১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৩৬

স্ত্রীকে হত্যার পর স্বাভাবিক মৃত্যুর নাটক, এবার হবে ফাঁসি

 

ডেস্কনিউজঃ স্ত্রীকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিলেন আনিছুর রহমান (৩৫)। এরপর এলাকার সবার কাছ থেকে টাকা তুললেন লাশ গ্রামে নেওয়ার জন্য। যেন এটা স্বাভাবিক মৃত্যুই। স্থানীয় এক নারীকে দিয়ে লাশের গোসলও করান।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ে যান আনিছুর রহমান। পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাঁকে।

আজ রোববার গাজীপুরের সেই আনিছুর রহমানের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এই রায় জানান।

একই সঙ্গে আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতের কাঁঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুর আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,পঞ্চগড় জেলা সদরের আমলাহার এলাকার মঞ্জুর হকের মেয়ে মৌসুমি আক্তারকে (২১) পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন দিনাজপুরের উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে আনিছুর রহমান। বিয়ের পর তাঁরা গাজীপুরে টঙ্গীর দক্ষিণ আউচপাড়া বালুরমাঠ বস্তি এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

২০১৫ সালের ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আনিছুর রহমান মৌসুমিকে হত্যা করেন। এরপর এটাকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

কিন্তু লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে এবং লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই তরিকুল ইসলাম রাসেল বাদী হয়ে টঙ্গী মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

তদন্ত শেষে আনিছুর রহমানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে টঙ্গী মডেল থানা পুলিশ। সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে আজ আদালতের বিচারক এই রায় জানান।

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন মো. হারিছ উদ্দিন আহম্মদ এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম।

 

কিউএনবি/বিপুল /১২ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/রাত ৯:১৫