২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:৫৮

রোহিঙ্গা সংকট: বেইজিং ও মস্কোকে ঢাকার পক্ষে আনতে হবে

 

 

ডেস্কনিউজঃ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারের কাছে। মিয়ানমার যাতে এই সমস্যার সমাধানে বাধ্য হয় এ জন্য বাংলাদেশকে শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। এই ইস্যুতে বেইজিং এবং মস্কোর সঙ্গে ঢাকার শক্তিশালি কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়তে হবে।

‘রোহিঙ্গা সমস্যা এবং স্থানীয় সমাজে এর প্রভাব: টেকসই সমাধানের জন্য করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে মঙ্গলবার বিকেলে বক্তারা এ কথা বলেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘের সহায়তায় সেমিনারটি ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম এনডিসি, ইউএনএইচসিআরের আঞ্চলিক প্রতিনিধি জেমস লিনস, নিজেরা করির খুশি কবির, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আজজীল হক, আইন ও শালিস কেন্দ্রের শিপা হাফিজা, আইওএমের আঞ্চলিক প্রতিনিধি ইশিকা, সাংবাদিক অজয় দাস গুপ্ত টেকসই সমাধানের জন্য আলোচনায় অংশ নিয়ে মতামত দেন।

চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আজজীল হক বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান মিয়ানমারের হাতে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য মিয়ানমার প্রকৃত অর্থে কিছুই করছে না। তাই এই সমস্যা সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে। এজন্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা নিতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সহায়তা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আইসিসি যাতে রাখাইন হত্যার বিচার করতে পারে এজন্য জাতিসংঘকে উদ্যোগ নিতে হবে। জাতিসংঘে চীন এবং রাশিয়া যাতে বাংলাদেশের পক্ষে থাকে এ জন্য শক্তিশালি কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। এই ইস্যুতে বেইজিং এবং মস্কো যাতে ঢাকার পক্ষে থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য এই বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে কূটনৈতিক তৎপরতায় নামতে হবে।

আইওএমের আঞ্চলিক প্রতিনিধি ইশিকা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজার জেলার চিত্র পাল্টে গেছে। যা স্থানীয় সমাজে প্রভাব ফেলছে। কিন্তু এই সমস্যার টেকসই সমাধান একমাত্র মিয়ানমারেরই হাতে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, এই সমস্যা যতোটা না মানবিক, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক। কেন না ওই দেশটির সঙ্গে সকলেই বাণিজ্য করছে, সম্পর্ক রাখছে। কিন্তু মানবিক ইস্যুতে মিয়ানমারকে শক্তিশালী দেশগুলো কিছু বলছে না।

পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, আমরা এখনো আশাবাদি যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে। প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে তা সরেজমিন দেখার জন্য আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রী মিয়ানমার সফরে যাবেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, মিয়ানমার যাতে এই সমস্যার সমাধান করতে বাধ্য হয় এজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শক্তিশালি করতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায় যাতে এই সমস্যার সমাধান না করে এড়িয়ে যেতে না পারে এজন্য উদ্যোগ নিতে হবে। মিয়ানমারে যারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালিয়েছে তাদেরও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর এই বিচার নিশ্চিত করতে আমাদের তদন্ত করতে হবে এবং গণহত্যার আলামতগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করতে হবে।

 

কিউএনবি/বিপুল/৩১শে জুলাই, ২০১৮ ইং/রাত ১০:৪৮