২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:২৭

এবার চাকরি গেল চুমুর ছবি তোলা সেই ফটোসাংবাদিকের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এক যুগলের চুম্বনের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিল।ওই আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন পূর্বপশ্চিম বিডি নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ।গত ২৩ জুলাই, সোমবার দুপুরে বৃষ্টিভেজা ক্যাম্পাসে ওই তরুণ-তরুণীর এমন একান্ত মুহূর্ত ক্যামেরায় ধারণ করেন জীবন আহমেদ। পরে তিনি ছবিটি ‘বর্ষা মঙ্গল কাব্য, ভালোবাসা হোক উন্মুক্ত’ ক্যাপশনে নিজের ফেসবুক পেইজে পাবলিক পোস্ট হিসেবে শেয়ার করেন। ছবিটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।

অনেকেই বাংলাদেশের সামাজিক মূল্যবোধ টেনে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। ফটোগ্রাফারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি জনসমাগমস্থানে এভাবে আবেগের বহিঃপ্রকাশের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন কেউ কেউ।এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেছিলেন, ‘এ ধরনের ছবির কারণে ওই দুইজন সামাজিকভাবে নানা সমস্যার মুখে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ছবি তোলার মুহূর্তে না হলেও, ছবিটি তোলার পর অবশ্যই তাদের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। কেননা, এই ছবির সঙ্গে ওই দুজনের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।’

ওই ঘটনায় পরে জীবন আহমেদের সহকর্মীরা তাকে টিএসসিতে মারধরও করেছিলেন। সেই মারধরের ঘটনাটি নিয়েও বেশ আলোচনায় ছিলেন জীবন আহমেদ। কিন্তু শুধু মারধরই নয়, এবার তাকে নিজের কর্মস্থল পূর্বপশ্চিম বিডি থেকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জীবন আহমেদ।

২৭ জুলাই, শুক্রবার সন্ধ্যায় জীবন আহমেদ  বলেন, ‘গত তিন দিন আগে আমাকে অফিস থেকে অ্যাডমিন অফিসার ফোন করে বলে আমার আইডি কার্ডটি অফিসে গিয়ে জমা দিয়ে আসতে। আমি তখন বলেছি, যেহেতু আমার কাছে অফিসের দেওয়া একটি ল্যাপটপ আছে, সেখানে আমার কিছু ব্যক্তিগত ফাইল আছে, তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে আমি সবকিছু জমা দিয়ে আসব। আগামী রবিবার পর্যন্ত আমি সময় নিয়েছি।’আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে জীবন বলেন, ‘যেহেতু আমার আইডি কার্ড জমা চেয়েছে, তাই আমি স্বাভাবিকভাবে ধরেই নিয়েছি যে আমার চাকরি নেই।’

 

কিউএনবি/ অদ্রি / ২৮.০৭.১৮ / সকাল ৭.১৫