১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:১১

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার গুচ্ছ গ্রামের শহস্রাধীক বাসিন্দাদের পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো

 

শেখ মোহাম্মদ রতন, ষ্টাফ রিপোর্টার : মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার খাসকান্দির গুচ্ছ গ্রামের যাতায়াতে একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এই বাঁশের সাঁকো ও এ সাকোঁ দিয়ে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে গুচ্ছ গ্রামের ছোট্ট শিশুসহ বয়োবৃদ্ধরা এ সাকো পাড় হতে গিয়ে পরে গিয়ে মারাত্বক আহতের স্বীকার হয়েছেন।

এখানকার স্কুলগামী শিক্ষাথীরা-সন্তানরা যথা সময়ে বিদ্যালয় মুখি হতে পারে না বলে গুচ্ছ গ্রামে বসবাসকারীরা অভিযোগ করেছেন।কারণ সাঁকোর পারাপারের ভয়ে এখানকার একাধিক অভিভাবক তাদের শিশু সন্তান নিয়ে খালের পশ্চিমপাড়ের চরশিলমান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, ইতোমধ্যে কয়েক বছর আগে এখানকার নাছির বেপারীর স্ত্রী শিমুর শিশু সন্তান সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে অনেকে পঙ্গু হয়ে ঘরে বসে আসেন।এছাড়া অনেকে রাজধানী ঢাকার পঙ্গু-হাসপাতালে অনেক টাকা পযসা খরচ করে প্রায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্কুলগামী শিক্ষার্থীদেও অনেকেই প্রতিদিন এই সাঁকো পাড়ি দিতে গিয়ে কোন না কোন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।এর ফলে এখানকার শিশু সন্তান নিয়ে বাবা-মায়েরা দুশ্চিচিন্তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।এসব কারণে ভেয়ে অনেকেই বর্তমানে স্কুলে যাওয়া সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছেন বলে গুচ্ছ গ্রামে বসবাসকারীরা অভিযোগ তুলে ধরেছেন।তাদের শিশুরা একটু বড় হলেই তারা তারপরে স্কুলে নিয়ে যাবেন বলে এই প্রতিবেদকদের জানিয়েছেন।

গুচ্ছ গ্রামসহ এর আশপাশে এখানে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে অনেকই ভাড়ি মালামাল যেমন চাউলের বস্তা,শাকসবজিনহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে দিন মজুররা বাড়ি যেতে পারেন না।সাঁকোর এক পাড়ে মালামাল রেখে অন্যের সাহায্যে নিয়ে দফায় দফায় যাতায়াতে এপার থেকে ওপারে সেইসব মালামাল নিয়ে তবেই বাড়িতে পৌঁছান।

এদিকে এখানকার দিন মজুর মানুষরা জমি থেকে শাক সবজি তুলে শহরের বাজারে বিক্রি করে অনেকই জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।যাতায়াতের অসুবিধার কারণে বেশি পরিমাণ শাক সবজি শহরে নিয়ে যেতে না পাড়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়ে চরম দুর্ভোগে পরছেন।

তারা দাবি করেন এখানে যদি একটি পাকা সেতু যদি নির্মাণ করা হতো তবে বেশি পরিমাণ শাক সবজি শহরে বিক্রি করে তারা আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারতো। এর ফলে তারা দারিদ্র বিমোচনে অংশিদার হতে পারতো বলে এখানকার নারী সমাজ, দিনমজুর, স্কুলগামি শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

গুচ্ছ গ্রামের ভৌগলিক কারণে বর্ষা কিংবা বন্যার পানি বেড়ে গেলে এখানকার মানুষেরা মহা বিপদের মধ্যে দিন যাপন করেন গ্রামবাসীরা। কোন কারণে পানি বৃদ্ধি পেলে তাদের চলাচলে তাদের অসুবিধা আরো বেশি দেখা দেয়।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ফয়সাল বিপ্লব জানান, এসব ঘটনার সত্যতা সরেজমিনে পর্যবেক্ষন করা হয়েছে। তিনি গুচ্ছ গ্রামে সেতু তৈরীসহ উন্নয়ন মুলক কাজে অতি দ্রুত হস্থক্ষেপ নিবেন বলে অঙ্গিকার করেছেন।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২৬শে জুলাই, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:১৫