১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:২১

দাদি-নাতনির গলা কাটা লাশ

 

ডেস্ক সিউজ : রাজবাড়ী সদর উপজেলার পশ্চিম মূলঘর গ্রামের এক বাড়ি থেকে দাদি ও নাতনির গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতে কোনো একসময় তাদের হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত তাদের ঘরের দরজা না খোলায় প্রতিবেশী শিশুরা ঘরে ঢুকে দুজনের লাশ দেখতে পায়। পরে দুপুরে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত দাদির নাম সাহিদা বেগম (৪৫) ও নাতনির নাম লামিয়া খাতুন (৫)। সাহিদার স্বামী শাজাহান মিয়া ঢাকায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে সহিদুল মিয়াও সপরিবারে ঢাকায় থাকেন। সহিদুলের ছেলে লামিয়া দাদির সঙ্গে বাড়িতে থাকত। বাড়িতে আর কেউ ছিল না।পাশের বাড়ির বাসিন্দা ও সাহিদার ভাগ্নে শফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর মামা শাজাহান মিয়া পেশায় কাঠমিস্ত্রি। শাজাহান বেশির ভাগ সময়ই রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা কাজ করে বেড়ান।

গ্রামের বাড়ির টিনেশেড ঘরে থাকেন শাজাহানের স্ত্রী সাহিদা বেগম। তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে ছিল।কয়েক বছর আগে মেয়ে দুটির বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে সহিদুল ইসলাম মিয়া। তিনি দুই বছর বয়সী ছেলে ও স্ত্রী সুমি বেগমকে নিয়ে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করেন এবং একটি স্কুলভ্যান চালান। গ্রামের বাড়িতে মায়ের কাছে মেয়ে লামিয়াকে রেখে যান। ফলে গ্রামের বাড়িতে সাহিদা বেগম ও নাতনি লামিয়া ছাড়া আর কেউ থাকে না। সর্বশেষ তিন দিন আগে সাহিদার স্বামী শাজাহান মিয়া কাজের সন্ধানে ঢাকায় যান। যে কারণে প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবার রাতে দাদি-নাতনি নিজ ঘরে ঘুমায়।

শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অন্যান্য বাড়ির শিশুরা শাজাহানের ঘরের বারান্দায় পেতে রাখা চৌকির ওপর খেলা করছিল। ওই সময় পর্যন্ত তাদের সঙ্গী লামিয়া ঘর থেকে বের না হওয়ায় ডাকাডাকির পাশাপাশি তারা ঘরের দরজা দিয়ে উঁকি দেয়। তারা দেখতে পায়, ঘরের দরজা খোলা। প্রতিবেশী শিশুরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে দেখে চৌকির ওপর লামিয়া ও তার দাদি শুয়ে আছে। দুজনেরই গলায় রক্ত লেগে আছে। শিশুরা বিষয়টি বড়দের জানায়। তারা ওই ঘরে গিয়ে দাদি-নাতনির লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়।পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, পরিচিত লোকজনের দ্বারা এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। কারণ খুনি বা খুনিরা পরিচিত হওয়ায় কোনো কারণে রাতে দরজা খুলে দেন সাহিদা বেগম।

খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার (এসপি) আসমা সিদ্দিকা মিলি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল এসপি) মোহাম্মদ রাকিব খান, সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রেজাউল করিমসহ, সদর থানার ওসি তারিক কামালসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসপি আসমা সিদ্দিকা মিলি জানান, পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। যে ঘরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সে ঘরে এমন কোনো মালপত্র

ছিল না, যার জন্য তাদের হত্যা করার প্রয়োজন পড়তে পারে। অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, গৃহকর্ত্রীর অনুমতিতে এক বা একাধিক ব্যক্তি ওই ঘরে প্রবেশ করে। পরে ওই ব্যক্তিরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে চলে গেছে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আশা করছে, অল্প সময়ের মধ্যেই এই হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।

 

 

 কিউএনবি/আয়শা/৪ঠা আগস্ট, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:৩১