১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:১৮

ভোট শুরুর আগেই ব্যালট বক্স ভর্তি : আরিফুল হক

 

ডেস্কনিউজঃ ভোট শুরুর আগেই ব্যালট বক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। সোমবার সকালে পরিবারসহ নগরীর রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেয়া শেষে এ অভিযোগ করেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।

আরিফুল হক বলেন, ‘রোববার রাতেই ১০, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি কেন্দ্রে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছে।’ তার মতে নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে না।

আরিফুল হকের অভিযোগটি অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ পার্থী বদর উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা সত্য নয়। নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে।’

এদিকে সকাল ৮টায় শুরু হয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভোটগ্রহণ। একই সাথে ভোটগ্রহণ চলছে রাজশাহী ও বরিশালেও।

সিটিগুলোর মেয়র পদে কাগজ-কলমে ১৯ প্রার্থীর নাম থাকলেও নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭ জন। তাদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হবেন আগামীর নগরপিতা। কাউন্সিলর পদেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে মূল লড়াই চলছে। তিন সিটির ৮৭ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৮১ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৪৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তিন সিটিতে মোট আট লাখ ৮২ হাজার ৩৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নগরপিতা নির্বাচিত করবেন আজ।

সিলেট

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৩৪টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন। এবার নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়াও মেয়র পদে বিএনপির বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সিলেট নাগরিক কমিটি মনোনীত প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম (বাসগাড়ী) নিয়ে লড়াইয়ে ছিলেন। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর বেশকিছু দিন নির্বাচনের মাঠে প্রচারণা চালালেও হঠাৎ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় ব্যালট পেপারে থাকছে সেলিমের বাসগাড়ি প্রতীক।

ভোট দিতে আসা ভোটাররা বলছেন, সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে সাত জন প্রার্থী হলেও মূল লড়াই হবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সদ্য বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে।

বরিশাল

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এবার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

নগরীতে ১২৩টি কেন্দ্রের ৭৫০টি বুথে বিরামহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এরমধ্যে ৪টি ওয়ার্ডের ১টি কেন্দ্রে ৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে।

রাজশাহী

রাজশাহীতে মোট ভোটার তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এদের মধ্যে এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন নারী ভোটার এবং এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন পুরুষ।

এখানকার ১৩৮টি ভোটকেন্দ্রের এক হাজার ২০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে প্রিসাইডিং অফিসার দায়িত্বপালন করবেন। এছাড়া প্রতিটি বুথে একজন করে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং দুইজন করে পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনে মেয়র পদে রয়েছেন ৫ প্রার্থী। তবে মূল লড়াই হবে সাবেক দুই মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের মধ্যে। ২০০৮ সালে বুলবুলকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন লিটন। তবে ২০১৩ সালে সেই বুলবুলের কাছেই হেরে যান লিটন।

 

কিউএনবি/বিপুল/ ৩০.০৭.১৮ /দুপুর ১:২০