১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:২১

প্রার্থী হব না, স্বেচ্ছাচার থেকে মুক্তি চাই: বদরুদ্দোজা চৌধুরী

 

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছেন চলমান রাজনীতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিজানুর রহমান খান

 

: আপনাদের ঐক্যপ্রক্রিয়া বা যুক্তফ্রন্ট গতি পাচ্ছে কি? কবে হবে?

এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী: আলাপ-আলোচনা চলছে, একটু সময় তো লাগবেই। যদিও জানি যত তাড়াতাড়ি হয় তত ভালো। কবে হবে তা সংখ্যা দিয়ে বলতে পারব না।

: ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম দূরে কেন?
বি. চৌধুরী: এটা আমি এখন কিছু বলতে পারব না। তিনি তো এসেছেন, সাদা কাগজে সই দিতেও প্রস্তুত জানিয়েছেন। এমনকি ‘আমি যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী’ মর্মে তিনি একটি কাগজে সইও করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি একাই করেছেন। বাক্যটির খসড়া তৈরি করেছিলেন আমাদের দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। আমার কোনো শর্ত নেই। যাঁরা আন্তরিকভাবে গণতন্ত্র চান, তাঁরাই যুক্তফ্রন্টে আসতে পারেন।

: জামায়াতও গণতন্ত্র চায়?
বি. চৌধুরী: প্রত্যেক দলের রাজনীতি করার অধিকার আছে। কিন্তু তাদের রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়।

: পঞ্চম সংসদে জামায়াত নিষিদ্ধ ও ইনডেমনিটি বিল বাতিলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনারা একটি বৃহত্তর ঐক্যে যাচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছিল। কেন ভেঙে গিয়েছিল?
বি. চৌধুরী: আমরা একটা চেষ্টা করেছিলাম। এ নিয়ে বেশি কথা এখন বলতে চাই না। কারণ তারা এখন নিজেদের তৈরি সংসদে বসে নানা ধরনের কটুকথা বলছেন। এটা নির্বাচনের প্রচারণার সময় বলব। ওই সময় সবই বলব, কোনো কিছুই বাকি থাকবে না।

: এমন কিছু অপ্রকাশিত আছে কি, যা দেশবাসী জানে না।
বি. চৌধুরী: হ্যাঁ, দু-চারটি কথা তো আছেই। একটি উদাহরণ দিই। আপনার মনে আছে, সংবিধানে উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ আগে থেকেই ছিল, সেটি বিলোপ করা হয়েছিল। কেন করা হয়েছিল, সেখানেও কথা আছে। একটা খোঁচা দিয়ে রাখলাম, সবটা এখন বলব না। (হাসি) পাঠকের চিন্তার খোরাক দিলাম। আমাদের রাজনীতি ওপরে উঠতে পারে, নিচেও নামতে পারে।

: ঐক্যপ্রক্রিয়া তো নির্বাচনী, কিন্তু তা নিরাময়ের কী হবে, বিএনপি কি সত্যিই ইনডেমনিটি বিল বাতিল চেয়েছিল?
বি. চৌধুরী: যখন যার জন্যই হোক, এটা মানতে হবে যে ইনডেমনিটি বিল অগণতান্ত্রিক। তখন এ নিয়ে মোটামুটি আলোচনা হয়েছিল। আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, বাগ্‌ড়ম্বরে নই। তাই কেন ইনডেমনিটি বাতিল চাইব না? প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অসীম হবে তা তো হওয়া উচিত নয়। এখানে যে অসীম ক্ষমতা দেওয়া আছে, সেটাও একধরনের দায়মুক্তি। হ্যাঁ, প্রধানমন্ত্রী যত খুশি বিদেশ ভ্রমণে বা যত খুশি টাকা খরচ করতে পারেন, কিন্তু তার সমালোচনাও আছে। ইংল্যান্ডের মহারানিরও ঢালাও ইনডেমনিটি নেই। কিন্তু আমাদের দেশে যারা সমান্তরাল অবস্থানে আছে, তাদের বিবিধ দায়মুক্তি আছে।

: সুষ্ঠু ভোট, সংসদ ও সরকার পরিচালনার বড় বাধা অবিশ্বাস। বঙ্গবন্ধু হত্যা বিএনপি আজও যখন রাজনৈতিকভাবে ধারণ করে, এরপর একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা—
বি. চৌধুরী: পঁচাত্তরে বিএনপির তো জন্মই হয়নি।

: জন্ম না হলেও পরে বিএনপিতে যারা ভিড়েছে, তারা ধারণ করেছে।
বি. চৌধুরী: না, তা কেন হবে। কেন তারা ধারণ করবে? প্রয়োজন নেই। কারণ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। এ নিয়ে বহু ধরনের কথাবার্তা আছে, এটা দ্রুত শেষ হবে না।

: যুক্তফ্রন্ট সরকারে গেলে প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে?
বি. চৌধুরী: গত রমজানে এ বিষয়ে আমরা একটি ছোট্ট বিবৃতি দিয়েছি। তাতে বলেছি, গণতন্ত্র ক্রমাগত নিহত হচ্ছে। নির্বাচন হলো অথচ গণতন্ত্র না হওয়ার একটা ঝুঁকি আছে। সেটা ঘটলে কী হবে? প্রথমত, ’ক্ষমতাসীন দল বেআইনিভাবে জয়ী হলে তাদের ÿক্ষমতা সীমাহীনভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তখন যাঁরা ছোট দল করেন বা মাঝারি পর্যায়ের নেতা, তাঁদের জীবন-জীবিকা সংকটাপন্ন হবে। একটা বিরাট নৈরাজ্য হবে।
আবার কোনো কারণে বিএনপি যদি এককভাবে ক্ষমতায় চলে আসে, তাহলে আবার অন্য রকম একটা আশঙ্কা আছে।

: ওবায়দুল কাদের যেমনটা বলেছেন, প্রথমেই রক্তের গঙ্গা বইবে। একটা প্রতিহিংসার ঝুঁকি থাকবে।
বি. চৌধুরী: ঠিকই ঝুঁকি থাকবে। একটা দারুণ বিস্ফোরণ ঘটবে। কারণ তাদের ওপর জুলুম চালানোটা যেমন সত্য, কিন্তু আমরা তো কোনো ধরনের অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি, তা যারাই যখন করুন, আমরা তা সমর্থন করতে পারি না। সে জন্য আমরা একটি ব্যালেন্স অব পাওয়ার (ক্ষমতার ভারসাম্য) সৃষ্টি করতে চাই। যুক্তফ্রন্ট সরকার বিরোধী দলের ওপর কোনো জুলুম করতে পারবে না। যারা যুক্তফ্রন্টকে ভোট দেবে না, সমর্থন করবে না, তারা অবশ্যই প্রতিহিংসা মুক্ত থাকবে।

: তাহলে কি আপনি ঐক্যপ্রক্রিয়ায় বিএনপিকে অন্তর্ভুক্ত করছেন?
বি. চৌধুরী: আপনারা তো তেমনটাই মানে করছেন। তবে সেখানেই প্রশ্ন আসছে নিয়ন্ত্রণটা কীভাবে হবে। আমরা যে নির্বাচনে বিজয়-পরবর্তী একটা জেল-জুলুমমুক্ত সম্প্রীতির পরিবেশ চাইছি, সেটা নিশ্চিত করতেই হাতে লাগাম থাকতে হবে। আর সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ১৫০ আসনের ভাগাভাগির বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

: বিএনপি যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে আপনি কেন আশা করছেন যে তার ওপরে আপনার বা যুক্তফ্রন্ট নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
বি. চৌধুরী: সেই প্রশ্ন, সেই উদ্বেগ তো আমাদেরও। সে কারণেই আমাদের ভাবনাচিন্তা হলো, তারা ১৫১ আসনের থেকে কম আসনে প্রার্থী দেবে। এটাই সবচেয়ে সহজ বিকল্প। জিয়াউর রহমান সাহেবের জীবদ্দশায় বিএনপি ২২০টির মতো আসন পেয়েছিল। কিন্তু তারপর আর কখনো তারা এত আসন পায়নি। একবার সর্বোচ্চ ১৬৪ বা কাছাকাছি একটা আসনসংখ্যা ছিল। তার মানে ১৪০ আসনে বিএনপি হারে। কাজেই তাদের আমরা ১৫০ আসন ছাড়তে বললে সেটা তাদের কাছে এতটা বিশাল মনে হবে কেন?

: এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দেড় শ করে আসনে প্রার্থী দেবে বলে একটা কথা ছিল।
বি. চৌধুরী: এই ফমু‌র্লা লিখিত রূপ পায়নি, আলোচনায় ছিল। কারা এ রকম প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা জানা নেই। তবে সেই আলোচনা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। আমরা এখন বিএনপির মহাসচিবের কাছ থেকে বিকল্প প্রস্তাব পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। কারণ তাঁর সঙ্গে আলোচনার পরে তিনি বলে গেছেন, আমরা বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আসব।

: মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সব শেষ কোথায়, কবে আলোচনা হলো? কী কথা বলেছিলেন তিনি?
বি. চৌধুরী: এই যে আমরা যেখানে বসে আছি, এই ছোট ঘরটিতেই, এটি নামাজের ঘর। এই ঘরেই আমি ভালো ভালো চিন্তা করি। তিনি শুনে বলেছিলেন, আচ্ছা আপনারা তো একটা ভারসাম্য আনতে চান, আমাদের ভাবতে দিন। ছয় দিন (১২ জুলাই) হয়ে গেল। এখনো যোগাযোগ হয়নি। বোঝা যায়, এমন প্রস্তাব শুনতে তাঁরা প্রস্তুত ছিলেন না। আমি পরিষ্কার করে বলি, ১৬০ আসনই তাঁদের সর্বোচ্চ নাম্বার। শহীদ জিয়ার নির্বাচনী আমল ভুলতে হবে, কারণ সেই সময় দেশের মানুষ প্রথমবারের মতো বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রবেশ করেছিল, সেটা ভিন্ন পরিবেশ ছিল। তিনি সে সময় ছিলেন দারুণ জনপ্রিয়।

: আমরা শুনেছি, তিনি আপনাকে তাৎক্ষণিক এ প্রস্তাব মানতে তাঁর অপারগতা প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, এত বড় দলের পক্ষে এত বেশি আসন ছেড়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
বি. চৌধুরী: দেখা যাক, প্রস্তাব তো তিনি বাড়িতে নিয়ে গেছেন। নিশ্চয় সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। সুষ্ঠু ভোট হলে ভিন্ন ভিন্ন কারণে তাঁরা জনসমর্থন পাবেন। বিশেষ করে তাঁরা এ সরকারের বিপক্ষে অনেক নেগেটিভ ভোট পাবেন। কারণ আওয়ামী লীগ এতটাই ভুল করে গেছে যে, গণতন্ত্র এতটাই নিচে নেমেছে যে, মানুষের বাঁচার অধিকার এতটাই গৌণ বিষয় হয়ে গেছে যে—

: আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, তা কি অস্বীকার করবেন?
বি. চৌধুরী: না, অবশ্যই উন্নয়ন হয়েছে। অস্বীকার করার প্রশ্নই আসে না। আপনার বাড়িতে পাঁচতলা দালান হলো, আপনার আয়-উপার্জন বাড়ল, ঠিক আছে। কিন্তু ছেলে স্কুলে যেতে পারল না। কেউ তাকে হাতুড়িপেটা করল। এটা সেই পোষা কুকুর বনাম রাস্তার কুকুরের গল্প। কেউ বলল, তুই তো বড়লোকের কুকুর, বেশ হৃষ্টপুষ্ট। কুকুরটি বলল, মোটাসোটা ঠিকই, কিন্তু আমার তো গলায় শেকল। মানুষ তো তার অধিকারহারা হতে চায় না। সে অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়। সে কবিতা, গান লিখতে চায়। মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চায়। আমার ছেলে কেন মারা যাবে। মেয়ে কেন স্কুলে যেতে পারবে না। তার জবাব মিলবে না। আপনি সোনার চামচে পোলাও-কোর্মা খাওয়াবেন? আবার অন্য দিকে আপনি এক টাকার কাজ চার টাকায় করছেন। তার মানে উন্নয়ন বাজেটের চার ভাগের মধ্যেই তিন ভাগ চুরি করছেন। যা উন্নয়ন দেখাচ্ছেন, তার থেকে চার গুণ বেশি ভালো হতে পারত। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। একটা লোক গুম হতে পারবে না। একটা লোক গ্রেপ্তার হলে কোর্টে আনুন, যাচাই করতে না পারলে ছেড়ে দিতে হবে। ভোটার ও বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার করা যাবে না। যুক্তফ্রন্ট সরকারে গেলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে এসব অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

: এ সমাজ থেকেই আওয়ামী লীগ ওঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ তো আপনি, আমরাই। তাহলে কেন এমন হচ্ছে? এর ব্যাখ্যা কি?
বি. চৌধুরী: এর আসল ব্যাখ্যা ওনারা (আওয়ামীলীগার) দিতে পারবেন। রাজনীতি গবেষক হিসেবে বলতে পারি, ক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। ক্ষমতাটা নিরঙ্কুশ হয়ে গেছে। নইলে আমাদের ছেলেদের এভাবে মার খেতে হবে কেন? যারা মারছে তারা জানে কোনো বিচার-আচার হবে না। ওপর থেকে কেউ ধমকাবে না, গ্রেপ্তার হতে হবে না। একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটের পর বলে দিলেন তাতে কী হয়েছে। এটা তো বাদামের খোসা। এটা হলো গোটা জাতিকে উপহাস করা। তারপর ঘুষকে ঘুষ না বলে আপনি স্পিড মানি বলবেন। এটা কি স্বাভাবিক, শোভন? ক্ষমতা নিরঙ্কুশ হয়ে গেছে বলেই এসব উচ্চারণ করা সম্ভব হচ্ছে।

: বিএনপির সঙ্গে ঐক্য না হলেও কি নির্বাচনে যাবেন, নাকি আপনারা বয়কট করতে পারেন? তত্ত্বাবধায়কে আস্থা কম নাকি বেশি?
বি. চৌধুরী: এটা নির্ভর করে নির্বাচনী-প্রক্রিয়া কী হয় তার ওপর। একধরনের একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতেই হবে। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার অধীনে নয় কেন। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তো ঘোরতর বিরোধী ছিলেন, পাগল ও শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নন, বলেছিলেন। আমরা তাঁকে বলেছি, মেনে নিন, অসুবিধা কী। ভোররাতে বিল পাস হয়েছিল। এই ধারণাটা আসলে জামায়াতের, লুফে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

: তারা ১৯৯৬ সালে যে চাপ দিতে পেরেছিল, সেটা আপনারা ঐক্যবদ্ধ হলে দিতে পারবেন?
বি. চৌধুরী: আমি আশা করি। কারণ বিএনপি প্রস্তাব মানলেই মানুষ আশার আলো দেখবে। আর বাংলার মানুষ একবার আশার আলো দেখলেই অন্য রকম হয়ে যায়। এটা ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে। স্বাধীনতা আন্দোলনেও তাই দেখা গেছে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের বিজয়েও তা-ই ঘটেছিল। আমার বাবা ছিলেন যুক্তফ্রন্টের অন্যতম সেক্রেটারি।

: কিন্তু আপনি মানবেন যে বিএনপির পক্ষে আপনার ফর্মুলা মানা কঠিন। নির্বাচনের আগেই সরকার করতে না পারার শর্ত তাদের প্রার্থীরা আবেগেই উড়িয়ে দিতে পারেন।
বি. চৌধুরী: আপনার যুক্তি অনস্বীকার্য। প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার বেগ ও আবেগ দুটোই থাকতে পারে।

: আপনি বিএনপিকে শুধু একক সরকার না করতেই বলছেন না, একই সঙ্গে আপনি প্রকারান্তরে প্রধানমন্ত্রিত্বও জিয়া পরিবারের বাইরে আনার প্রস্তাব দিচ্ছেন। মালয়েশিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিম মাহাথির পেয়েছেন, বাংলাদেশের মাহাথির কে হবেন?
বি. চৌধুরী: আপনি ভালো প্রশ্ন করেছেন, এটা প্রাসঙ্গিক কিন্তু কঠিন নয়। আমি এ বিষয়ে অস্পষ্ট কথা বলতে চাই না। আমি মালয়েশিয়ায় একজনকে পাঠিয়েছিলাম, কাল (১৩ জুলাই) আসবেন। তারা এ বিষয়ে কি ডকুমেন্টস তৈরি করেছিল, তার একটা কপি আমি পাব। অ্যাটর্নি জেনারেলসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে কাকে, কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে, তা আইনজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঠিক করেছিলেন। তবে আরেকটি বিষয় আমি নিরঙ্কুশভাবে পরিষ্কার করতে চাই যে দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এমনকি সাংসদ হতে আমার কোনো অভিলাস নেই। আমি দেশে একটি স্বেচ্ছাচারমুক্ত, সুন্দর গণতন্ত্রের বাংলাদেশ দেখে মরতে চাই।

: তার মানে আপনি বিএনপি এবং ঐক্যপ্রক্রিয়ার মিত্রদের কাছে অঙ্গীকার করছেন যে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনে যোগ্য হলেও আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি পদ নেবেন না।
বি. চৌধুরী: আমি নিরঙ্কুশভাবে আমার এ কথার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। আমি এটা দেখাতে চাই যে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি স্বপ্ন ছিল এবং জীবন সায়াহ্নে আমি সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

: আপনার ঠিক বয়স কত?
বি. চৌধুরী: আগামী ১১ অক্টোবরে ৮৭ পূর্ণ হবে, ৮৮তে পা দেব, যদি বেঁচে থাকি।

: ড. কামাল হোসেন এবং আপনাকে নিয়ে অনেকের ভাবনা আছে। যদি বিশেষ অনুরোধ আসে।
বি. চৌধুরী: আমি আর হব না। আমি দেখাতে চাই, বুঝতে চাই, ভাবতে চাই, বলে যেতে চাই যে ক্ষমতা ছাড়া দেশের জন্য কিছু করার লোক আছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য থেকেও যাতে এমন লোক আসে। দেশের উপকারে আসতে চাই।

: রাষ্ট্রপতি থেকে পদত্যাগ করার আগের দিন বঙ্গভবনে আপনি আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। যে কারণে আপনি পদত্যাগ করেছিলেন, সেই সন্দেহ-অবিশ্বাস রাজনীতিতে রয়ে গেছে। কিন্তু তা থেকে বেরোনোর কোনো ফর্মুলা দিচ্ছেন না।
বি. চৌধুরী: মাহাথির মোহাম্মদ যদি দেখাতে পারেন, তাহলে প্রফেসর বি. চৌধুরীর সহজে পারা উচিত। ইব্রাহিমের প্রতি মাহাথির তাঁর ভুল স্বীকার করেছেন, যদিও সে ভুল অমার্জনীয়। যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেটা রাজনৈতিক প্রতারণা। তাই মাহাথির একেবারে পূতপবিত্র কাজ করেননি। কিন্তু তদুপরি মোটামুটি গণতান্ত্রিক ও ভালো লোক হিসেবে জনগণের কাছে তাঁর একটা আবেদন ছিল। আশ্বস্ত করতে চাই যে যুক্তফ্রন্ট সরকার কারও প্রতি কোনো প্রকারের জুলুম বা নির্যাতন করবে না। আপনি আসন বণ্টনে জোর দিচ্ছেন। আসলে আমরা যে বলছি, রাজনৈতিক কারণে কারও প্রতি আমরা অন্যায্য আচরণ করব না, সেটা ফুটিয়ে তোলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

: বিএনপি না গেলে আপনি কি নির্বাচনে যাবেন? বিরোধী দলের নেতা হবেন? এ রকম একটা জল্পনাকল্পনা চালু আছে। সরকার আপনার সঙ্গে সম্পর্ক করার চেষ্টা করছে।
বি. চৌধুরী: শাবাশ, শাবাশ (হাসি)। আমি যদি ভোটেই না দাঁড়াই, তাহলে সংসদে বিরোধী নেতা কেমন করে হব? আর সরকার তো তেমন চেষ্টা করতেই পারে। এতে আশ্চর্যের কি আছে। যদিও এ পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের আমন্ত্রণ পাইনি। আগে (বছর তিনেক আগে) তবু ইফতারের দাওয়াত পেতাম, এবার তাও নয়।

: আপনি ভোটে এলেন না, আপনার ছেলে মাহী বি. চৌধুরী নির্বাচন করবেন নিশ্চয়?
বি. চৌধুরী: ছেলে হিসেবে নয়, রাজনীতিক হিসেবে সে নির্বাচনে দাঁড়ালে আপত্তি করার কি আছে? তবে সে যদি সন্ত্রাস বা দুর্নীতিতে দাঁড়ায়, তাহলে আপনারা সবাই মিলে তাকে প্রত্যাখ্যান করবেন।

: ১৪-দলীয় জোটে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা আপনি নাকচ করেন?
বি. চৌধুরী: এ ধরনের কোনো কথাবার্তা এখনো হয়নি।

: প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? ড. কামাল হোসেন?
বি. চৌধুরী: এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। সমঝোতা অনুযায়ী হবে। তাঁরা যদি ভাগ করে নেন, মেয়াদের এ অর্ধেক আমরা। বাকি অর্ধেক আপনারা, যেমন মাহাথির-ইব্রাহিম করেছেন। তখন?

: কাদের সিদ্দিকী, আ স ম রব, মাহমুদুর রহমান মান্না কী ভাবছেন?
বি. চৌধুরী: আগে বিএনপির বিকল্প প্রস্তাবটা আসুক, অপেক্ষা করুন। দেশের মানুষ এ নিয়ে ভাবছেন, তাঁরা বিকল্প প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ বিএনপি বড় পুরোনো দল। দ্বিতীয়ত, বেগম খালেদা জিয়ার ওপর সরকার যে আচরণ করেছে, তা যথাযথ নয়। সাধারণ মানুষ এটা সুনজরে দেখছেন না। ভোটের বিষয়ে তাঁর কিংবা ধানের শীষের আরও আবেদন বেড়েছে। মানুষ ব্যক্তিকে নয়, মূলত মার্কাকে ভোট দেয়। ২০ বছর ধরে চলে আসা এই রুলস আগামী নির্বাচনেও চলবে মনে হয়। ধানের শীষ ও বিএনপির গঠনতন্ত্রের বিধি ৭ (দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির পদে না থাকা) নিয়ে সরকার কী করে সেটা একটা সন্দেহের বিষয়। আপনারা পছন্দ করুন না-করুন, জিয়াউর রহমান একজন অত্যন্ত সৎ মানুষ ছিলেন। তিনিই ৭ ধারা যুক্ত করেছিলেন।

: মার্কা নিয়ে কলাগাছ দাঁড়ালেও জেতার অবস্থা বহাল থাকতে আপনারা তাদের থেকে ঢের দুর্বল হয়ে কেন আশা করেন যে বিএনপি অন্যদের জন্য তার মার্কা ছাড়বে। দল ও পরিবারের বাইরে প্রধানমন্ত্রী ভাববে। তাতে তার লাভ কি?
বি. চৌধুরী: বিএনপি এটা করবে, আমি কিন্তু তা বলিনি। আমার অবস্থান পক্ষপাতমূলক নয়। আমি উন্মুক্ত। বোঝেন না কেন, পরিবারে তো আরও লোক আছেন। সুতরাং তাঁদের প্রস্তাবটা আসতে দিন।

: দণ্ডিতের (খালেদা জিয়া) পরিবর্তে দণ্ডিত ও নির্বাসিতকে (তারেক রহমান) বিএনপির নেতৃত্বের আসনে বসানোর বিকল্প ছিল না? এটা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না?
বি. চৌধুরী: ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই-ই আছে। তবে সরকার অবশ্যই এ থেকে সুবিধা নেবে। বিএনপি বলবে এ বিচার সঠিক হয়নি। সুতরাং কার গলার জোর বেশি, কে মানুষকে আশ্বস্ত করতে পারে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। গোয়েবেলসীয় পদ্ধতিতে তাদেরকে মানুষের কাছে ভয়ংকর হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা সরকার চালাবে, কিন্তু সেটা কষ্টকর। কারণ ধানের শীষের ভোট বাড়ছে। এত বিরুদ্ধ প্রচারণা সত্ত্বেও ধানের শীষের ভোট বাড়ছেই, কমছে না। এর দুটো কারণ। প্রথমত, খালেদা জিয়ার সঙ্গে যে আচরণ চলছে, সেটার কারণে তারা পজেটিভ ভোট পাবে। আর দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের শাসনটা ভালো না হওয়া, সে জন্য তারা পাবে নেগেটিভ ভোট। বহু মানুষ নির্যাতিত হয়েছে। যখন-তখন গ্রেপ্তার, গুম হয়েছে, সেটা বাস্তবতা।

: কোটা সংস্কার?
বি. চৌধুরী: প্রধানমন্ত্রী সংসদে অঙ্গীকার করেছেন, সরকার এটা মানতে বাধ্য। মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ ভাগে হাত না দিলে আরও ৭০ ভাগ আছে তো। মেধার অনুপাতটা কম থাকবে, সেটা কেমন করে হয়?

: আপনার অতীতের রাজনৈতিক ভুলের জন্য অনুশোচনা?
বি. চৌধুরী: এমন কিছু করিনি, যা আমার বিবেককে দংশিত করে।

: অন্তত একজন ফাঁসির আসামিকেও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ক্ষমা করেননি?
বি. চৌধুরী: একটি সুপারিশ এসেছিল, তাও ক্ষমা করিনি বলে ভালো লাগছে। একাধিক স্তরে বিচারকদের সুচিন্তিত যে রায়, তাকে উল্টে দেওয়ার আমি কে? আমি ডিসিকে পাঠালাম নিহতের পরিবারের কাছে জানতে, তারা ক্ষমা করে কি না? কোরআন শরিফে লেখা আছে, শুধু ভুক্তভোগী পরিবারই ক্ষমা করতে পারে। ক্ষমা মহৎ গুণ। ডিসি জানালেন, পরিবারের সবাই ক্ষমা না করতে একমত, তারা ফাঁসি চায়। তাই আমিও নথি ফেরত দিলাম। বঙ্গভবনের নথিতে এর রেকর্ড নিশ্চয় থাকবে। এ ঘটনার পরে বিএনপি সরকার আর কোনো ক্ষমার দরখাস্ত আমার কাছে পাঠায়নি।

: বিএনপি আপনার সঙ্গে যে আচরণ করেছিল, তার নিরাময় কী করে ঘটল?
বি. চৌধুরী: এখন থাক। এটা এখন বললে ক্ষতি হতে পারে।

: রাজনীতি থেকে ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ক্ষত সারানো?
বি. চৌধুরী: ১৫ আগস্টের নায়ক ছিলেন আওয়ামী লীগেরই এক নেতা, বিএনপি তখন ছিল না, আমিও রাজনীততে ছিলাম না, তাই এর দায় নিরূপণের বিষয়টি আমার মন্তব্যের বাইরে থাকা উচিত। বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের একজন নায়ক, তিনি সন্দেহাতীতভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাপ্নিক ও স্থপতি, তাঁর হত্যাকাণ্ড জাতীয় জীবনকে প্রচণ্ডভাবে ঝাঁকুনি দিয়েছে। আর গ্রেনেড হামলা এক ভয়ংকর, অভাবনীয় কাপুরুষোচিত হামলা। বিএনপি যদি নাও করে থাকে, তারা করেছে কি করেনি, তা আমি জানি না, তারা সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, এই ব্যর্থতা তাদেরই। তারা এর বিচার করতে পারেনি, এই ব্যর্থতা তাদের।

: আপনার যুক্তফ্রন্ট সরকার ভারতের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক গড়বে?
বি. চৌধুরী: জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই বাংলাদেশে এসেছিলেন। মন্ত্রীদের স্ত্রীদের জন্য তিনি সুন্দর সুন্দর শাড়ি এনেছিলেন। আমার স্ত্রীকে দেওয়া শাড়ি আমরা আজও রেখেছি। বেগম খালেদা জিয়ার জন্যও হয়তো এনেছিলেন। জিয়া গর্ব করে আমাকে মাই সেক্রেটারি জেনারেল বলে তাঁর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, এরপর তাঁর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক হয়েছিল। বিদেশনীতির শক্তি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সরকারের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তা, অর্থনীতির সামর্থ্যের ওপর। এর কোনোটিতে ঘাটতি থাকলে আপনার পররাষ্ট্রনীতি দুর্বল হবেই। কারণ আমার দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ, পূর্ণ গণতন্ত্র আছে, দুর্নীতি কম, বিরোধী দলকে পীড়ন করি না, অত্যাচার করি না—এসব বিক্রি করেই আমি বিদেশনীতি মজবুত করি। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে আমি ছয় সপ্তাহ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলাম। তখন ভারতের বিদেশ সচিব এসেছিলেন, তাঁর সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলোচনা হয়েছিল। প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ না করা, গত নির্বাচনে না যাওয়া, বিরাট রাজনৈতিক ভুল ছিল খালেদা জিয়ার।

: শেষ প্রশ্ন, কেয়ারটেকার সরকার না হলে কী করবেন? আপনার বর্ণিত শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের নিয়ে জাতীয় সরকার কী করবে?
বি. চৌধুরী: দুটোই বলেছি। যাঁরা নির্বাচন করবেন, তাঁরা ৫ বছর দেশও চালাতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী যে প্রস্তাব আগে দিয়েছিলেন, তাতে বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দেওয়ার কথা ছিল এবং নেত্রী (খালেদা জিয়া) ভুলক্রমে তা গ্রহণ করেননি, সেটাই এখনো হতে পারে মূল ভিত্তি। সেটাই নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা হতে পারে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর সেই অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন কোনো একটি নির্বাচনের জন্য নয়, ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য প্রাসঙ্গিক। প্রধানমন্ত্রীর ওই অঙ্গীকার ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

: কিন্তু আওয়ামী লীগ বলবে, বিএনপি তো সংসদে নেই।
বি. চৌধুরী: কোনো অসুবিধা নেই। কারণ এটা স্বীকৃত যে এই সংসদ বৈধ নয়। আবার চাইলে উপনির্বাচনে জিতিয়ে এনেও ওই দুটি মন্ত্রণালয় বিএনপিকে দেওয়া যায়। এ জন্য সংবিধান একটি সংশোধনী আনা মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যাপার। বাকশাল ১৫ মিনিটে কি হয়নি?

: ধরুন বিএনপি শর্ত মেনে যুক্তফ্রন্টে ঢুকল। কিন্তু আপনারা দেখলেন, শেখ হাসিনা এবং তাঁর পছন্দেই নির্বাচনী সরকার হলো। কী করবেন? বয়কট করবেন?
বি. চৌধুরী: এটা চট করে বলা যায় না। এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটলে আলাপ-আলোচনা করে ঠিক হবে। এ মুহূর্তে আপনার প্রশ্ন নিরঙ্কুশভাবে তাত্ত্বিক।

: বৃহস্পতিবার টিভির খবর ছিল, আপনি বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে জোট হবে না। শুক্রবার কাদের সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, দুই দলের সঙ্গে সমদূরত্ব রেখেই আপনাকে প্রধান করে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। আপনারা সরকার গড়লে সরকারপ্রধান হবেন ড. কামাল হোসেন। একই দিনে মান্না-মাহীর সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে অনেকের মনে হয়েছে, বিএনপির সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব বেড়েছে।
বি. চৌধুরী: ওই টিভির খবর অসত্য। কাদের সিদ্দিকী আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তফ্রন্টের সদস্য নন, তাঁর ওই বক্তব্য নিজস্ব। যুক্তফ্রন্টে আপাতত বিকল্পধারা, নাগরিক ঐক্য ও জাসদ (রব) আছে। আর মান্না-মাহী আসলে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রসঙ্গেই বলেছেন, যা আপনাকে আমি আগেই ব্যাখ্যা করেছি। আমরা আগে জাতীয় ঐক্য (বিএনপিসহ) চাই, এটা চূড়ান্ত হলে তা রূপ পেতে পারে নির্বাচনী জোটে।

: আপাতত শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন আপনি মানছেন না?
বি. চৌধুরী: না, এভাবে আমি কখনো বলিনি। যদি নিরঙ্কুশভাবে এই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হয়, যদি দেখা যায়, যা করবে তা আগে থেকেই ঠিক হয়ে আছে, তাহলে চিন্তা করতে হবে যাব কি যাব না। এত আগে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছে আমি কেন আমার তাস খেলব? তা ছাড়া নির্বাচনকালীন গ্রহণযোগ্য সরকার বা যুক্তফ্রন্ট গঠন, এর কোনোটিতেই আমার তরফে কিন্তু কোনো জোরাজুরি নেই। গালিব বলেছেন, ইশক পার জোর নেহি (ভালোবাসায় জোর খাটে না)।

 

কিউএনবি/ অদ্রি / ২৩.০৭.১৮ / সকাল ৮.৫৫