২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:১৫

মুন্সীগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধে ভাঙন

 

শেখ মোহাম্মদ রতন, ষ্টাফ রিপোর্টার : মুন্সীগঞ্জ শহরতলির ধলেশ্বরী নদী ঘেঁষা হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ কেটে নালা তৈরি করায় আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ব্লক ধসে গিয়ে মুন্সীগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধে আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার লোকজন অনুমতি ছাড়াই বাঁধ কেটে ফেলায় ব্লক সেটিং বিনষ্ট হয়ে ধসের ঘটনা ঘটেছে।এই ভাঙনের জন্য এলাকাবাসীকেই দায়ী করেছেন সংশ্নিষ্টরা।

অন্যদিকে হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকা ছাড়াও শহররক্ষা বাঁধের একাধিক স্থানে ফাটল সৃষ্টি, বাঁধের ব্লক সেটিং বিনষ্ট এবং গত বছর থেকে মালিরপাথর এলাকায় কয়েক দফা ভাঙনে ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে মুন্সীগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ।

এদিকে, ধলেশ্বরী নদীর কবল থেকে মুন্সীগঞ্জ শহরকে রক্ষার লক্ষ্যে নির্মিত শহররক্ষা বাঁধটি গত ১০ বছরেও সংস্কার না করায় বর্তমানে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর ধরে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, স্লাব ও ব্লক সেটিং খুলে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়া এবং বাঁধের লিকেজ দিয়ে পানি ঢুকে বাঁধটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

ফলে বর্ষা মৌসুমে শহররক্ষা বাঁধটিতে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ধলেশ্বরী নদী তীরবর্তী হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, মালিরপাথর, মুক্তারপুরের বাঘবাড়ীসহ শহরের ধলেশ্বরী তীরবর্তী কয়েক হাজার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে মালিরপাথর এলাকায় শহররক্ষা বাঁধে আকস্মিক ভাঙনে ব্লকসহ বাঁধের বড় একটি অংশ ধলেশ্বরী নদীর গ্রাসে বিলীন হয়ে গেলে কোনো রকমে মেরামত করা হয়। পাশাপাশি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও গত দুই বছরেও বরাদ্দ পায়নি।

তাই সংস্কারও করতে পারেনি মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাই শহরের মালিরপাথর, মুক্তারপুরের বাঘবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকাসহ একাধিক স্থানে বাঁধে ফাটলসহ সেটিং বিনষ্ট হয়ে বাঁধের ব্লক গুলো এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে। কোথাও আবার ব্লক একটিও নেই।

এর মধ্যে এ বছরের জুলাই-আগষ্টে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটের অদূরে হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার লোকজন বাঁধ কেটে নালা তৈরি করায় আকস্মিক ভাঙন দেখা দেয়। এ ছাড়া ৭-৮ বছর ধরে বাঁধের ওপর নয়াগাঁও চানতারা মসজিদ, এলাকা, বাঘবাড়ী, মুক্তারপুর সেতুর পিলার ঘেঁষে ও মালিরপাথর এলাকাসহ আরও কয়েকটি একাধিক স্থানে বালুদস্যুরা আনলোড ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করে জমি ভরাট ও বালুর স্তুপ তৈরি করে বালু ব্যবসা করায় বাঁধটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে একাধিক পয়েন্টে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সূত্র জানায়, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে পৌরসভার মাঝারি শহর সমন্বিত বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্পের আওতায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় দফায় শহররক্ষা বাঁধের নির্মাণ শুরু হয়।

মুক্তারপুরে সেতুর প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে লঞ্চঘাট হয়ে আবার মুক্তারপুরে সেতুর প্রান্ত পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার বাঁধকে ছয়টি গ্রুপে ভাগ করা হয়। ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকায় বিনোদপুর থেকে হাটলক্ষ্মীগঞ্জ পর্যন্ত তিন কিলোমিটারে প্রথম গ্রুপের কাজ শেষ হয়।

এরপর বাঁধ নির্মাণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে অর্থদানকারী প্রতিষ্ঠান অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর গত ১০ বছরে বাঁধ নির্মাণ কাজ করা হয়নি।এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার মঈনুর রহমান জানান, শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় বাঁধে ভাঙনের জন্য এলাকাবাসী দায়ী।

তারা অনুমতি না নিয়েই বাঁধ কেটেছে। শহররক্ষা বাঁধ মেরামত ও সংস্কারের জন্য ২০১৬ সালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দের আবেদন করা হয়।এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাগাদা দিয়েও দুই বছর গত হলেও এখনও পাওয়া যায়নি বরাদ্দের কোন নমুনা।

কিউএনবি/রেশমা/৯ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/সকাল ৮:৪১