২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:৫১

ভান্ডারিয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা দুর্ভোগে অতিষ্ট স্থায়ী সমাধানে ৪ মাস সময় লাগবে

 

মোঃ মামুন হোসেন,পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া পৌর শহরসহ ৭ ইউনিয়নে বিদ্যুত গ্রাহরা গত তিন মাস ধরে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।পল্লী বিদ্যুত এর বিতরণ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুত অসহনীয় বিভ্রাটের ফলে গ্রাহকরা অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। সেই সাখে বিদ্যুতের আসা যাওয়ায় ভোল্টেজ ওঠা নামার ফলে গ্রাহকের টিভি,ফ্রিজসহ নানা ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বিনস্ট হচ্ছে।

ফলে উপজেলার সাড়ে ১৮ হাজার গ্রাহকরা পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালী বিদ্যুত বিতরণের বিভ্রাটে ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছেন। তবে পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের দাবি বর্তমান বিদ্যুত বিভ্রাটের স্থায়ী সমাধানে আরও চার মাস সময় লাগবে।

জানাগেছে, ভান্ডারিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের সাড়ে আঠার হাজার গ্রাহকের বিদ্যুত বিতরণ হচ্ছে একটি ফিডারে। সেই সাথে ওই একই ফিডারে পাশর্^বর্তী ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার চেঁচরি রামপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার পল্লী বিদ্যুত গ্রাহকের বিদ্যুত বিতরণ নির্ভর শীল। ঝড় বৃষ্টি হলে সামান্য একটু ত্রুটি অথবা সংস্কার কাজ করতে গেলে সকল এলাকার বিদ্যুৎ বন্ধ এক সাথে বন্ধ হয়ে পড়ে। নতুন ফিডারের স্থাপন ছাড়া এর সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব নয়। তবে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, সামন্য মেঘ বৃষ্টিতে কোন কারন না জানিয়ে দিনের বেশীর ভাগ সময় বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে। আবার রাতে বেলা বিদ্যুতে চলে আসা আর যাওয়া। এক ঘন্টাও বিদ্যুত স্থায়ী হয়না। এসবের জন্য ভূক্তভোগি গ্রাহকরা পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনাকে দায়ি করছেন।

ভূক্তভোগি গ্রাহকদের অভিযোগ, এ এলাকায় প্রতিদিন ৩০-৪০ বার বিদ্যুত বন্ধ করা হয়। দিনের বেশীর ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। মাঝে মাঝে টানা দুই থেকে ৩ দিন পর্যন্ত পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। সেই সাথে বিদ্যুতের আসা যাওয়ার মাঝে ভোল্টেজ ওঠা নামায় ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। দিনভর বিদ্যুত বিভ্রাটের ফলে স্থানীয় অফিস, আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ক্ষুদ্র মিল কারখানায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।ভান্ডারিয়া পৌর শহরের গ্রাহক আব্দুল লতিফ জানান, সামান্য ত্রুটির অজুহাতে শহরের সরদার পাড়া এলাকায় টানা ১০ দিন বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছিল। কোন সমস্যা হলে সংশ্লিষ্টদের গাফেলতিসহ সংস্কার কাজে অনেক সময় ব্যয় করা হয়।

পল্লী বিদ্যুতের বিতরণ ব্যবস্থাপনাপনায় সাধারণ গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তিনি আরও বলে পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় এত বিভ্রাটের পরেও মাস গেলে বিদ্যুত বিল কমেনা। বাড়তেই থাকে। একদিকে বিদ্যুতের বিভ্রাটের যাতনা আর অন্যদিকে প্রতিমাসে ভূতুরে বিদ্যুত বিল নিয়ে গ্রাহকরা অতিষ্ট ।

উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের গ্রাহক মো. বেলায়েত হোসেন, ব্যবসায়ি আবুল হোসেন, জয়নাল আবেদিন, পূর্ব ধাওয়া গ্রামের মাহফুজুর রহমান, আমিনুর রহমান, পশারী বুনিয়া গ্রামের কাওয়ছারুল ইসলাম,আবুয়াল আহসান, জগদিস চন্দ্র বারীক, ইকড়ি ইউনিয়নের পুতুল আক্তার, আবদুল আলীম, মো. মোস্তফা, আতরখালী গ্রামের মাওলানা আব্দুল মজিদ, হারুন অর রশিদ, সিংহখালী গ্রামের মো. হাসান জোমাদ্দার, তেলিখালী ইউনিয়নের আ. লতিফ হাওলাদার, ওয়াজেদ আলী খানসহ শত শত গ্রাহক বলেন, বিদ্যুতের এত খারাপ সেবা দেশের কোথাও আছে কিনা আমাদের জানা নেই । পল্লী বিদ্যুতের খামখেয়ালীপনায় আমরা অতিষ্ট। এর চেয়ে বিদ্যুত না থাকা ভালো। আমরা আর পল্লী বিদ্যুতের আওতায় থাকতে চাই না। এরকম গ্রাহক সেবা দিরে প্রধান মন্ত্রীর ঘরে ঘরে বিদ্যুতের দেয়ার প্রতিশ্রুতি বেহেস্তে যাবে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভান্ডারিয়া উপজেলায় কর্মরত সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) লিটন চন্দ্র দে বিদ্যুত গ্রাহকদের দুর্ভোগ শিকার করে জানান, ভান্ডারিয়া উপজেলার সাড়ে আঠারো হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ একটি মাত্র ফিডারের আওতায়। তাই যে কোন এলাকা ঝড় বৃষ্টি হলে সামান্য একটু ত্রুটি অথবা সংস্কার কাজ করতে গেলে সকল এলাকার বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে নতুন ফিডারের সৃষ্টি করতে হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন সাব ষ্টেশন নির্মান করতে হবে। এ এলাকায় বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। তিনি আরও জানান, একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান করা হয়েছে। আগামী চার মাসের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কিউএনবি/রেশমা/৯ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/সকাল ৮:১০