২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৫:৪৯

মোবাইল অপারেটরদের পদে পদে গুনতে হবে টাকা

 

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : মোবাইল নম্বর পোর্টাবিলিটি সার্ভিসের (এনএমপি) সুবিধা পেতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের পদে পদে গুনতে হবে টাকা। কারণ, প্রতি পোর্ট ট্রান্সজেকশান (বেসিক ও প্রিমিয়াম) ও এমএমএস সুবিধা গ্রহণেও গুনতে হবে চার্জ। এর হার দশমিক ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত। এসব চার্জ নির্ধারণ নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ সেলফোন কোম্পানির মালিকরা। পাশাপাশি, এমএনপি সেবার দ্বার উন্মুক্ত হওয়ায় গ্রাহকদের কিছুটা সুবিধা বেড়েছে। অভিন্ন মোবাইল সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ব্যয় হবে মাত্র ৩০ টাকা। অর্থাৎ গ্রামীণের গ্রাহক তার নম্বরটি অপরিবর্তিত রেখে অন্য যেকোনো কোম্পানির সেবা নিতে চাইলে তার পেছনে ওই টাকা ব্যয় হবে।

জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, এমএনপির ট্যারিফ আমরা অনুমোদন দিয়ে তা কার্যকর করার জন্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (বিটিআরসি) পত্র দিয়েছি। তিনি বলেন, এই সুবিধার ফলে নম্বর ঠিক রেখে গ্রাহকরা কিছু অর্থ ব্যয় করে অপারেটর বদল করতে পারবেন। তবে, এর ভালো-মন্দ দিকগুলো খতিয়ে দেখছে বিটিআরসি, যোগ করেন তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এই মন্ত্রী। আর ডাক টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার বলেন, বিটিআরসির পাঠানো প্রস্তাবটি আমরা অনুমোদন দিয়েছি। বিস্তারিত জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এমএনপির সেবা-সংক্রান্ত বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে জানতে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন (এমটব)’র মহাসচিব নুরুল কবির বলেন, নতুন অনুমোদিত নীতিমালায় কি ধরনের শর্ত বা চার্জ আরোপ করা হয়েছে এখনো জানি না। শর্তগুলো জানার পর এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে বলে জানান অপারেটরদের তদারকি করা সংগঠনের এই নেতা।

মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, এমএনপির সার্ভিসের চার্জ নির্ধারণ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। এখন বিটিআরসি এ সেবাটি চালু করলে গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন কানেক্টিভিটির মধ্যে থাকবেন। এই সেবাটির মাধ্যমে নিজ নিজ গ্রাহকদের আটকে রাখতে সেবার মান বাড়াতে অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। অন্যথায়, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ কিংবা বাংলালিংকের গ্রাহকরা বাড়তি সুবিধা দেওয়া অন্য অপারেটরদের দিকে ঝুঁকবেন। কারণ গ্রাহক মোবাইল অপারেটর কর্তৃক কাক্সিক্ষত ফলাফল না পেলে তার নম্বর ঠিক রেখে পরিবর্তন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে অপারেটররা তাদের গ্রাহক ধরে রাখার জন্য এখন সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে গ্রাহকরা বেস্ট প্রাইজের সুফল পাবেন।

জানা গেছে, তথ্য প্রতিমন্ত্রী (সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী) তারানা হালিম এমএনপির সুবিধা-সংক্রান্ত সেবা সার্ভিস চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে সময়ে তিনি বলে ছিলেন, নিলামের মাধ্যমে ১৫ বছরের জন্য একটি কোম্পানিকে এমএনপি লাইসেন্স দেওয়া হবে। বাৎসরিক লাইসেন্স নবায়ন ফি ২০ লাখ টাকা। লাইসেন্স ইস্যুর পর দ্বিতীয় বছর থেকে এমএনপি অপারেটররা সরকারেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে রেভিনিউ শেয়ার দেবে। সকল অপারেটর এই এমএনপি সিস্টেমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। তবে বাংলাদেশে লাইসেন্সধারী কোনো মোবাইল অপারেটর লাইসেন্স প্রাপ্তির নিলামে অংশ নিতে পারবে না। এক্ষেত্রে ন্যূনতম এমএনপি কার্যক্রমে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এক্ষত্রে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সপ্রাপ্তরা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ট্রান্সফার ফি নিতে পারবে। সকল প্রকার ট্যারিফ বিটিআরসির মাধ্যমে সরকার হতে অনুমোদনক্রমে নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তারানা হালিম।

ইতোমধ্যে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান এমএনপির লাইসেন্স পেয়েছে। তাদের থেকে সেবা সুবিধা নিতে হবে অপারেটরদের। এর জন্য একটি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রাহকদের নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। কোন গ্রাহক অন্য অপারেটরের সেবা নিতে চাইলে তাকে ওই টাকা দিতে। তবে, পদে পদে এমএনপি লাইসেন্সধারীকে টাকা গুনতে হবে মোবাইল অপারেটরদের। এসব সেবার মধ্যে এমএনপির লাইসেন্সধারীর কাছ থেকে পার পোর্ট ট্রান্সজেকশন সেবা নিতে হলে মোবাইল অপারেটরদের (বেসিক) এই সেবাটির জন্য ১৫০-১৭০ টাকা এবং প্রিমিয়াম সেবার জন্য ১৮০-২০০ টাকা চার্জ দিতে হবে। একই ভাবে, এমএনপির সুবিধা নিতে কোনো গ্রাহক অপারেটর বদল করলে এই তথ্যটি সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের এসএমএসের মাধ্যমে জানাবে এমএনপির তত্ত্বাধিকারী; এর জন্য সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের এমএনপি নিয়ন্ত্রণকারীদের দিতে ৫০ পয়সা। এই সেবাটিকে বলা হচ্ছে, ব্রডকাস্ট ম্যাসেজ। আর ডেইলি ডেলটা পোর্টেড লিস্ট বা ডাউনলোড কিংবা ফুল পোর্টেড লিস্ট এই সুবিধা দুটি অপারেটরদের জন্য অপসোনাল সার্ভিস। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনোভাবে অপারেটর হতে গ্রাহকের তথ্য মুছে গেলে এমএনপি অপারেটরের সার্ভার থেকে তথ্য অপারেটর ডাউনলোড করতে পারবে। এই তথ্য একদিনের কিংবা সম্পূর্ণ তথ্য হতে পারে। এক্ষেত্রে ডেইলি ডেলটা পোর্টের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ফুল পোর্টেডের জন্য ২৫ হাজার টাকা গুনতে হবে। এ ছাড়া লোকেশন রাউটিং নম্বরের জন্য আইসিএক্স, আইডব্লিউজিএস ও আইপিটিএসপিএক্স সুবিধা নিতে হলে এমএনপির লাইসেন্সধারীকে দিতে হবে ১০ পয়সা এবং এমএফএস, ভিএএস, ওটিটি ও আইপিটিএসপি অপারেটররা এমএনপির সার্ভার সুবিধা নিতে চাইলে তাকে ৫ পয়সা দিতে হবে।

সূত্রমতে, পার পোর্ট ট্রান্সজেকশন চার্জ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে আসছে মোবাইল অপারেটররা; বিশেষ করে গ্রামীণ ও বাংলালিংক। তারা বলেন, এই সেবাটির জন্য ২০০ টাকা সার্ভিস চার্জ অনেক বেশি, যা গ্রহণযোগ্য নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা অভিযোগ করে বলেন, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ না করেই একতরফাভাবে এই চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ এ-সংক্রান্ত কার্যবিবরণীতে, মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে আলাপ করে চার্জ নির্ধারণ হয়েছে নথিতে এ কথা উল্লেখ রয়েছে।

 

 

 কিউএনবি/আয়শা/২২শে জুলাই, ২০১৮ ইং/রাত ১০:৩৯