২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:৩৭

৩০ লাখ শহীদের স্মরণে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী অংশ না নেওয়ায় জয়পুরহাটে প্রধান শিক্ষককে নোটিশ

মিজানুর রহমান মিন্টু,জয়পুরহাট প্রতিনিধি : মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে অংশ না নেওয়ায় জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৮ জুলাই দেশব্যাপী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে ওই বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন করা হলেও বানিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগম তা উপেক্ষা করেন। অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা তারিক হোসেন তিন কার্য দিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা তলব করে গত ২৩ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করেন। যার স্মারক নং- উশিঅ/জয়/সদর-৫০১।

মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদদের স্মরণে গত বুধবার একযোগে দেশব্যাপী ৩০ লাখ বৃক্ষ রোপনের জন্য কর্মসূচী হাতে নেয় সরকার। জয়পুরহাটে এই কর্মসূচী সফল করার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত সংখ্যক বৃক্ষ রোপনের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন।সে মোতাবেক সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের প্রধান শিক্ষকগণের মাসিক সমন্বয় সভায়ও বৃক্ষ রোপনের বিষয়টি আলোচনা হয়।

যেখানে কর্মসূচী সফল করতে সকল শিক্ষকগণকে এর গুরুত্ব তুলে ধরে বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। জাতীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে সরকারি নার্সারি কর্তৃক সরবরাহকৃত নির্ধারিত সংখ্যক বৃক্ষ রোপনের কথা আগে থেকে প্রধান শিক্ষকদের জানিয়ে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্তরিকতার সাথে সরকারি নির্দেশনা মেনে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীতে অংশ নিলেও বিরত থাকেন বানিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগম।

রোপনতো দুরের কথা,সরকারি নার্সারি থেকে তাঁর বিদ্যালয়ের বরাদ্দ করা বৃক্ষও তিনি সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেননি। বিদ্যালয়ে গাছ রোপনের কোন জায়গা নেই বলে তিনি ওই সব নির্দেশনা উপেক্ষা করে ওইদিন (বুধবার) বৃক্ষরোপন কর্মসূচী থেকে বিরত থাকেন। এ ঘটনায় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে চূড়ান্ত অবহেলা এবং উদাসীনতার জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর ওই নোটিশ পাঠানো হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান কারণ দর্শানোর কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন,‘বুধবার ওই শিক্ষকের কারণ দর্শানোর জবাব দাখিলের শেষ দিন। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

কিউএনবি/রেশমা/২৫শে জুলাই, ২০১৮ ইং/সকাল ৮:৪৯