১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৪৪

ঈশ্বরচন্দ্রকে এঁড়ে বাছুর বলেছিলেন তার দাদা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাবা ঠাকুরদাস তথন বাড়িতে নেই। ঈশ্বরচন্দ্রের দাদা রামজয় ছুটলেন ছেলেকে খবরটা দিতে। পথেই দেখা হয় ছেলের সঙ্গে।তিনি ছেলেকে জানান, একটি এঁড়ে বাছুর হয়েছে। ঠাকুরদাস জানতেন গোয়ালে একটি গরু গর্ভবতী। তিনি ভেবেছিলেন, এটা তো বেশ ভালো খবর।বাড়িতে যাওয়ার পর গোয়াল ঘরের দিকে দৌড়ে যান তিনি। ছেলের কাণ্ড দেখে রামজয় তর্কভূষণের হাসি আর দেখে কে!

তিনি বলে ওঠেন, ও দিকে নয়, এদিকে আসো, আমি তোমাকে এঁড়ে বাছুর দেখাতে নিয়ে যাচ্ছি। তার পর নিয়ে গেলেন আঁতুড়ঘরে।সেখানে এক ফুটফুটে সদ্যোজাত সন্তান। পিতৃত্বের অহঙ্কারে হাসি ফুটল ঈশ্বরচন্দ্রের বাবার মুখেও।ছোটবেলায় ঈশ্বরচন্দ্র ছিলেন ভয়ানক চঞ্চল। মারধর, বকাবকি, কিছুতেই তাকে থামানো যেত না। ঠাকুরদাস তখন আত্মীয়-পরিজনদের জড়ো করে তার বাবার সেই গল্পটি শোনাতেন।

ঈশ্বরচন্দ্রের বাবা বলতেন, ইনি হলেন সেই এঁড়ে বাছুর, যার দাদা পরিহাস করে বলেছিলেন সেটা, কিন্তু, তিনি সাক্ষাৎ ঋষি ছিলেন, তার পরিহাস বাক্যও বিফল হওয়ার নয়, বাবাজি আমার ক্রমে ক্রমে এঁড়ে গরু অপেক্ষাও একগুঁয়ে হয়ে উঠছে।বাবার নির্দেশ অমান্য করতে পারলেই তৃপ্তি মিলতো ঈশ্বরচন্দ্রের। বিনয় ঘোষের লেখাই রয়েছে, বাবা স্নানের কথা বললে দু-তিন দিন পুকুরের ধারে কাছও যেতেন না! আর যেদিন নিষেধ করতেন সেদিন তাকে কোনো ভাবেই পুকুর থেকে তোলা যেত না! বাবার মারের হাত থেকে রেহাই পেতে নিজের টিকি বেঁধে রাখতেন ঘুমকাতুরে ঈশ্বরচন্দ্র।

 

কিউএনবি/ অদ্রি / ২৮.০৭.১৮ / সকাল ৮.০৫