১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৩৫

ভূমি অধিগ্রহণ আর অর্থায়ন জটিলতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে মুন্সীগঞ্জের ২ টি কয়লা চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র

 

শেখ মোহাম্মদ রতন, ষ্টাফ রিপোর্টার : ভূমি অধিগ্রহণ আর অর্থায়ন জটিলতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে ঢাকার উপকণ্ঠ মুন্সীগঞ্জের কয়লা চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র দুইটি। সরকারী ভাবে দুই কোম্পানি ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি (ইজিসিবি) এবং রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল) মুন্সীগঞ্জে দুই বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করে গত ২০১৫ সালে। কিন্তু আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হয়নি কোন বিদ্যুত কেন্দ্রের।

বিদ্যুত বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান মোঃ সোহেলুর রহমান খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে বলা হয় মুন্সীগঞ্জে ইজিসিবির ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াটের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণ এবং পুনর্বাসন প্রকল্পের জন্য আরও এক বছর সময় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।ওই চিঠিতে বলা হয়, প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ এবং পুনর্বাসন প্রকল্পটি চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু তা সম্ভব না হওয়াতে ২০১৯ এর জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

নির্দিষ্ট করে বলাও সম্ভব হচ্ছে না বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হবে কবে।যদিও কয়লা পরিবহনে জটিলতা হলে এখানে অন্য ধরনের বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হতে পারে বলে বিদ্যুত বিভাগের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবটি কেবল ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হবে।কেন্দ্রটির জন্য জমি অধিগ্রহণ চূড়ান্ত না হওয়ায় কেন্দ্রটির অর্থায়ন এবং সমীক্ষাও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ইজিসিবি বলছে তারা সমীক্ষার জন্য আগ্রহপত্র চেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী কাউসার মোহম্মদ ফিরোজ বলেন, আমরা এখনও জমি বুঝে পাইনি। তিনি বলেন, কেন্দ্রটির জন্য এখনও অর্থায়নও নিশ্চিত হয়নি।তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য নথি প্রেরণ করেছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে আরপিসিএল বলছে তাদের জেলা প্রশাসন থেকে জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।আগামি দুই-একদিনের মধ্যে জমিতে মাটি ভরাটকাজ শুরু করা হবে।সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ নেভিকে জমি ভরাটের কাজ দেয়া হয়েছে।মোট ২৫২ এর জমির জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের প্রদেয় অর্থও জেলা প্রশাসকের দফতরে জমা দিয়েছে আরপিসিএল।তবে ভূমি অধিগ্রহণের দিক দিয়ে আরপিসিএল ইজিসিবির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

তবে কেন্দ্রটির অর্থায়ন নিশ্চিত হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হবে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে চীনের অর্থায়নে জি টু জি ভিত্তিতে অর্থায়ন করা হবে।চীনা প্রেসিডেন্ট শি জি পিং এর সফরের সময় বিদ্যুত বিভাগের সঙ্গে যে এমওইউ সই হয়েছে তাতে কেন্দ্রটির অর্থায়ন নিশ্চিত হতে আরও দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে।

আরপিসিএলের নির্বাহী পরিচালক সেলিম ভূঁইয়া বলেন, কেন্দ্রটির মাটি ভরাটের কাজ শুরু হবে ২ এক দিনের মধ্যে।তিনি বলেন, চীনের অর্থায়নে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে।চীন সরকার ঋণ অনুমোদন করলে কেন্দ্রটির দরপত্র আহ্বান করা হবে।এ জন্য আরও দেড় বছর সময় প্রয়োজন হবে বলে আরপিসিএলের নির্বাহী পরিচালক সেলিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২১শ জুলাই,২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:১৬