২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:৫৭

মুন্সীগঞ্জে জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতায় আতঙ্কিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ

 

শেখ মোহাম্মদ রতন, ষ্টাফ রিপোর্টার: মুন্সীগঞ্জে জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা এবং একাধীক আস্তানা থাকার অভিযোগ উঠেছে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আতঙ্কিত হয়ে পরেছেন, জেলার সাংবাদিক, মুক্তমনার লেখক, কবি সহ সাধারণ মানুষ। জঙ্গি থেকে রক্ষা করার জন্য পুলিশের ভুমিকা রহস্যজনক বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এ কারণে জেলা পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে জানিয়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ।


জানা গেছে, জঙ্গি অবস্থানের খবর পেয়ে ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ঘেঁষা সিরাজদীখানের নিমতলার একটি হাউজিং কোম্পানির আবাসিক এলাকার ৩০টি ভবনে অভিযান চালানো হয়। সিরাজদীখান থানা পুলিশের এ অভিযানে সেখানকার ১৬৫টি পরিবারের সদস্যদের পরিচয় ও ভোটার আইডি কার্ড যাচাইসহ তল্লাশিতে জঙ্গি সংশ্নিষ্টতার আলামত মেলেনি। পরে আবাসিক কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে ফরমও বিতরণ করা হয়েছিল।


স্থানীয়রা জানান, ওই অভিযানের পর পুলিশ-প্রশাসনের নিস্কিৃয়তা এবং বাড়ির মালিকের অসচেতনতার সুযোগে ৭ মাস পর খাসমহল বালুরচর গ্রামে বাসা ভাড়া নিচ্ছে ক্রসফায়াওে নিহত জেএমবির সামরিক কমান্ডার আবদুর রহমান লালু সহ জেএমবি (জঙ্গি) সংগঠনের সদস্যরা। সেখানে তিন মাস অবস্থান করে গত ১১ জুন শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যা করে জঙ্গিরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুক্তমনা এক লেখক বলেন, জেলার অন্য এলাকায়ও ভাড়া নেওয়া বাসায় জঙ্গিদের আস্তানা থাকতে পারে।


এদিকে বাচ্চু হত্যা মামলার আসামি ৫ জঙ্গিদের ধরতে জেলার পুলিশ-প্রশাসন সম্পুর্ন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। এখনও অধরা। তারা সহযোগী জঙ্গিদের নিয়ে গোপন তৎপরতায় লিপ্ত- এমন তথ্যে উদ্বিগ্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলার সাধারন মানুষ। তাই জঙ্গি তৎপরতা প্রতিরোধে জেলার সর্বত্র ভাড়াটিয়া ফরম বিতরণ ও মাইকিং করে জঙ্গি বিষয়ক নানা তথ্য তুলে ধরতে কাজ করলেও ফলাফল তেমন ফলপ্রসু মিলছে না বলে সাধারণ জনগনের ধারনা।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেএমবি জঙ্গিদের গুলিতে শাহজাহান বাচ্চু হত্যার পর জঙ্গি তৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমের নেতৃত্বে গত ১৩ জুলাই থেকে মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী, সিরাজদীখান, লৌহজং, শ্রীনগর ও গজারিয়া উপজেলার গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভাড়াটিয়া ফরম বিতরণ শুরু করে পুলিশ।


এ ছাড়া মাইকিং করে জঙ্গিবাদ বিষয়ক নানা তথ্য তুলে ধরে জনসচেতনমূলক কার্যক্রম চালায়। বাড়ির মালিকদের ঘর ভাড়া দেওয়ার আগে ভাড়াটিয়া সম্পর্কে কী কী তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে তার দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই দিন ৬টি উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজে খুতবা পাঠের সময় জঙ্গিবাদ নিয়ে আলোচনা করেন ইমামরা। পুলিশের এসব কর্মকান্ডে পুলিশ এখনো ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।


এ প্রসঙ্গে জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মো. ইউনুচ আলী জানান, বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার তথ্য ফরম পূরণ শেষে একটি কপি সংশ্নিষ্ট থানায় জমা দিতে বলা হয়েছে। পুলিশ প্রাপ্ত ফরমে ভাড়াটিয়ার উল্লেখিত তথ্য যাচাই করতে স্থায়ী ঠিকানার সংশ্নিষ্ট থানা থেকে তথ্য নিলেই সঠিক তথ্য জানতে পারবে। আর পাওয়া তথ্যে ভাড়াটিয়া অপরাধের সঙ্গে জড়িত উল্লেখ থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সদর থানার ওসি মো. আলমগীর হোসাইন জানান, অপরাধীরা নিজ এলাকায় অপরাধ করে অন্য এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে আত্মগোপন করার অনেক তথ্য রয়েছে। উগ্রপন্থি জঙ্গিরাও পরিচয় গোপন রেখে বাড়ি ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলছে জঙ্গি আস্তানা। তাই ভাড়াটিয়া সম্পর্কে তথ্য সংরক্ষণ করতে ফরম বিতরণ করছে পুলিশ।


প্রসঙ্গত, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে গত ১১ জুন লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যা করে জেএমবি জঙ্গিরা। উপজেলার খাসমহল বালুরচরে বাসা ভাড়া নিয়ে বাচ্চুকে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। সেখানে তিন মাস অবস্থানের পর তারা বাচ্চুকে হত্যা করে।


জেলার একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্য মতে সদর উপজেলা সহ ৬ উপজেলায় জেএমবির নারী ও পুরুষ জঙ্গিরা বিভিন্য এলাকায় তাবলিক করার উদ্দেশ্যে জেএমবির তালিম দিয়ে অবস্থান শক্ত করছেন।

 

কিউএনবি/বিপুল/২০শে জুলাই, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:৫৯