২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৪৬

যেসব কারণে বৃষ্টির ঘ্রাণ ভালো লাগে

দীর্ঘ সময় শুষ্ক আবহাওয়ার পর বৃষ্টির পরমুহূর্তে সৃষ্ট ঘ্রাণ মানুষের স্নায়ুতে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে। এই ভালো লাগার পেছনে রাসায়নিক বিক্রিয়াঘটিত বেশ কিছু কারণ আছে। ব্যাকটেরিয়া, গাছপালা বা বিদ্যুৎ চমকানো—সব কিছুই বৃষ্টির সময়কার ভেজা মাটি ও নির্মল বাতাসের মনোরম সৌরভের অনুভূতি তৈরি করার পেছনে ভূমিকা রাখে।ইংরেজিতে ‘পেট্রিকোর’ নামের এই সুঘ্রাণের উেসর সন্ধানে বহুদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ১৯৬০ সালে দুজন অস্ট্রেলীয় গবেষক প্রথম এ নামকরণ করেন। তাঁদের ভাষ্য, বৃষ্টি যখন প্রথম শুষ্ক মাটি স্পর্শ করে, তখন আমরা যে উষ্ণ, সোঁদা গন্ধ পাই তা ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাজ্যের জন ইনস সেন্টারের আণবিক জীবাণুবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক মার্ক বাটনার বলেন, ‘মাটিতে এই ব্যাকটেরিয়া প্রচুর পরিমাণে আছে। আপনি যখন মাটির সোঁদা গন্ধ পান, তখন আসলে বিশেষ এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার তৈরি করা অণুর গন্ধ পান।’জিওসমিন নামের ওই অণু স্ট্রেপটোমাইস দিয়ে তৈরি হয়, যা সাধারণত উর্বর মাটিতে উপস্থিত থাকে। বৃষ্টির পানির ফোঁটা মাটি স্পর্শ করলে মাটিতে উপস্থিত জিওসমিন বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির পর আরো অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।

অধ্যাপক বাটনার বলেন, ‘অনেক প্রাণীই এই গন্ধের বিষয়ে সংবেদনশীল হলেও মানুষ এ সম্পর্কে অতিরিক্ত অনুভূতিশীল।’এই গন্ধকে ‘পেট্রিকোর’ নাম দেওয়া দুই গবেষক ইসাবেল বেয়ার এবং আর জি থমাস ১৯৬০ সালে জানতে পারেন, সেই সময় ভারতের উত্তর প্রদেশে এই ঘ্রাণ আহরণ করে সুগন্ধি হিসেবে বিক্রি করা হতো ‘মাটি কা আত্তর’ নামে। বর্তমানে সুগন্ধি তৈরির কাঁচামাল হিসেবে জিওসমিনের ব্যবহার বেড়েছে। তবে জিওসমিনের গন্ধ ভালোবাসলেও অনেকেই কিন্তু এর স্বাদ অপছন্দ করে। মানুষের জন্য এটি ক্ষতিকর না হলেও পানিতে বা ওয়াইনে সামান্য পরিমাণ জিওসমিনের উপস্থিতিও অনেকেই সহ্য করতে পারে না।

ডেনমার্কের আলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেপ্পে নিয়েলসেন বলেন, জিওসমিন তারপিনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। অনেক গাছে উদ্ধৃত সুঘ্রাণের উৎস তারপিন।যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানি গার্ডেনসের গবেষণা প্রধান ফিলিপ স্টিভেনসনের মতে, গাছে উপস্থিত যেসব রাসায়নিক সুগন্ধ তৈরি করে, সেগুলো অনেক সময় পাতার মধ্যে তৈরি হয়। বৃষ্টির কারণে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে বায়ুতে নির্গত হয়।বৃষ্টির সময় সুঘ্রাণ তৈরির পেছনে বজ্রপাতেরও ভূমিকা আছে। বিদ্যুৎ চমকানোর কারণে বায়ুমণ্ডলে বৈদ্যুতিক আবেশ তৈরি হওয়ায় প্রকৃতিতে ওজোন গ্যাসের এক ধরনের গন্ধ প্রতীয়মান হয়।

সূত্র : বিবিসি।

 

কিউএনবি/ অদ্রি / ২৯.০৭.১৮ / দুপুর ১.৪৫