২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:১৬

বগুড়ায় ঘুষ বাণিজ্যের সত্যতা মিলেছে, শিক্ষা কর্মকর্তা ‘মাসুদ রানা’ বিভাগ থেকেই বদলি

 

এম নজরুল ইসলাম,বগুড়া : প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতমালা লঙ্ঘন করে দাপটের সাথে শিক্ষক বদলী বাণিজ্য, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির টাকা আত্মসাত, ক্ষুদ্র মেরামত স্লিপের টাকার ভ্যাট প্রদানের অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। সোমবার (৩০ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সেকশন-২ এর একটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

শাজাহানপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানাকে বদলির খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তবে ওই কর্মকর্তা বদলির আদেশ স্থগিতের জন্য জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলায় ২০১৬ সালে যোগদানের পর থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতিতে মরিয়া হয়ে উঠেন শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানা। সম্প্রতি তিনি দাপটের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা নীতমালা লঙ্ঘন করে শিক্ষক বদলী বাণিজ্য, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির টাকা আত্মসাত, ক্ষুদ্র মেরামত স্লিপের টাকার ভ্যাট প্রদানের অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে প্রায় ২৫/৩০ লক্ষ টাকা পকেটে তুলেছেন শিক্ষা অফিসার।

এসব অনিয়ম তুলে ধরে গত ৩ মে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। পরে গত ২৪ জুন সরেজমিনে তদন্ত করতে আসেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাতলা পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট আজিজার রহমান। তিনি দীর্ঘ তদন্তে শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের সতত্যা পান।

সে অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অবশেষে গত সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সেকশন-২ (স্মারক -৩৮.১০১.০১৯.০০.০০.০০৪.২০১৭-১২৯) সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) নার্গিস সাজেদা সুলতানা সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শাজাহানপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানাকে চট্রগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলা শিক্ষা অফিসে ও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু হাসান মো: রেজাউল করিমকে শাজাহানপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসে বদলি করা হয়েছে।

আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে তারা কর্মস্থলের দায়িত্বভার হস্তান্তর করবেন। অন্যথায় ৬ আগস্ট তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। এ বদলির আদেশ জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ্য করা হয়েছে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি অসমর্থিত সুত্র জানিয়েছে, শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের সতত্যা পাওয়ায় তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, দুর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানা বিভিন্ন অজুহাতে বিভাগীয় হয়রানির ভয় দেখিয়ে এ উপজেলা থেকে আমাদের (শিক্ষকদের) কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বদলির আদেশে আমরা শিক্ষক সমাজ তার জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেলাম। শিক্ষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, বদলির আদেশের সংবাদ শুনে শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানা ৩ দিনের ছুটি নিয়ে বদলি স্থগিতের জন্য বর্তমানে ঢাকায় তদবিরে ব্যস্ত রয়েছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা আমিরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানার প্রতিক্রিয়া জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। মাসুদ রানা বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১২ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তার নামে হাজারো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠে। একারণে জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলা থেকে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে বদলি করা হয়েছিল তাকে। কিন্তু তদবির করে তিনি জেলার আদমদীঘি উপজেলা শিক্ষা অফিসে বদলি নেন ।

কিউএনবি/রেশমা/১লা আগস্ট, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:৪০