২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:৫৭

শরীয়তপুরে মাদরাসা ছাত্রকে হাত-পা বেঁধে বলাৎকার করেছে জাতীয় পার্টির নেতা

 

খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরে হাফেজি মাদরাসার ছাত্র ফয়সাল (১০) পাশবিক নির্যাতনের (বলাৎকার) শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফয়সাল একমাস পূর্বে শরীয়তপুর পৌরসভার বাঘিয়া এলাকার মাহমুদিয়া হাফেজি মাদরাসার নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়। গত শনিবার (১১ আগষ্ট) রাতে মাদরাসা সংলগ্ন নিজ বাড়িতে নিয়ে জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব বদরুল আলম নান্নু মুন্সী (৫৫) নামে এক ব্যক্তি হাত-পা বেঁধে ফয়সালকে বলাৎকার করে। এ সময় ফয়সালের পায়ুপথ রক্তাক্ত হয়।

রোববার রাতে অসুস্থ ফয়সালকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ঘটনার পর থেকে নান্নু মুন্সী পলাতক রয়েছে।পালং থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসার হুজুর ও অভিযুক্তের ভাই চুন্নু মুন্সীকে থানায় নিয়ে আসে।

ফয়সালের পারিবারিক সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার গ্রামচিকন্দী গ্রামের ফরিদ মৃধার ছেলে ফয়সাল। ফরিদ মৃধা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নড়িয়া উপজেলার চান্দনী গ্রামের রফিজদ্দি মাদবরের বাড়ি থেকে ব্যবসা করে। ছেলেকে কোরআনে হাফেজ করতে শরীয়তপুর পৌরসভার বাঘিয়া এলাকায় মাহমুদিয়া হাফেজি মাদরাসায় ভর্তি করে।

মাদরাসার হুজুর হাফেজ ইয়াছিন তিনদিন যাবৎ বাঘিয়া গ্রামের মৃত মুন্সী মাহমুদ আলীর ছেলে লম্পট নান্নু মুন্সীর পরিবারের লোকজন বাড়িতে না থাকায় তাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য ১০ বছর বয়সী ছাত্র ফয়সালকে তার বাসায় পাঠায়।গত শনিবার রাতে নান্নু মুন্সী ফয়সালের হাত-পা বেঁধে জোরপূর্বক পায়ুপথ দিয়ে ধর্ষণ (বলাৎকার) করে। এতে ফয়সালের পায়ুপথ ফেটে গিয়ে রক্তাক্ত হয়।

বিষয়টি মাদরাসার হুজুর ও লম্পট নান্নু মুন্সী ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করে।রোববার বিকালে ফয়সালের বাবা-মা বিষয়টি জানতে পারে।পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে আহত ফয়সালকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।সোমবার সকালে এ বিষয়ে থানায় যাবেন বলে জানিয়েছে ফয়সালের বাবা ফরিদ মৃধা।

আহত ফয়সাল বলে, তিনদিন যাবৎ ইয়াছিন হুজুরে আমাকে নান্নু মুন্সীর বাসায় পাঠায়।প্রতিদিনই লম্পট নান্নু মুন্সী আমাকে ডিস্টার্ব করত।গত শনিবার রাতে নান্নু মুন্সী আমার হাত-পা বেঁধে পায়ুপথ দিয়ে ধর্ষণ করে। ফয়সাল কান্নাকাটি ও চিৎকার করেও রক্ষা পায়নি। এতে আমার পায়ুপথ রক্তাক্ত হয়ে যায়।আমি সকালে মাদরাসায় এসে ঘটনা হুজুরকে জানাই। তখন হুজুর বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করে।পরবর্তীতে নান্নু মুন্সীকে ডেকে ইয়াছিন হুজুর মীমাংসার চেষ্টা করে।

ফয়সালের বাবা ফরিদ মৃধা বলেন, আমার নাবালক ছেলের সাথে খুব খারাপ কাজ করেছে।ইয়াছিন হুজুর ও লম্পট নান্নু মুন্সী দুজনেই দায়ী। আমি আইনের কাছে বিচার চাই।একজন ছাত্র হুজুরের কাছে নিরাপদ না থাকলে আর কোথায় যাবে।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ ইয়াছিন বলেন, গত তিনদিন পূর্বে নান্নু মুন্সীর পরিবার ঢাকায় গেছে বলে সে জানায়।বাড়িতে একা থাকতে ভয়পায় জানিয়ে প্রথমে মাদরাসার সহকারী শিক্ষককে রাতে বাসায় থাকা প্রস্তাব করে।আবাসিক মাদরাসা হিসেবে ছাত্রদের দুইকক্ষ আমরা দুই জনে দেখাশোনা করি।

পরে তিনি দুই জন ছাত্র পাঠাতে বলে।তিনি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতার ছেলে হওয়ায় ফয়সাল সহ দুইজন ছাত্রকে বাসায় পাঠাই।পরে ফয়সালের কাছ থেকে ঘটনা জানার পর নান্নু মুন্সীকে জিজ্ঞেস করি।সে জানায় হুজুর বিষয়টি ভুল হয়েগেছে।আপনি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন।পরবর্তীতে মাদরাসার সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস ছালাম বেপারী ও ফয়সালের মা-বাবাকে জানাই।এর মধ্যে ফয়সাল আমাকে না বলে বাড়ি চলে যায়।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস ছামাদ বেপারী বলেন, আমি কয়েকদিন যাবৎ অসুস্থ।তবে বিষয়টি শুনেছি।ঘটনাটি নেক্কার জনক।জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমি শুনে নিজেই মর্মাহত।কোন কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। এটা মারাত্মক অন্যায়।

পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্তকে কব্জায় নেয়ার চেষ্টা চলছে।ভিকটিমের পক্ষে অভিযোগ পেলে মামলা নেয়া হবে।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৩ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/বিকাল ৩:৩৩