২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৩৬

বগুড়ায় বিদ্যুতের সংযোগ নিন,লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিন !

 

এম নজরুল ইসলাম,বগুড়া : গ্রাম বিদ্যুতায়নের নতুন সংযোগ নিতে হলে অফিস ও ঠিকাদার খরচ দিতে হবে। নইলে বিদ্যুৎ সংযোগ পাবেন না। এই কথা বলেই ইউপি সদস্যের সরাসরি নেতৃতে ২৫০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও এলাকা পরিচালক বিষয়টি জেনেও চুপচাপ রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের তুলাশন গ্রামে বিদ্যুতায়নের নতুন সংযোগের নামে গ্রাহকদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা নিয়েছে দাবি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন।বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করে থানার এসআই জিন্নুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তুলাশন গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউনুস আলী, দালাল খ্যাত ওয়াশিম আলী, বাচ্চু মিয়া, আফছার আলীসহ কয়েকজন প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে গ্রাম বিদ্যুতায়নের নতুন সংযোগ দেয়ার কথা বলে অফিস ও ঠিকাদার খরচের জন্য ২৫০ জন গ্রাহকের নিকট থেকে বিভিন্ন সময়ে ভয় দেখিয়ে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা চাাঁদা উত্তোলন করে।

নতুন সংযোগ নিতে হলে টাকা লাগবে, না দিলে সংযোগ হবে না বলে টাকা নিয়েছে। সেই টাকা ভাগবাটোয়ারা করে আত্মসাত করেছে। প্রতিবাদ ও অভিযোগ করতে চাইলে আলমগীর হোসেনের ওপর ক্ষুদ্ধ হয় প্রভাবশালীরা।এমনকি হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করে। গত ১৮ জুলাই সকাল ১০টায় স্থানীয় বাজারে আলমগীরের পথরোধ করে হুমকি-ধমকি দেয়া সহ মারপিট করার জন্য উত্তেজিত হয়ে ওঠে দালালরা।এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আলমগীর হোসেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ভাঙিয়ে ব্যাপক লুটপাট করছে কতিপয় প্রভাবশালীরা। বিষয়গুলো নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

এপ্রসঙ্গে সংসদ সদস্য একেএম রেজাউল করিম তানসেন মুঠোফোনে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বিনামূল্যে প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিচ্ছেন।টাকা নেয়ার প্রশ্নই আসে না।কেউ যদি প্রতারণা করে কারো নাম ভাঙিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা নিয়ে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।আমি মাইকিং করার ব্যবস্থা করেছি। মাইকিং করে বলে দেয়া হয়েছে, কাউকে টাকা দিবেন না।জনগণকে সচেতন হতে হবে।

থানার এসআই জিন্নুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করছি।তবে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও এলাকা পরিচালক লিখিত দিলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।জানতে চাইলে বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নন্দীগ্রাম এরিয়ার এজিএম রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, গ্রাম বিদ্যুতায়নের নতুন সংযোগের বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশল অফিস দেখেন।যদি অনিয়ম বা চাঁদাবাজি হয়ে থাকে, সেটা ঠিকাদারের কারণে হতে পারে। তবে আমরা মিটার লাগানোর প্রস্তুতি নিয়েছি।

থানার এসআই জিন্নুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করছি। পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও এলাকা পরিচালক লিখিত দিলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।তবে পল্লী বিদ্যুতের এলাকা পরিচালক মাহফুজার রহমান মুঠোফোনে বলেন, টাকা ছাড়া কাজ হয় না।জনগণ দিলে আমি কি করব, অনেক নিষেধ করেছি।অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ইউনুস আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২রা আগস্ট, ২০১৮ ইং/রাত ৮:১৫