১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:৩০

‘আশ্বাস আর বিশ্বাস করে না শিক্ষার্থীরা’

 

ডেস্কনিউজঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ‘কোটা আন্দোলন নিয়ে সরকারের প্রতারণার কারণে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসকে শিক্ষার্থীরা এখন আর বিশ্বাস করে না।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর সড়কে দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এগুলো মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ। এই অবৈধ সরকারকে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এটাই প্রমাণ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় এই সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার সব কিছু দলীয়করণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে নিজেদের পছন্দ মতো ভিসিকে বসিয়েছে। এই সরকার গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকারে বিশ্বাস করে না।গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কথা মুখে বলে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে। দুর্নীতি আর দুঃশাসনের রোল মডেল হিসেবে দেশকে দাঁড় করেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনকে এখন র‌্যাব, পুলিশ আর বিচার বিভাগকে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আরো একটু অপেক্ষা করুন গণবিস্ফোরণ ঘটবে। মাঠে নামবে দেশের মানুষ। টেলিফোনে কথা নয়, সংলাপ করতে এই ফ্যাসিবাদী সরকার বাধ্য হবে। বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জনগণও আগামীতে মাঠে নামবে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন একটি অংশ মাত্র। ছাত্রদের এক অংশের বিস্ফোরণ সরকার কনটেন্ট করতে পারছে না। দেশের মানুষের ক্ষােভ কিভাবে কনটেন্ট করবেন? দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে কিছু করার জন্য। তাদের মনে ক্ষোভ দেশে গণতন্ত্র নেই, হাজার মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই (রোববার) রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হন আরো ১০/১৫ জন শিক্ষার্থী।

নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।

এ ঘটনায় নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেছেন। মামলা নম্বর- ৩৩।

এ ঘটনার পর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে।

আন্দোলনরত শিক্ষাথীরা বলছেন, দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ী বেপরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি ও নৌপরিবহন মন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তা ছাড়বেন না।

দাবিগুলো হলো
দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ী বেপরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রীকে পদত্যাগ ও নিঃশ্বর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্প্রিড ব্রেকার দিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভর সরকারকে নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে- থামিয়ে তাদেরকে নিতে হবে। শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না এবং বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না।

এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবরোধের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

 

কিউএনবি/বিপুল/৩রা আগস্ট, ২০১৮ ইং/রাত ৯:১৪