১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:২৬

৫৭ ধারা বস্তুতপক্ষে ‘ডেড’: মোস্তফা জাব্বার

 

ডেস্ক নিউজ : ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, ৫৭ ধারা আইনটি বাতিল করে দেওয়া হলো। এই ধারায় কোনো মামলাও হবে না। সাংবাদিকতার জন্য ৫৭ ধারার অপব্যবহার ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতএব অপব্যবহার যেন না হয় তা নিশ্চিত করা সরকারে মূল উদ্দেশ্য।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় কার্য-অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন মোস্তফা জব্বার বলেন, নতুন আইনে ৫৭ ধারার কোনো বিষয় নেই। শুধু ডিজিটাল অপরাধগুলো চিহ্নিত করেছি। সরাসরি ও ৫৭ ধারা সংশ্লিষ্ট অপরাধে যেসব মামলা হতো, নতুন আইন অনুযায়ী পুলিশ সেসব বিষয়ে কোনো রকমের ব্যবস্থা নিতে পারবে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক থাকবে, তার অনুমতিক্রমেই কেবল মামলা করতে পারবে। সুতরাং অপপ্রয়োগের জায়গাটাকে অমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি

সাংবাদিকদের আরেক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে ৫৭ ধারায় সরাসরি কেউ মামলা করতে পারে না। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ৫৭ ধারায় কোনো থানায় মামলা গ্রহণ করতে পারে না। আর ৫৭ ধারা বস্তুতপক্ষে ‘ডেড’। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গতকাল স্থায়ী কমিটিতে প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে তা পাস হওয়ার ফলে ৫৭ ধারা নামক বস্তুর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। ৫৭ ধারার কোনো আইন এই আইনে রাখা হয়নি। সুতরাং এটি নিয়ে টেনশনের কোনো কারণ নেই।’

এ আইনটিতো এখনো পাস হয়নি তাছাড়া ইতোমধ্যে ৫৭ ধারায় যেসব মামলা হয়েছে সেগুলোর কী হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেগুলো মামলা আছে সেগুলো স্বাভাবিক গতিতে আইন অনুযায়ী যেভাবে নিষ্পত্তি হয় সেভাবে হবে। যে মামলা যে আইনের আওতায় আছে তা নিষ্পত্তি হবে ওই আইনেই। আমরা আইনে এ ব্যবস্থা করতে পারবো না যে অতীতের সমস্ত মামলা বিলীন করে দেয়া হোক।’

এসময় মোস্তফা জব্বার বলেন, ৫৭ ধারার কোনো ধারণা আমরা নতুন আইনে রাখিনি। কারণ, আমরা মনে করি আমাদের দেশের সংবাদপত্র, মিডিয়ার মত প্রকাশের স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। সুতরাং তার ওপরে কোনো ধরনের শিকল বা তালা দেয়া আমাদের কোনো আইনেই উচিৎ নয়। আমরা উন্মুক্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। তবে মনে রাখতে হবে, আমরা ডিজিটাল যুগে বাস করি এবং স্বাভাবিক অপরাধের চেয়ে ডিজিটাল অপরাধের গুরুত্ব অনেক বেশি। অতএব আমাদের প্রযুক্তিগত দিক থেকে ডিজিটাল অপরাধ দমন করতে হবে। তবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা হরণ করে নয়।
তিনি বলেন, এখন আমি দেখি না যে ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগে কোনো মামলা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে উপলব্ধি করা দরকার। আমরা ২০০৯ থেকে সরকার তার সর্বশক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এমনকি এই ডিজিটাল বাংলাদেশ সচিবালয় কেন্দ্রিক না, ঢাকা শহর কেন্দ্রিক না। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিটি মানুষের জন্য। আমাদের জন্য এইটি সুখের বিষয় যে আজকে যারা আমাদের সাথে কথা বলেছেন, তারা হচ্ছেন একেবারেই তৃণমূল প্রশাসনের সাথে যুক্ত। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে শক্ত পিলারটা হওয়া দরকার অন্তত জেলা থেকে। তারপর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত।

তিনি বলেন, ইতো মধ্যেই আমরা প্রায় ১২’শর মতো সেবা চিহ্নিত করেছি। এই সেবাগুলো যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি। জেলা প্রশাসন ছাড়া এই সেবা বাড়ানো সম্ভব না। দেশের প্রায় সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাতে কম্পিউটার ল্যাব করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হয়, সবগুলো ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের সহায়তা দরকার।

 

কিউিএনবি/রেশমা/২৬শে জুলাই, ২০১৮ ইং/রাত ১০:১৩