১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:৩৯

সরকার জনগণকে ভয় দেখাতে চাচ্ছে: আনু মোহাম্মদ

 

ডেস্কনিউজঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেছেন শিক্ষার্থীরা যেভাবে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে, এটা আমাদের দেশের জন্য অভূতপূর্ব ঘটনা। কোনো দায়িত্বশীল সরকার হলে এ আন্দোলন থেকে তারা নতুন শক্তি পেতো। কিন্তু তা না করে উল্টো এ আন্দোলনকে দমন করতে সরকার হামলা চালিয়েছে। সরকার জনগণকে ভয় দেখাতে চাচ্ছে। কিন্তু আসলে সরকার নিজেই ভয়ের মধ্যে আছে।

শনিবার বিকেল শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে খ্যাতনামা আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন থেকে গ্রেফতারকৃত সকল শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে লেখক-শিল্পী-ছাত্র-শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের আয়োজনে এক সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন সরকার বলে, আন্দোলনকারীদের ওপর নাকি বিএনপি-জামাত হামলা করেছে। কিন্তু তাদেরকে আপনারা কেন গ্রেফতার করছেন না? আমরা তো আজ পর্যন্ত কোনো হামলাকারীকে গ্রেফতার করতে দেখলাম না। আন্দোলন-সংগ্রামের সকল দায় আপনার বিএনপি-জামাতের ওপর চাপান। আপনারাই তো বিএনপি-জামাতকে জনগণের কাছে জনপ্রিয় করে তুলছেন। শহিদুল ইসলাম ও আটককৃত সকল শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশকে মুক্ত করুন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়কে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি বলেছেন শহিদুল আলমের উষ্কানির কারণে যদি মানুষ মারা যায়, তাহলে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু আমি আপনার কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, যারা ব্যাংক লুটপাট করছে, যারা শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে এবং যারা সুন্দরবনকে ধ্বংস করছে, তারাও কি আইনের ঊর্ধ্বে? কিন্তু আমরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখিনি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ২৯ জুলাইকে আমি বলতে চাই, কিশোর বিদ্রোহ। সেদিন শিক্ষার্থীরা শুধু আন্দোলন করেনি, তা বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিয়েছে। সমস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা এখন পঁচে গেছে। এ রাষ্ট্রকে একমাত্র কিশোররাই রক্ষা করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রীকে আমি বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দেবেন না। আপনার মাফিয়া গোষ্ঠীকে দমন করুন। শহিদুল আলমসহ আটককৃত সবার মুক্তি চাই। এনএসএফের গুন্ডাবাহিনী দিয়ে আইয়ূব সরকার এদেশে টিকতে পারেনি, বাংলাদেশেও এভাবে কেউ টিকে থাকতে পারবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, শহিদুল আলম কোনো ভুল করলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তাকে হলিউডি ও বলিউডি কায়দায় গ্রেফতার করা হলো । শহিদুল আলম এবং আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তির ওপরই দেশের মুক্তি নির্ভর করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজীমউদ্দিন খান বলেন, আমরা এমন একটি সময় পার করছি যে সময়ে আইন আইনের গতিতে নেই। সবকিছু এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক। আমরা শহিদুল আলম ও আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি চাই।

সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট তাসলিমা আক্তার লিমার সঞ্চালনায় সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম,গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ,শহিদুল আলমের সহকর্মী সাইদিয়া গুলরুক, দ্রিক ও পাঠশালার সংগঠক এসএম রেজোয়ানুর রহমান,বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা,অ্যাক্টিভিস্ট আকরামুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

কিউএনবি/বিপুল/১১ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/রাত ১০:০৭