২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:১৬

চোখের সামনে ধসে পড়ল কক্সবাজারের পাহাড়

কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নে গতকাল শুক্রবার একটি পাহাড় ধসে পড়েছে। ধসে পড়া পাহাড়ের মাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট। এ ছাড়া বিকল হয়ে পড়েছে পাহাড়ের পাশের একটি রাস্তা। স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি আশপাশের লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে।স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া পাহাড় ও গাছপালা কেটে বসতভিটা বানানোকেও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।

বন বিভাগের মালিকানাধীন পাহাড়টির অবস্থান কক্সবাজার শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরের ঝিলংজা ইউনিয়নে; কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পাশে। এর উচ্চতা ১২০ ফুটের মতো। আয়তন ৬ থেকে ৭ একর।স্থানীয় লোকজন জানায়, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পাহাড়টিতে ফাটল দেখা দেয়। এরপর মাটি ধসে পড়তে থাকে। ফাটল ধরার সময় আশপাশে কম্পন অনুভূত হয়। পাহাড়ের পাদদেশে থাকা বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ভয়ে লোকজন এদিক-সেদিক পালাতে থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল বাশার ও ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান টিপু সুলতানসহ বনকর্মীরা।

টিপু সুলতান জানান, পাহাড়টিতে বেশ কিছু গাছপালাও আছে। পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে আট থেকে ১০টি বসতবাড়ি। আছে কয়েকটি দোকানও। ধসের কারণে এসব বসতবাড়ি ও দোকানপাট দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কুদরত উল্লাহ সিকদার জানান, ঘটনার সময় ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছিলেন। পাহাড়ধসের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে চলে আসেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদুল হক বলেন, ‘পাহাড়টিতে ফাটল ধরার সময় ভূকম্পন অনুভূত হয়। এরপর মাটি ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পালাতে শুরু করি।’ তিনি জানান, ধসের সময় বৃষ্টি না থাকায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে।কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘পাহাড়টি বন বিভাগের মালিকানাধীন। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়টির মাটি নরম হয়ে পড়ে। এ কারণে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ছে।’

ঘটনাস্থলে থাকা বনকর্মী শামীম আহমদ বলেন, ‘পাহাড়টিতে বেশ কিছু অবৈধ ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া গাছগাছালিও কেটে ফেলা হয়েছে। এ কারণে পাহাড়টির মাটি ধারণক্ষমতা অনেক কমে গেছে।’গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, পাহাড়ের আশপাশের অর্ধশতাধিক বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টি বাড়লে ধসের ঘটনা বাড়তে পারে।উল্লেখ্য, গত বুধবার প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী জাদিরাম পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়ে। শহরের বইল্যাপাড়ার ওই পাহাড়ে রয়েছে পাঁচটি বৌদ্ধ স্থাপনা (জাদি)।

 

কিউএনবি/ অদ্রি / ২৮.০৭.১৮ / সকাল ৭.৪৫