২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:৫০

শহিদুল আলমকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে

 

ডেস্কনিউজঃ আদালতের নির্দেশে আলোকচিত্র শিল্পী শহিদুল আলমকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সকালে তাঁকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয় থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শহিদুলের সহকর্মীরা হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

গত সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমকে সাত দিনের জন্য রিমান্ডে পাঠান ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মোহাম্মাদ আসাদুজ্জামান নূর। এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন তাঁর স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ।

এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার সাত দিনের রিমান্ড আদেশ স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার নির্দেশ দেন আদালত। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে শহিদুল আলমের শারীরিক অবস্থার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ইকবাল কবীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

হাইকোর্টে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার সারা হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী শাহদীন মালিক, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, তানিম হোসেইন শাওন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

ডিবি পুলিশ রিমান্ড আবেদনে বিচারিক আদালতকে জানায়, আসামি শহিদুল আলম তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কল্পনাপ্রসূত অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণিকে শ্রুতিনির্ভর (যাচাই-বাছাই ছাড়া কেবল শোনা কথা) মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে উসকানি দিয়েছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকররূপে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে আরো বলা হয়, আসামি শহিদুল আলম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ জনমনে ভীতি ছড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নের জন্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার করেছেন।

তবে শহিদুল আলমের পক্ষে আইনজীবী সারা হোসেন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। এ দুই আইনজীবী আদালতকে বলেন, শহিদুল আলমকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁরা আদালতকে বলেন, শহিদুল আলমকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।

গত রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে শহিদুল আলমকে ধানমণ্ডির ৯/এ সড়কের বাসা থেকে আটক করেন ডিবি সদস্যরা। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

কিউএনবি/বিপুল/৮ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:৩২