২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:৩৩

সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার সুদিন সামনে বদলে যাচ্ছে সোনাগাজী ও মীরসরাইবাসীর জীবন

 

আবদুল্লাহ রিয়েল : দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষিত হওয়ায় চট্টগ্রামের মীরসরাই ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণের চরাঞ্চলের দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। পাল্টে যাচ্ছে পরিবেশ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা। বঙ্গোপসাগর ও বড় ফেনী নদীর তীরে জেগে ওঠা চরে গড়ে উঠছে সর্ববৃহৎ এ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ শিল্প শহরে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সমুদ্রবন্দর, কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, পানি শোধনাগার, আবাসিক এলাকা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে গ্রিন জোনে উন্নীত করতে এবং সৌন্দর্যবর্ধনে (বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অ্যাসোসিয়েশনের (বেজা) মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ২০ লাখ গাছ রোপণ করা হবে। ৩০ হাজার একর জমির মধ্যে মীরসরাই উপজেলার ১ হাজার ৩০০ একর এবং সোনাগাজী উপজেলার ৭ হাজার একর জমি এরই মধ্যে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বাকি জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে বেজা।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রম চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। যাতে তদারকি করে চীনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা। শ্রমিকদের দিনরাত পরিশ্রম বলেই দিচ্ছে অতি দ্রুতই নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ করতে তারা প্রস্তুত। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ করে রাখা হয়েছে। যেখানে তাদের নিজস্ব ভবন থাকবে। থাকবে নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন টিম। 

দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচটি টিমের মাধ্যমে কাজ করছে হাজারো শ্রমিক। প্রতিটি টিমের তদারকি হিসেবে রয়েছে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তারা সকালে বের হয়ে যান পরিদর্শনে। সঙ্গে রাখা হয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি; যা দিয়ে কাজের সঠিক পরিমাপ করা হয়। অবহেলা বা কারচুপি করার কোনো সুযোগ নেই। দুপুরে লাঞ্চ করার জন্য কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট বাসভবনে এসে লাঞ্চ শেষে ফের বের হয়ে সন্ধ্যা নাগাদ বাসায় ফিরে সব টিম লিডার বসে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। আর এ আলোচনা করার জন্য বিশাল মিলনায়তন তৈরি করা হয়েছে বাসভবনের পাশে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল আমিন কনস্ট্রাকশন ২৯ কোটি ৮০ লাখ ৬২ হাজার টাকার কাজ বাস্তবায়নের জন্য ২০১৭ সালের জুনে হাতে নেয়, যা ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার কথা।জানতে চাইলে স্থানীয়রা বলেন, আমরা কল্পনাও করিনি এ চরাঞ্চলে এত বিশাল কাজ হবে। যেখানে মানুষের আনাগোনা ছিল শুধু চাষাবাদ আর মাছ ধরার জন্য। সেখানে এখন অনেক বড় বড় দালান শোভা পাবে। যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক উন্নত হবে। যেখানে আমরা ছিলাম অবহেলিত, আজ এ অঞ্চলকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করায় আমরাও দেশের সেরা একটি অঞ্চলে অবস্থান করছি। আমাদের এ অঞ্চলের মানুষ খুব কম শিক্ষিত। কিন্তু এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম শেষে দেখা মিলবে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাতে আমাদের অঞ্চলের শিশুরা সঠিক শিক্ষা পাবে।

কিউএনবি/রেশমা/১১ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/সকাল ১০ :৫২