ব্রেকিং নিউজ
১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৪:৫৫

তিন সিটিতেই চাপা উত্তেজনা, রাত পোহালেই ভোট

 

ডেস্কনিউজঃ রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে শনিবার মধ্যরাতে। প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতে যাচ্ছে এই তিন সিটিতে। নির্বাচনক ঘিরে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভোটের দিনের কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত এখন নেতাকর্মীরা। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা, কে হবেন নগরপিতা!

তিন সিটিতেভোটগ্রহণ হবে সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনের দিন ভোট দেয়ার সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এরই মধ্যে ভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে।তিন সিটিতেই নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা, টহল দিচ্ছে বিজিবি ও রিজার্ভ পুলিশ।

চলতি বছরের শেষে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগেরাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে পড়ছে। এছাড়া এই নির্বাচন স্থানীয় নির্বাচন হলেও জনগণের দৃষ্টি এখন এই তিন সিটি নির্বাচন ঘিরে। চায়ের কাপে, আড্ডায় এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে এই মুহূর্তে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে তিন সিটি নির্বাচন। দেশবাসী এখন অপেক্ষায় রয়েছে তিন সিটি নির্বাচনের ফলাফলের দিকে।

তিন সিটিতে মেয়র পদে বিভিন্ন দলের প্রার্থী থাকলেও মূল ভোটযুদ্ধ হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের সঙ্গে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীদের। বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট ছাড়াও খুলনা ও গাজীপুর- এই পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আগেরবার বিপুল ভোটে জয় পেয়েছিল বিএনপি। ইতোমধ্যে খুলনা ও গাজীপুরে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ।

ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদানের নিশ্চয়তা ইসির

ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদানের নিশ্চয়তা দিয়ে নির্বচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, তিন সিটির নির্বাচনে ভোটাররা যাতে নিবিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য যা কিছু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সবই করেছে নির্বাচন কমিশন।। নির্বাচনে কোন ধরনের অনিয়ম বা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের যেকোন ধরনের শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি জানান।

সচিব জানান, গাজীপুরের মতো এই তিন সিটিতেও ভোট গ্রহণ পরিস্থিতির তথ্য তাৎক্ষণিক জানার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে দু’ঘণ্টা পরপর প্রয়োজনীয় সার্বিক তথ্য কমিশন সচিবালয়কে জানাবেন। কোনো কেন্দ্রে জাল ভোট বা সিল মারার ঘটনা ঘটলে বা তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে কমিশন। ভোট কেন্দ্রে কোনো অঘটন বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কর্মকর্তারা এসএমএসের মাধ্যমে কমিশনকে জানাবেন। এক্ষেত্রে কমিশন ঢাকায় বসে এসব এসএমএসের তথ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

হেলালুদ্দীন জানান, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট কার্যক্রমের গতি-প্রকৃতি, ভোটার, প্রার্থী-কর্মী-সমর্থকদের গতিবিধি এবং সর্বোপরি নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনসহ সব কিছু সাধারণ পোশাকে ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করবেন ইসির নীরব পর্যবেক্ষক।

হেলালুদ্দীন জানান, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট কার্যক্রমের গতি-প্রকৃতি, ভোটার, প্রার্থী-কর্মী-সমর্থকদের গতিবিধি এবং সর্বোপরি নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনসহ সব কিছু সাধারণ পোশাকে ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করবেন ইসির নীরব পর্যবেক্ষকরা। প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটে কোনো ধরনের অনিয়ম দেখলে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনে তারা কমিশনকেও ঘটনার তথ্য জানাবেন।

এছাড়াও নির্বাচনের নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে থেকে তিন সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি টিম এবং প্রতি দুটি ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে ১৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরা নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। আরো ৪ প্লাটুন করে বিজিবি রিজার্ভ রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আওয়ামী লীগের সন্তুষ্টি, বিএনপির আশঙ্কা

সুষ্ঠ নির্বাচনে ইসির গৃহিত ব্যবস্থা ও সার্বিক প্রস্তুতি সন্তুষ্ট ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা।, তিন সিটিতেই জয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী। আগের কয়েটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতোই এবার ভোট কারচুপি, জালভোট, কেন্দ্রদখলসহ এবারও নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মধ্যে রয়েছে নানমুখি শঙ্কা। তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ও প্রশাসন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন অনেক বেশি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য বলেও তারা দাবি করছেন।

তিন সিটিতে মেয়র পদে বিভিন্ন দলের প্রার্থী থাকলেও মূল ভোটযুদ্ধ হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের সঙ্গে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীদের। বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট ছাড়াও খুলনা ও গাজীপুর- এই পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আগেরবার বিপুল ভোটে জয় পেয়েছিল বিএনপি। ইতোমধ্যে খুলনা ও গাজীপুরে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের শক্ত-বিশ্বাস, খুলনা ও গাজীপুরের মতো সোমবারের ভোটেও তিন সিটিতে মেয়র পদে ‘নৌকা’র প্রার্থীরা জয়ী হবেন। আর শঙ্কা প্রকাশ ও অভিযোগ করে বিএনপি বলেছেন, ‘খুলনা মডেল’- প্রয়োগ করে গাজীপুরের মতো হানাহানি-সংঘাতের ঘটনা না ঘটিয়েই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা ও ভোট গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং প্রতিপক্ষদের চাপে রাখার মাধ্যমে এই তিন সিটিতেও জয় নিজেদের পক্ষে নেয়ার আয়োজন করছে সরকার।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ও তিন সিটিতে দলটির মেয়র প্রার্থীদের উপর্যপুরি অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ভোটের আগে বিএনপি নিজেরাই নিজেদের হারিয়ে দিচ্ছে। ভোটে পরাজিত হলে যেন বলতে পারে-ভোট সুষ্ঠু হয়নি, সেজন্য আগে থেকে গ্রাউন্ড তৈরি করে রাখছে বিএনপি।’ অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, খুলনা ও গাজীপুরের মতো এই তিন সিটিতেও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির নির্লিপ্ততায় পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন একটি দলের পক্ষ হয়ে কাজ করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আগাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই তিন সিটির ভোট দেখে বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে-আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি যাবে কী যাবে না। তিন সিটিতে ভোটের নামে প্রহসন হলে বিএনপি কঠোর আন্দোলনে যাবে, এমন কথাও বলেছেন মওদুদ।

প্রচারণায় এগিয়ে আ.লীগ, চাপের মধ্যে বিএনপি

তিন সিটিতেই প্রচার ও প্রচারণার কৌশলে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে শুরুতেই সমর্থন জানিয়েছে এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা)। বরিশালেও শেষদিকে এসে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে দলটি। তবে জাপার ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মেয়র পদে এখনও মাঠে আছেন তাপস। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না মানায় শুক্রবার তাপসকে দল থেকে বহিস্কার করেনে জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। আর ভোটের মাত্র দু’দিন আগে, গতকাল সিলেটেও আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে জাপা।

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের পুলিশি হয়রানির মধ্যে প্রচারণা চালাতে হচ্ছেতিন সিটিতেই দল ও জোটের অভ্যন্তরীণ নানা কোন্দল-দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের। নানা চেষ্টা করেও সিলেটে জোটসঙ্গী জামায়াতের মেয়র প্রার্থীকে ভোট থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। রাজশাহী ও বরিশালেও বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামতে বেশ কয়েকদিন সময় নিয়েছে স্থানীয় জামায়াত। ভোটের হিসাব-নিকাষে এই বিষয়গুলোও ধর্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে।এনপি নেতাদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী বুলবুল। আর বরিশালের ধানের শীষের প্রার্থীর অভিযোগ- গাজীপুর ও খুলনার স্টাইল ইতোমধ্যে শুরু করেছে প্রশাসন।

রাজশাহী: ১৩৮ কেন্দ্রের মধ্যে ঝুকিপূণ ১১৪

রাজশাহী সিটিতে মোট মেয়র প্রার্থী পাঁচজন । তাদের মধ্যে সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম. খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি জাতীয় নেতা এএইচএম কামারুজ্জামানের পুত্র। রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান ২০০৮ সালে মেয়র নির্বচিত হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক বড় দল বিএনপির নহর কমিটির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনর হারলেও ২০১৩ সালের নির্বাচনে খায়রুজ্জামানকে পরাজিত করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। এ সিটির অন্য প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ মোর্শেদ (গণ সংহতি আন্দোলনের রাজশাহী জেলার সমন্বয়ক। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৬০ জন ও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন নৌকা প্রতীকের খায়রুজ্জামান লিটন এবং ধানের শীষ প্রতীকের মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ক্ষমাতাসীন দলের মেয়র প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের নির্বাচনী শ্লোগান ‘চলো আবার বদলে দেই রাজশাহী’।প্রচারণাতে তিনি স্থানীয় উন্নয়নকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি বাসা-বাড়ির কর কমানো, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেয়া এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।অন্যদিকে, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল স্থানীয় উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় নানা বিষয়কে বড় করে দেখেছেন। নির্বাচিত হলে তিনি কোটা সংস্কার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সহযোগিতা করবেন বলেছেন।রাজশাহী থেকে জেলবন্দী বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের সূচনা করার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ ও মহিলা ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩। ভোট কেন্দ্র ১৩৮টি ও ভোট কক্ষ ১ হাজার ২৬টি। এসব কেন্দ্রের মধ্যে কেন্দ্রের মধ্যে ১১৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন উপলক্ষে নগরীতে ১৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আরও চার প্লাটুন স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র (সদর) ইফতেখায়ের আলম জানান, ভোটের নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশও মোতায়েন রয়েছে। দায়িত্বপালন করছেন অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও। তিনি আরও বলেন, ভোটের আগে ও পরে তিন দিন পুরো নগরী নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে নগরীর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ঘিরেও থাকছে তিন স্তরের নিরাপত্তা। আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ নিয়ে ভোটারদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ওই নগর পুলিশ কর্মকর্তা।

সিলেট: ১৩৪ কেন্দ্রের মধ্যে ঝুকিপূর্ণ ৮০

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র প্রার্থীরা হচ্ছেন: সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সদ্য-বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিপিবি-বাসদের প্রার্থী আবু জাফর, স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এহছানুল হক তাহের।

সিলেটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের মহানগর সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান একসময় ছিলেন পৌর চেয়ারম্যান এবং পরে দুই দুফায় মেয়র। বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী সদ্য-বিদায়ী মেয়র। ২০১৩ সালের নির্বাচনে কামরানকে হারিয়ে তিনি চমক তৈরি করেন। ক্ষমতাসীন দল এবার . কামরানকে নৌকার মাঝি করে পাঁচ বছর আগে হাতছাড়া হওয়া নগর ভবনে আবারো নিজেদের কর্তৃত্ব ফিরে পেতে চায়।আর বিএনপি চায় নগর ভবনের কর্তৃত্ব নিজের প্রার্থীর হাতেই ধরে রাখতে। যে কারণে বড় দুই দলের কাছেই মেয়র পদে নির্বাচন অনেকটা মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

সিলেটে নগর উন্নয়নের বিষয়গুলোই ভোটের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে। এক্ষেত্রে যানজট, ফুটপাতে হকারদের অবৈধ দখল, পানীয় জলের সঙ্কট, নগরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ছড়া ও খাল অবৈধভাবে দখল এবং জলাবদ্ধতা এই পাঁচটি বিষয়ই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। যানজট নিরসন এবং ফুটপাতের দখল উচ্ছেদে সদ্য-বিদায়ী মেয়র বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিলেও তেমন সুফল পাননি।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৩৪টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৮০টি। ইসি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৪ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ২৭টি টিম কাজ করছে। ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটিতে ২২ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৭ জন পুলিশ, ১২ জন আনসার সদস্য আগ্নেয়াস্ত্রসহ আনসার বাহিনীর একজন প্লাটুন কমান্ডার ও একজন এপিসি এবং একজন ব্যাটলিয়ান আনসার সদস্য থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সমূহে ২ জন করে অতিরিক্ত ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য অস্ত্রসহ থাকবেন। এছাড়া ৯টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ৯টি, ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রে ২৯৪৮ জন পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বরিশাল: ১২৩ কেন্দ্রের মধ্যে ঝুকিপূর্ণ ১১২

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মো. মজিবর রহমান সরওয়ার,আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বাসদের মনীষা চক্রবর্তী , ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ওবায়দুর রহমান মাহবুব, সিপিবির একে আজাদ, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মো. ইকবাল হোসেন তাপস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বশির আহমেদ ঝুনু।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেতা মো.মজিবর রহমান সরওয়ার। তিনি জলাবদ্ধতা দূর করতে খাল খনন, রাস্তা প্রশস্ত করার কাজে হাতে নিয়েছিলেন।এবারের নির্বাচনেও নগরীর উন্নয়নের জন্য ইশতেহার ঘোষণা করে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন মেয়র প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের মেয়র-প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ কোন ইশতেহার ঘোষণা করেননি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য হলো, ইশতেহার দিয়ে নাগরিকদের সাথে প্রতারণা করতে চাইনা। নাগরিকদের চাওয়া পাওয়া পূরণ করার চেষ্টা করবো। বিএনপির মো. মজিবর রহমান সরওয়ার ২৮-দফা ইশতেহার দিয়ে নগর উন্নয়নের মহা পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এবারের নির্বাচনে আলাদা করে দৃষ্টি কেড়েছেন একমাত্র নারী মেয়র-প্রার্থী বাসদের মনীষা চক্রবর্তী । পেশায় চিকিৎসক এই তরুণ প্রার্থী সরকারি চাকুরি ছেড়ে দিয়ে রাজনীতিতে নেমেছেন। মিজ চক্রবর্তী বলেছেন, মেয়র হতে পারলে নগরভবনকে তিনি দুর্নীতি, লুঠপাট মুক্ত করবেন। তার ১৪-দফা ইশতেহারে নারীদের জন্য রয়েছে ভিন্ন কর্মসূচি।

বরিশাল সিটিতে এবার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন। নগরীতে ১২৩টি কেন্দ্রের ৭৫০টি বুথে বিরামহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এরমধ্যে ৪টি ওয়ার্ডের ১টি কেন্দ্রে ৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে। সিটি নির্বাচনের ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১২টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরমধ্যে ৫০টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ন ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, এপিবিএন এবং আনসার মিলিয়ে ১৪ জন সশস্ত্রসহ মোট ২৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্রে ১২ জন সশস্ত্র পুলিশ, এপিবিএন ও আনসারসহ মোট ২২ জন সদস্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন ছাড়ও পুলিশের একাধিক দলকে টহল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রিজার্ভ এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচারের জন্য ১০ জন নির্বাহী এবং ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া ১৯ প্লাটুন বিজিবি ছাড়াও র্যাবের ৩৫টি টহল দল ও সাদা পোশাকধারীসহ প্রায় সাড়ে ৩শ সদস্য কেন্দ্রের বাইরে নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

একনজরে তিন সিটি

রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ ও মহিলা ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩। ভোট কেন্দ্র ১৩৮টি ও ভোট কক্ষ ১ হাজার ২৬টি। এ সিটিতে মোট মেয়র প্রার্থী ৫।

সিলেট সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ ও মহিলা ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৮। ভোট কেন্দ্র ১৩৪টি ও ভোট কক্ষ ৯২৬টি। এ সিটিতে মোট মেয়র প্রার্থী ৭।

বরিশাল সিটিতে মোট ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ ও মহিলা ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০। ভোট কেন্দ্র ১২৩টি ও ভোট কক্ষ ৭৫০টি। এ সিটিতে মোট মেয়র প্রার্থী ৬।

 

কিউএনবি/বিপুল/২৯শে জুলাই, ২০১৮ ইং/রাত ১১:০১