২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:৩৩

হানিফ পরিবহনের ভলভো বাসের চালক ও হেলপার গজারিয়ার ভাটেরচর ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে হত্যা করেন নর্থ সাউথ এর শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েলকে

 

শেখ মোহাম্মদ রতন,ষ্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়ার ভাটেরচর ব্রিজ এলাকায় যানজটের কবলে পড়ে হানিফ পরিবহনের ভলভো নামের বাস।গত শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যানজটে গাড়ি থমকে আছে দেখে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাস থেকে নামার আগমুহূর্তে চালক দ্রুত গতিতে গাড়ি চালান।

এ সময় বাসের ধাক্কায় মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে মহাসড়কে পড়েই অজ্ঞান হয়ে যান পায়েল।এ সময় সুপারভাইজার মো. জনি তাকে ওঠাতে বললেও চালক জালাল ও হেলপার ফয়সাল মনে করে যাত্রী পায়েল মারা গেছেন। এতে দায় এড়াতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে ঘটনাস্থল ভাটেরচর ব্রিজের নিচে ফুলদী নদীতে তাকে ফেলে দেওয়া হয়।

বুধবার মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-৩ এর বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিমউদ্দিনের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাসের সুপারভাইজার মো. জনি এ তথ্য দেন।জনির স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে তিন দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন হলো নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েল হত্যাকান্ডের।

গজারিয়া থানার ওসি হারুন অর রশীদ জানান, মঙ্গলবার রাতে হানিফ পরিবহনের গাড়ির চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে গজারিয়া থানায় আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।জিজ্ঞাসা বাদের একপর্যায়ে সুপারভাইজার জনি ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়ে পড়ে গেলেও তিনি ছেলেটিকে বাসে ওঠাতে বলেছিলেন চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।

কিন্তু চালক জালাল ও হেলপার ফয়সাল মারা গেছেন মনে করে বাসে ঘুমিয়ে থাকা অন্য যাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভাটেরচর ব্রিজের নিচে তাকে পানিতে ফেলে দেয় তারা।মুন্সীগঞ্জ কোর্ট পরিদর্শক হেদায়েতুল ইসলাম ভুইয়া জানান, গ্রেফতার তিন আসামির মধ্যে বাসের সুপারভাইজার জনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।পরে তিনজনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, আজ বৃহস্পতিবার সকালে তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরবেন।প্রসঙ্গত,শনিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে করে বন্ধু আদর ও শান্তর সঙ্গে ঢাকা আসছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েল।

ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়ার ভাটের চর এলাকায় যানজটে আটকা পড়ে বাসটি।এ সময় পায়েল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাস থেকে নেমে নিখোঁজ হন।তখন তার দুই সহযাত্রী বন্ধু ঘুমিয়ে ছিল।এর একদিন পর ফুলদী নদী থেকে পায়েলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২৬শে জুলাই, ২০১৮ ইং/বিকাল ৪:৫৭