২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:১৬

কাঙ্গাল হরিনাথের ১৮৫ তম জন্মজয়ন্তী পালন

নিউজ ডেস্কঃ  গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ১৮৫ তম জন্মজয়ন্তী আজ (২০ জুলাই)। ১৮৩৩ সালের ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কুন্ডুপাড়ার এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন হরিনাথ মজুমদার।
তিনি কাঙাল হরিনাথ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। বৃটিশ শাসন আমলে তিনি জমিদার আর নীলকরদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন।
শৈশবে গ্রামের ইংরেজি স্কুলে হরিনাথের লেখাপড়া শুরু হলেও আর্থিক অসচ্ছলতায় তা বেশি দুর অগ্রসর হয়নি। সে সময় মহাজন ও ইংরেজদের হাত থেকে অসহায় কৃষকদের রক্ষায় তিনি সাংবাদিকতা পেশা গ্রহণ করেন। প্রথমে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় সংবাদদাতা হিসেবে লেখা শুরু করলেও পরে ১৮৫৭ সালে তিনি নিজেই গ্রামবার্তা প্রকাশিকা নামে একটি দ্বি-মাসিক পত্রিকা বের করেন। প্রথমদিকে হাতে লিখে কাজ চললেও ১৮৭৩ সালে এটি সাপ্তাহিক হিসেবে ছাপাখানা থেকে প্রকাশ শুরু হয়। এতে তখনকার নীলকর ও জমিদারদের শোষণ-অত্যাচারের কাহিনী তুলে ধরা হতো।কীর্তিমান এই মানুষটির স্মৃতি চিহ্ন ধরে রাখতে সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। কুমারখালী পৌরসভার পাশে সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথের নামে একটি অত্যাধুনিক জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। দেরীতে হলেও সরকারের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন গবেষক ও তরুন প্রজন্মের মানুষ।

সংস্কৃতিকর্মী ও পাবলিক লাইব্রেরী সম্পাদক মমতাজ বেগম জানান, দীর্ঘদিনের দাবী ছিলো কাঙ্গাল হারিনাথ মজুমদারের স্মৃতি সংরক্ষণের। সেটি দেরিতে হলেও বাস্তবায়িত হয়েছে।
কুমারখালীতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর। সেখানে কাঙ্গালের দুর্লভ সব স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে। তবে তাঁর যে বাস্তুভিটা সেটিও সংরক্ষণ জরুরী বলে মনে করেন এই গবেষক। একই সাথে কাঙ্গালের বেশ কিছু অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি রয়েছে যা আজো প্রকাশিত হয়নি। সেগুলো সরকারী উদ্যোগে প্রকাশের ব্যবস্থা করাটাও জরুরী বলে মনে করেন এই গবেষক।

গবেষক গৌতম কুমার রায় দাবী করেন কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার যখন সাংবাদিকতা করেছেন তখনকার অবস্থা ছিলো কনে কস্টকর। প্রাথমিক পর্যায়ে হাতে লিখে পরে প্রেসের মাধ্যমে পত্রিকা সম্পাদনা করেছে। সে সময় জোতদারদের অত্যাচারও সইতে হয়েছিল তাকে। তবে অনেক ত্যাগ, অনেক নির্যাতন সহ্য করে তাঁর লিখনি ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই চিত্র অনেকটাই অনুপস্থিত। এই গবেষক মনে করেন এ প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাঙ্গাল হরিনাথের প্রেরণা নিয়ে পথ চলা উচিৎ। সাংবাদিক দীপু মালিক মনে করেন বর্তমান সাংবাদিকতা পেশা অনেকটা কমার্শিয়াল হয়ে গেছে। আমরা যদি কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের সময়কার কথা চিন্তা করি তাহলে আমরা অবশ্যই সুস্থধারার সাংবাদিকতার প্রেরণা পেতে পারি।
কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের বংশধর গীতা রায় মনে করেন সরকার কাঙ্গালের স্মৃতি রক্ষায় অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু তাঁর বাস্তুভিটা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই। আমি বলব সরকার যেন বাস্তুভিটা স্মৃতি রক্ষায় উদ্যোগ নিবে।

এদিকে প্রথম বারের মত গ্রামীণ সাংবাদিকতার প্রথিকৃত কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের জন্মবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার কাঙ্গালের ১৮৫তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান নবনির্মিত সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অাব্দুল মান্নান খান, কুষ্টিয়ার সরকারী কলেজের অধ্যাপক আনসার আলী,মেহেরপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ক স্বপন রায়,পৌর প্যনেল মেয়র এস এম রফিক, গবেষক গৌতম কুমার রায় প্রমখ।স্বাগত বক্তব্য দেন কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার স্মৃতি জাদুঘরের প্রদর্শক প্রভাষক সৈয়দ এহসানুল হক ,সভাপতিত্ব করেন কমারখালী সহকারী কমিশনার ( ভুমি) মোছাব্বেরুল ইসলাম অনুষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের সাংবাদিকদের অন্যন্য সংঘঠন অংশগ্রহণ করে।

কিউএনবি/নিল/ ২০ জুলাই, ২০১৮ ইং/২০ঃ৪০