২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:১৬

ছিটমহল বিনিময়ের ৩ বছর উন্নয়নের মুল ধারায় সম্পৃক্ত হওয়ায় বদলে গেছে দেবীগঞ্জের ছিটমহলের প্রেক্ষাপট

 

শেখ ফরিদ,দেবীগঞ্জ(পঞ্চগড়) সংবাদদাতা : ছিটমহল বিনিময়ের মাত্র তিন বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ বদলে গেছে দেবীগঞ্জের ছিটমহলের দৃশপট। বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় নাগরিকের জীবন যাত্রা গেছে পাল্টে।

এ বছরের শেষের দিকে সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড শেষ হলে বিলুপ্ত ছিটবাসীর ৬৮ বছরের বঞ্চনার হবে অবসান।সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রমে বদলে গেছে ছিটমহলের মানুষের জীবনচিত্র।নানান সুযোগ সুবিধা পেয়ে দারুন খুশি বাসিন্দারা।রাস্তা-ঘাট ,বিদ্যুত সহ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সকল সুবিধা এখন তাদের হাতের নাগালে।

তাদের ভাষায় হামরা এলা খুব সুখত আছি।এর চেয়ে হামার আর বেশি চাহিবার নাই।জানা গেছে, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম , লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় ভারতের ১১১টি ছিটমহল ছিল।আর ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ছিটমহল ছিল ৫১টি।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওইকান্তিক প্রচেষ্ঠায় ১৯৭৪ সালের স্থল সীমান্ত চুক্তি আলোকে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিটমহল উভয় দেশের সাথে একীভ’ত হয়।

ছিটমহল এলাকা বাংলাদেশ ভুখন্ডের সাথে একীভ’ত হওয়ার পর এ সকল এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিকদের অধিক সুবিধা দিতে সরকার ব্যাপক উন্নয়নমুলক কার্যক্রম শুরু করেছে।দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ- সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান জানান, দেবীগঞ্জের অভ্যন্তরে বিলুপ্ত ছিটমহল এলাকায় সরকারের ৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ শেষ পর্যায়ে।এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরন করা হয়েছে।২টি ব্রীজ,৪টি প্রাইমারী স্কুল, ২টি হাট শেড, ২টি মসজিদ,১টি কবরস্থানের বাউন্ডারী ওয়াল, ১টি মন্দির, খাল খনন ,১টি কমিউনিটি ক্লিনিক।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন জানান, সরকার ছিন্নমুল জনগোষ্ঠির বাসস্থানের জন্য দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত কোটভাজনী ছিটমহলের বালাসুতি এলাকায় সিডিআরপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৫ লাক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩০টি পরিবারের জন্য স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ একটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করেছে।

সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নে স্কুল , কলেজ মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।শিশুরা এখন গর্বিত বাংলাদেশী হিসেবে নিজ পরিচয়ে নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে। অবহেলিত ছিটমহলগুলো আলোকিত হয়ে উঠেছে।সব মিলিয়ে বেশ খুশি বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা।এছাড়াও ছিটমহল নাগরিকদের বয়স্ক ভাতা, বিধুবা ভাতা, ভিজিডি-ভিজিএফ, সহ সামাজিক নিরাপত্তা বেসন্টনির সকল সুবিধা তাদের মাঝে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নুরল ইসলাম সুজন বলেন, পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে উপজেলার অবলুপ্ত দহলা খাগড়াবাড়ী,বালাপাড়া,কোটভাজনী সহ ৩৬টি ছিটমহলে ২৭ কোটি ১২ লাক্ষ টাকা ব্যয়ে ২২৬ কিলোমিটার এলাকায় ৯ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।সংযোগের ফলে এ অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাস্থ্য সেবা, কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন ধারনা,চাকুরীর আবেদন ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিতে পাছেন।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে ছিটমহলের নাগরিকরা পটকা ফুটিয়ে ও আতশবাজি উড়িয়ে ৩ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে।এর আগে ছিল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১লা আগস্ট, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:৩৬