১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ২:১৮

বিশ্বকে জানাতেই হামলা

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা ও লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞের তদন্ত শেষে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ওই হামলার দুই বছর ২২ দিন পর গতকাল সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দাখিল করা হয়েছে এই চার্জশিট। এতে নব্য জেএমবির ২১ জঙ্গির সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন অভিযানে ১৩ জন নিহত হওয়ায় জীবিত আটজনকে আসামি করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। তদন্তকারী সংস্থা জানায়, ওই আটজনের মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। অভিযুক্ত দুই জঙ্গি পলাতক।

দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোড়িত ওই ঘটনার তদন্তকাজ শেষ করে গত ১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। অনুমোদন পাওয়ার পর গতকাল বিকেলে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিটিটিসি ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। তবে হলি আর্টিজান বেকারি থেকে মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের মধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হাসনাত করিমের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানান তদন্তকারীরা। এ কারণে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক এই শিক্ষককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে চার্জশিটে। এ ছাড়া জিম্মি উদ্ধার অভিযানের সময় নিহত হলি আর্টিজানের পাচক সাইফুল ইসলাম এবং পাচকের সহকারী শাওনেরও সম্পৃক্ততা মেলেনি বলে জানান তদন্তকারীরা।গতকাল দুপুরে সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে চার্জশিটের বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

সিটিটিসি ইউনিট ও আদালত সূত্রে জানা যায়, হলি আর্টিজানে হামলার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং আসামিদের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। এতে বলা হয়েছে, ওই হামলার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত করে সরকারকে চাপে ফেলাও ছিল উদ্দেশ্য। হামলাকারীরা মনে করেছিল, এতে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবে। হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল ঘটনার পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে। তবে হামলাকারীদের কারো সঙ্গে ইসলামিক স্টেট (আইএস), আল-কায়েদা বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। ৬৮ পৃষ্ঠার চার্জশিটে মোট ২১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আলামত জব্দ করা হয়েছে ২৫ ধরনের ৭৫টি। আগামী ২৬ জুলাই এ মামলার শুনানির জন্য তারিখ ধার্য আছে। ওই দিন মামলাটি সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা। পরে এ মামলায় বিচার হবে সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে।

ব্রিফিংয়ে সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। সেই রাতে যে মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছিল, সেই মামলাটি গত দুই বছর তদন্ত শেষে আজ (সোমবার) চার্জশিট আদালতে পাঠিয়েছি। এর আগে চার্জশিটের খসড়া প্রস্তুত করে নিয়মানুযায়ী আইন মেনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চার্জশিটে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে ২১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনায় যারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল তাদের পাঁচজনই হলি আর্টিজানে নিহত হয়। বাকি আটজন বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে। জীবিত আটজনের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজনকে ধরতে পারিনি।’

অভিযুক্ত ছয় গ্রেপ্তারকৃত আসামি হলো গাইবান্ধার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, নওগাঁর আসলাম হোসেন ওরফে আসলামুল ইসলাম ওরফে রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, কুষ্টিয়ার আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, জয়পুরহাটের হাদীসুর রহমান ওরফে সাগর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান ও বগুড়ার রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান। পলাতক দুজন হলো বগুড়ার মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও রাজশাহীর শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ। অভিযুক্ত সবাই নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিটিটিসি ইউনিট ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ৬(২)/৭/৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় আসামিদের বিচারের ব্যবস্থা করতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এতে হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে আছে তামিম চৌধুরী, সারোয়ার জাহান, তানভীর কাদেরী, মারজান, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট, রাশেদ ওরফে র‌্যাশ ও বড় মিজান। হামলাকারী দলের নেতৃত্বে ছিল রোহান ইমতিয়াজ।

সাক্ষ্যপ্রমাণে তিনজনের বিরুদ্ধে সন্দেহ কেটেছে : মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই মামলায় মোট সাক্ষী ২১১ জন। এদের মধ্যে ১৪৯ জন ঘটনা সম্পর্কে জানে বা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ঘটনা দেখেছে। সব মিলিয়ে ৭৫টি আলামত আদালতে পাঠানো হয়েছে। যারা কর্মচারী ছিল এমন একটা বড় সংখ্যার মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে এসেছে। যাদের আমরা সাক্ষী হিসেবে দিয়েছি, তারা যদি সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আদালতে যথাসময়ে না আসে সে ক্ষেত্রে আগে নেওয়া জবানবন্দি রেকর্ড হিসেবে আদালতের অনুমতি নিয়ে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য বিভিন্ন আলামত আমরা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিলাম, সেই রিপোর্টও এসেছে। সেগুলোও আমরা আদালতে পাঠিয়েছি।’

মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ ঘটনায় হাসনাত করিম, সাইফুল চৌকিদার ও শাওনের জড়িত থাকার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। যারা পালিয়ে আছে, তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আদালতে ওয়ারেন্ট ইস্যু করার দাবি জানানো হয়েছে। যেহেতু হামলার ঘটনায় হাসনাত করিমের নামে কোনো অভিযোগ আসেনি, তাই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

হামলার পর প্রকাশিত ছবি নিয়ে হাসনাত করিমের ব্যাখ্যা কী জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সেই ছবিগুলো আমরা বিশ্লেষণ করেছি। সেই বিশ্লেষণের ফলাফল আদালতে ব্যাখ্যা করেছি। যাদের জীবিত উদ্ধার করেছি, এমন ১৭ জনের জবানবন্দি আদালতে দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি যে আসামি জীবিত উদ্ধার হয়েছে, তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং আলামত যাচাই-বাছাই করে যাদের সম্পৃক্ততার নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের নাম চার্জশিটে দেওয়া হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় আটক কানাডার টরন্টো ইউনির্ভাসিটির ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে এক বছর আগে এই মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।’

অভিযুক্ত জীবিত আটজনের ভূমিকা : সিটিটিসি ইউনিট সূত্রে জানা যায়, চার্জশিটে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী। সংগঠনের উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার রাজীব ২০১৬ সালেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। সে ছিল তামিমের সহচর। হলি আর্টিজানে হামলার অস্ত্র ও বোমা সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণ পরিকল্পনায় ছিল রাজীব গান্ধী। ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরে আস্তানায় অভিযানের পর জীবিত গ্রেপ্তার করা হয়েছিল রাকিবুল হাসান রিগ্যানকে। সে ছিল হামলায় অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষক এবং গাইবান্ধা ও ঢাকায় প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সহায়ক। উত্তরাঞ্চল থেকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান। তাকে গত বছর গ্রেপ্তার করে সিটিসিসি ইউনিট। আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ওরফে র‌্যাশ ছিল হামলার সময় বারিধারা থেকে পরিচালিত শেল্টার হোমের সমন্বয়ক। চলতি বছর সর্বশেষ গ্রেপ্তার সামরিক কমান্ডার হাদিসুর রহমান সাগরও ছিল প্রশিক্ষক। হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচ তরুণকে ঝিনাইদহ থেকে গাইবান্ধায় নিয়ে গিয়েছিল সাগর। আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা সোহেল ছিল অস্ত্র ও বোমার সরবরাহকারী। পলাতক শরিফুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার। খালেদই বগুড়ার দুই জঙ্গিকে সরবরাহ করেছিল। হামলা সংঘটিত করার পরিকল্পনায় ছিল দুই জঙ্গি। সিটিটিসি ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আসামিদের মধ্যে রিপন ও খালেদ ভারতে পালিয়ে গেছে বলে তাঁদের কাছে তথ্য আছে।

যেভাবে প্রস্তুতি ও হামলা : চার্জশিটের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের এপ্রিলে গাইবান্ধায় শুরা কমিটির বৈঠকে ঢাকায় হামলার জন্য পাঁচজন হামলাকারী বাছাইয়ের জন্য সামরিক কমান্ডার শরিফুল ইসলাম ওরফে খালিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঢাকার সামরিক কমান্ডার আবু রায়হান ওরফে তারেক (কল্যাণপুরে নিহত) তিনজনের নাম দেয়। তারা হলো রোহান ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম ও সামিহ মুবাশ্বীর। তিনজনই ঢাকার ইংরেজি মাধ্যমে পড়া উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। আর উত্তরবঙ্গের কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী দেয় উজ্জ্বল ও পায়েলের নাম। একজন কলেজে, অপরজন মাদরাসার ছাত্র। তারা বগুড়ার দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সূত্র মতে, এই ছয়জন ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সিরিয়ায় যাওয়ার জন্য বাড়ি ছেড়েছিল। তাদের প্রথমে ঢাকার মিরপুর, কল্যাণপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা ও পাবনার জঙ্গি আস্তানায় রাখা হয়। এরপর নিবরাসসহ কয়েকজনকে ঝিনাইদহে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে প্রশিক্ষিত করে তোলে হাদিসুর রহমান সাগর। এরপর পাঁচজনকে ঢাকায় এনে বুড়িগঙ্গায় গ্রেনেড ছুড়তে শেখানো হয়। ২০১৬ সালের মে মাসের শুরুতে জঙ্গিদের নেওয়া হয় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ফুলছড়ির বোনারপাড়ার চরে। পাঁচ তরুণকে ২৮ দিন প্রশিক্ষণ দেয় মেজর (অব.) জাহিদুল, তামিম, মারজান, রিগ্যান, খালেদ, রিপন, রাজীব গান্ধী ও মানিক। প্রধান প্রশিক্ষক জাহিদুল একে-২২ রাইফেল ও পিস্তল চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়। তারেক শেখায় বোমার ব্যবহার। হামলার মাত্র তিন দিন আগে নিবরাস ও রোহান দলের নেতাদের হলি আর্টিজানের ব্যাপারে তথ্য দেয়। ২৭ জুন তারা দুজন মারজানকে নিয়ে প্রথম হলি আর্টিজান রেকি করে। পরদিন ২৮ জুন রেকি করে বাসারুজ্জামান, উজ্জ্বল ও পায়েল। ওই রাতেই তামিমসহ নেতারা তানভীর কাদেরীর বাসায় বসে চূড়ান্ত হামলার ছক কষে। তামিম নিজেও হলি আর্টিজান রেকি করে ২৯ জুন সন্ধ্যায় রোহানকে হামলার নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয়।

যে কারণে দুই বছর লাগল : মনিরুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘যারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল তারা ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিল, যার কারণে তদন্ত করতে গিয়ে সময় লেগেছে। আবার কিছু জীবিত ছিল, যাদের ধরতে বিভিন্ন অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযানেও অনেকে মারা যায়। ফলে আলামত পরীক্ষা ও প্রাপ্ত ফল পর্যালোচনা করতে সময় লেগে যায়। অভিযানকালেও বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে, যাদের জীবিত ধরতে পারলে আরো বেশ কিছু তথ্য পেতে পারতাম, আরো দ্রুত তদন্ত শেষ হতো। এ ছাড়া তদন্ত যাতে নির্ভুল হয়, এ কারণে আমাদের কিছু সময় লেগেছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলার সময় এজাহারে কারো নামই উল্লেখ ছিল না। অনেকেই আমাদের হাতে আটক ছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে যাদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে কেবল তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্রে নাম এসেছে।’

আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা মেলেনি : আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি দেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠী তথা নব্য জেএমবি করেছে। এ ঘটনায় তামিম, সারওয়ার, মারজানের মতো নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতাদের কাউকেই জীবিত গ্রেপ্তার করতে পারিনি, তারা অভিযানে নিহত হয়েছে। এদের জীবিত গ্রেপ্তার করতে পারলে নিশ্চিত হতে পারতাম। কিন্তু অন্য যাদের জীবিত গ্রেপ্তার করেছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আমাদের টেকনোলজিক্যাল এভিডেন্সে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাইনি। তবে আমরা মনে করি, তদন্তে আমাদের যে একটা ল্যাকিংস (দুর্বলতা), সেটি ছিল। যেসব কেন্দ্রীয় নেতা বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে, এদের জীবিত গ্রেপ্তার করা গেলে আরো তথ্য পেতে পারতাম। এ ঘটনায় সাইফুল্লা ওযাকির বা বিদেশে অবস্থানরত অন্য কারো নাম কিংবা আন্তর্জাতিক সংগঠনের নাম পাইনি। নব্য জেএমবির নেতাদের সঙ্গে থাকলেও থাকতে পারত। তবে তামিম যেহেতু নেতা, আন্তর্জাতিক কারো সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারই করার কথা ছিল। এ ছাড়া তার ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো অভিযানের আগেই ধ্বংস করে পুড়িয়ে দিয়েছে। তাই বিদেশি কোনো সংগঠন, আইএস কিংবা আল-কায়েদা, হিযবুত তাহ্রীর কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য আমরা পাইনি।’

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার সময় পাঁচ জঙ্গি গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায়। তারা দেশি-বিদেশি ২০ জনকে গুলি করে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরদিন সকালে প্যারা কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়। আগের দিন হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে পুলিশের এএসপি রবিউল করিম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন আহম্মেদ নিহত হন।

 

কিউএনবি/ অদ্রি / ২৪.০৭.১৮ / সকাল ৯.০০