১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:০১

প্রেম করে পালিয়ে যায় প্রেমিক জুটি, উদ্ধারের পর হচ্ছে ধর্ষণের পরীক্ষা

 

এম নজরুল ইসলাম,বগুড়া : রবার্ট ব্রাউনিং নামের ব্রিটিশ কবি লিখেছেন- ‘ভালবাসা, এসো, ঘুমিয়ে পড়ো হে, আমার নিকটে এসে, আমি জানি, আমি তোমার প্রেমের জোয়ারে গিয়েছি ভেসে।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার এক প্রেমিক জুটিকে নিয়ে চলছে হৈচৈ। প্রেম মানে না কোন বাধা। বয়স, জাত, ধর্ম বা নিয়ম। ৮ম শ্রেনির এক স্কুল ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক।

পরিবার মেনে না নেয়ায় পালিয়ে গিয়েছিল প্রেমিক জুটি। অবশেষে অপহরণ মামলার আসামী হয়েছে প্রেমিক।১৩ দিন পর ঢাকার আশুলিয়া থেকে প্রেমি জুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এরপর করা হচ্ছে ধর্ষণের পরীক্ষা। প্রেমিক কর্তৃক প্রেমিকা ধর্ষণ হয়েছে কিনা, তা জানতে জানতে ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।অসমর্থিত একটি সূত্রে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর ইউনিয়নের বিনাহালী গ্রামের আজিজুল হক জোয়ারদারের মেয়ে (১৬) স্থানীয় বিনাহালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনিতে পড়াশুনা করে।

স্কুলে আসা-যাওয়ার ফাঁকে একই গ্রামের বাঁধনের (২০) সাথে ওই স্কুলছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি স্কুলছাত্রীর পিতার কানে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মেয়েকে কড়া শাসন করে।প্রেম মানতে রাজী নন তিনি।

পরে প্রেমিক বাঁধনের সাথে পালিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা করে প্রেমিকা। সে মোতাবেক গত ১১ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে বেড়িয়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায় স্কুলছাত্রী। প্রেমিকার বয়স কম হওয়ায় বিপাকে পড়ে প্রেমিক বাঁধন।

এদিকে, প্রেমিকের সাথে মেয়ে পালানোর বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে আদমদীঘি থানায় গিয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন স্কুলছাত্রীর পিতা আজিজুল হক জোয়ারদার। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, বিনাহালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনির ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া পথে একই গ্রামের বাঁধন (২০) নামের যুবক প্রেম নিবেদনসহ নানা ভাবে উত্যক্ত করে আসছিল।

১১ জুলাই সকালে ওই ছাত্রী বাড়ী থেকে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয়ার জন্য বেড়িয়ে গেলে বাঁধন, আনোয়ার হোসেন সুইট, রতনসহ তার অপর সহযোগীরা স্কুল ছাত্রীর পথরোধ করে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করেন থানার উপ-পরিদর্শক তোজাম্মেল হক। অবশেষে ১৩ দিনপর গত ২১ জুলাই প্রেমিক জুটিকে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারি উপ-পরিদর্শক তোজাম্মেল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার সহ বাঁধনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ভিকটিম ও প্রধান আসামী বাঁধনকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের বিশেষ পাহারায় তাদের ঢাকায় নিয়ে এসেছি। ভিকটিম ধর্ষনের শিকার হয়েছে কিনা তা নির্ধারনের জন্য তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করতে আদালত নির্দেশ প্রদান করেছেন।

কিউএনবি/সাজু/২৫শ জুলাই,২০১৮ ইং/রাত ৯:৩১