২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৫:১১

পাকিস্তানের নির্বাচন : ফ্যাক্টর জঙ্গি, পীর, সেনা!

 

ডেস্কনিউজঃ নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতা আর নানা ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রায় ২০ কোটি পাকিস্তানি। দেশটির আসন্ন এই নির্বাচনকেই ইতিহাসের সবচেয়ে দূষিত নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা। বিশ্বের অন্যতম প্রধান উন্নয়নশীল অর্থনীতি ও পারমাণবিক শক্তিধর মুসলিম প্রধান এ দেশটিতে নির্বাচনকালীন আবহাওয়া নিয়ে তাই কৌতূহল রয়েছে এর আঞ্চলিক প্রতিবেশীসহ বিশ্ববাসীর।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামী পরশু, বুধবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন। কিন্তু এর সপ্তাহ দুয়েক আগেই দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ দেশে ফিরে কন্যাসহ গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গত মাসখানেক সময়ে বেশকিছু নির্বাচনী প্রচারণায় আত্মঘাতী হামলার ঘটনাও প্রশ্ন উসকে দিয়েছে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে। তবে এসব ছাপিয়েও শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং এর সঙ্গে পীর বা সুফি সাধক ও জঙ্গি সম্প্রদায়গুলো এই নির্বাচনের অন্যতম প্রভাবক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই পাকিস্তানে সামরিক-বেসামরিক শাসনের দ্বন্দ্ব প্রকট। কোনো একটি বেসামরিক সরকার আরেকটি বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার ঘটনা এর আগে কেবল একবারই ঘটেছে। সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের আশঙ্কার মধ্যেও আশা আছে, এবার দ্বিতীয়বারের মতো ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশটির গণমাধ্যমকে ব্যাপক ভয়ভীতি প্রদর্শন ও স্বাধীনতায় বাধা দিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। অনেকের ধারণা, আবারও নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করে আনতে নির্বাচনী কৌশল সাজানোয় সচেষ্ট সেনাসদস্যরা।

নির্বাচনে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের অংশগ্রহণও পাকিস্তানের এই নির্বাচনে বড় চিন্তার বিষয়। এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় একাধিক সহিংসতার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দেড় শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে দুয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে তালেবান ও আইএস। নির্বাচনকে ঘিরে তাদের এমন তৎপরতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, পাকিস্তানের অসংখ্য সুফি নেতা বা পীর বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে তাদের সমর্থন ঘোষণা করে তাদের পক্ষে ভক্ত অনুসারীদের ভোট দেওয়ার ‘আদেশ’ দিচ্ছেন। অনেক পীর বা তাদের বংশধর নিজেরাও সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন বলছে, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার জন্য আক্রমণাত্মক ও নির্লজ্জ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা পাকিস্তানের একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার জন্য আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে নওয়াজ শরীফের দল পিএমএল-এন’র সঙ্গে ইমরান খানের দল পিটিআই’র হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এ ছাড়া বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলওয়াল ভুট্টো জারদারির দল পিপিপি তৃতীয় অবস্থানে থাকতে পারে। তবে নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপ যে কথাই বলুক না কেন, পাকিস্তানে ক্ষমতায় বসার ক্ষেত্রে কলকাঠি নাড়বে জঙ্গি, পীর অথবা সেনারাই।

এদিকে, পিএমএল-এন’র অভিযোগ, আদালতের সহায়তা নিয়ে দেশটির শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। অনির্দিষ্ট নির্বাচনী আইন ভঙ্গের দায়ে সারাদেশে দলটির প্রায় ১৭ হাজার সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, রোববার (২২ জুলাই) করাচিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান ইমরান খান অভিযোগ করেছেন, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী নওয়াজ শরিফ ভারতের স্বার্থ রক্ষা করছেন। একইসঙ্গে তিনি ২৫ জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্টের চেষ্টা করেছেন।

ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান দাবি করেছেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্টের লক্ষ্যে বড় ধরনের খেলা চলছে। তবে সম্প্রতি ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে দেশটির পীর বা সুফি সাধকদের সমর্থন পেয়েছেন তিনি।

ইমরান খানকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে একজন পীর বলেন, রাজনীতি আর ধর্ম পরস্পর জড়িত বিষয়, অনেকটা রেললাইনের দুইটি লাইনের মতো। আমরা একদিনেই এই সিদ্ধান্ত নেইনি। গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পণ্ডিতদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পরই আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ওই সম্মেলনে ইমরান খান ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পাকিস্তানকে একটি ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্র বানাতে চান। এর আগের ক্ষমতাসীন দল পিএমএল-এন পার্টিও এমন ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর বেশিরভাগের সমর্থন পেয়েছিল।

গবেষণা বলছে, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের মোট সদস্যের মধ্যে ১৬ শতাংশ পীর অথবা তাদের কোনো বংশধর। তবে অনেক পীর নিজেরা সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিয়েও অন্য প্রার্থীদের নির্বাচন জয়ে সহায়তা করেন।

 

কিউএনবি/বিপুল/২৩শে জুলাই, ২০১৮ ইং/রাত ১০:৪৮