১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:২৬

খোকসায় ভুল অস্ত্রোপচারে দীর্ঘ হচ্ছে প্রসূতি মৃত্যুর তালিকা

কু্ষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার খোকসার ক্লিনিকগুলোতে ভুল অপারেশনে রোগীর মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঝুলিয়ে দেওয়া তালা নিজেরাই খুলে ফেলা শেফা ক্লিনিকে দ্বিতীয় দফায় তালা দিয়েছে স্বাস্থ্য প্রশাসন। দফায় দফায় অভিযান, জরিমানা ও তালা বন্ধের পরেও ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমছে না।

উপজেলা সদরের খোকসা আধুনিক প্রাইভেট হাসপাতাল, শেফা ক্লিনিক, বিশ্বাস হাসপাতাল, খোকসা হেলথ কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আইডিয়াল হাসপাতালসহ প্রায় ডজনখানেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে দুই দফায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। একটি প্রতিষ্ঠানও বৈধ লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। এক পর্যায়ে প্রথম দিনে শেফা ক্লিনিক ও জেসি ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ৩টি প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেন আদালত। এদের মধ্যে মজিদ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জরিমানার ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করেছেন। দ্বিতীয় দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে ৫ হাজার টাকা হারে জরিমানা করেছেন। ইতিমধ্যে শেফা ক্লিনিকের মালিক পক্ষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঝুলিয়ে দেওয়া তালা ভেঙে ব্যবসা চালাচ্ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার একটি দল শেফা ক্লিনিকে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকটিতে আবার তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, গত এক মাসে ভুল অপারেশনে খোকসা আধুনিক প্রাইভেট হাসপাতাল, শেফা ক্লিনিকে প্রসূতি, নবজাতক, বৃদ্ধাসহ কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের চাপের মুখে নিহতদের পরিবার মামলা করতে সাহস পায়নি। এ সময়ে শুধু খোকসা আধুনিক প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল অপারেশনে মারা যান খাদিজা (২৫), কলিমহর গ্রামের সাবিনা (২৩), বরইচারা গ্রামের কুতুব আলীর নবজাতক পুত্র। উপজেলার পাথালদৌড় গ্রামের হতদরিদ্র রহিমন নেছা (৬০) একই ক্লিনিক থেকে জরায়ু অপারেশন করানোর পর পঙ্গু হতে বসেছেন। শেফা ক্লিনিকে জরায়ু অপারেশনের পর মারা যান ৫৫ বছর বয়সী চিন্তা রানী। গত ৫ বছরের এসব ক্লিনেকে সিজার ও অন্যান্য অপারেশন করাতে গিয়ে কমপক্ষে ১০ প্রসূতি ও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শেফা ক্লিনিকের মালিক ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারী আরেনা খাতুন ভরসা দাবি করেন, তার ক্লিনিকে ৫৫ বছর বয়সী একজন আদিবাসী মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তবে খোকসা আধুনিক হাসপাতালে এক মাসে ৩ জন মারা গেছেন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা বেগম মোবাইল ফোনে স্বীকার করেন, অনিয়ম ও রোগী মৃত্যুর তদন্তে গিয়ে শেফা ক্লিনিকে দ্বিতীয় দফায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।