১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:৫০

শরীয়তপুরে হুজুরের সহায়তায় মাদরাসা ছাত্রকে হাত-পা বেঁধে বলাৎকার

খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরে হাফেজি মাদরাসার হুজুরের সহায়তায় ফয়সাল (১০) নামে এক ছাত্র বলাৎকার(ধর্ষণ) হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফয়সাল একমাস পূর্বে শরীয়তপুর পৌরসভার কোটাপাড়া/বাঘিয়া এলাকার মাহমুদিয়া হাফেজি মাদরাসার নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়। গত শনিবার (১১ আগষ্ট) রাতে মাদরাসা সংলগ্ন এক বাড়িতে নিয়ে নান্নু মুন্সী (৩৮) নামে এক ব্যক্তি হাত-পা বেঁধে ফয়সালকে বলাৎকার করে। এ সময় ফয়সালের পায়ুপথ রক্তাক্ত হয়। রোববার রাতে অসুস্থ ফয়সালকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফয়সালের পারিবারিক সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার গ্রামচিকন্দী গ্রামের ফরিদ মৃধার ছেলে ফয়সাল। ফরিদ মৃধা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নড়িয়া উপজেলার চান্দনী গ্রামের রফিজদ্দি মাদবরের বাড়ি থেকে ব্যবসা করে। ছেলেকে কোরআনে হাফেজ করতে শরীয়তপুর পৌরসভার বাঘিয়া/কোটাপাড়া এলাকায় মাহমুদিয়া হাফেজি মাদরাসায় ভর্তি করে।

মাদরাসার হুজুর হাফেজ ইয়াছিন তিনদিন যাবৎ লম্পট নান্নু মুন্সীকে সঙ্গ দেয়ার জন্য ১০ বছর বয়সী ছাত্র ফয়সালকে তার বাসায় পাঠায়। গত শনিবার রাতে নান্নু মুন্সী ফয়সালের হাত-পা বেঁধে জোরপূর্বক পায়ুপথ দিয়ে ধর্ষণ (বলাৎকার) করে। এতে ফয়সালের পায়ুপথ ফেটে গিয়ে রক্তাক্ত হয়। বিষয়টি মাদরাসার হুজুর ও লম্পট নান্নু মুন্সী ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করে। রোববার বিকালে ফয়সালের বাবা-মা বিষয়টি জানতে পারে। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে আহত ফয়সালকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সোমবার সকালে এ বিষয়ে থানায় যাবেন বলে জানিয়েছে ফয়সালের বাবা ফরিদ মৃধা।

আহত ফয়সাল হাসপাতালের বেড থেকে বলে, তিনদিন যাবৎ ইয়াছিন হুজুরে তাকে নান্নু মুন্সীর বাসায় পাঠায়। প্রতিদিনই লম্পট নান্নু মুন্সী ফয়সালকে ডিস্টার্ব করত। গত শনিবার রাতে নান্নু মুন্সী ফয়সালের হাত-পা বেঁধে পায়ুপথ দিয়ে ধর্ষণ করে। ফয়সাল কান্নাকাটি ও চিৎকার করেও রক্ষা পায়নি। এক পর্যায়ে ফয়সালের পায়ুপথ রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং ফয়সাল অজ্ঞায় হয়ে পড়ে।

রোববার সকালে জ্ঞান ফেরার পর বিষয়টি হুজুরকে জানায় ফয়সাল। পরবর্তীতে নান্নু মুন্সীকে ডেকে ইয়াছিন হুজুর মীমাংসার চেষ্টা করে। নান্নু কর্ণপাত না করায় এবং ফয়সালের অবস্থা খারাপ হতে থাকলে হুজুরে ফয়সপলের বাবা মাকে খবর দেয়। তারাই ফয়সালকে হাসপাতালে ভার্তি করে।

ফয়সালের বাবা ফরিদ মৃধা বলেন, আমার নাবালক ছেলের সাথে খুব খারাপ করেছে। ইয়াছিন হুজুর ও লম্পট নান্নু মুন্সী দুজনেই দায়ী। আমি আইনের কাছে বিচার চাই। একজন ছাত্র হুজুরের কাছে নিরাপদ না থাকলে আর কোথায় যাবে।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১৩ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/সকাল ৮:১২