটি দিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ টন ওজনের যানবাহন চলাচল করেছে।ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য উপ-ঠিকাদার জাকির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৩ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:০৬