২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:০৩

একসঙ্গে গ্র্যাজুয়েট বাবা-ছেলে

একই সঙ্গে মা-ছেলে কিংবা মা-মেয়ের আবার কখনো বাবারও এসএসসি পাসের খবর শোনা যায়। এবার একই সঙ্গে গ্র্যাজুয়েশন পাসের খবর পাওয়া গেছে বাবা-ছেলের। ভারতের মুম্বাইয়ের ওয়াইবি চাভান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা পিতা-পুত্রের একটাই কথা, শেখার কোনো বয়স নেই।

ছোটোবেলা পারিবারিক নানা ঝামেলায় এসএসসি পাসের পর আর পড়াশোনা করা হয়ে ওঠেনি মুহাম্মদ ফারুক শেখের। পেশায় ছিলেন ট্যাক্সি চালক। ছেলে হাজিম শেখকে কলেজে ভর্তি হতে দেখে তারও মাথায় ঢুকে যায়, পড়াশোনা করতে হবে। ছেলের সঙ্গে কথা বলে তিনিও ভর্তি হয়ে যান কলেজে।

কিন্তু সংসার তো তাকেই চালাতে হবে। সে কারণে প্রতিদিন সকালে কাজে বের হওয়ার আগে পড়তে বসতেন ফারুক। নিয়মিত ক্লাসও করতেন। হাজিম জানান, কোনো সমস্যা হলে বা কিছু প্রশ্ন থেকে থাকলে বাবা আমার কাছে সে ব্যাপারে জানতে চাইতেন। আমিও বাবাকে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতাম। ভীষণ ভালো লাগছে বাবার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে দেখে।

জানা গেছে, ক্লাসে ছাত্রদের বাইরে অনেক শিক্ষকরাও ফারুককে ‘কাকু’ বলে ডাকতেন। অবশ্য তাতে বিন্দু পরিমাণ খারাপ লাগা ছিল না ফারুকের। ফারুক বলেন, এমন অনেক শিক্ষক আছেন যারা আমার ছেলের বয়সী। কিন্তু তাদের কাছ থেকে শিখতে আমার একটুও খারাপ লাগেনি।

৪৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করেছেন তিনি। আর তার ছেলে পেয়েছেন ৫৬ শতাংশ নম্বর। স্বামীর ফলাফলে ব্যাপক খুশি ফারুকের স্ত্রীও। তিনি জানান, আমি কখনো ভাবতেই পারিনি এই বয়সে এসে আবার তিনি শুরু করতে পারবেন। ভালোই লাগত যখন দেখতাম বাবা ছেলে একসঙ্গে পড়ছে, বুঝছে, বুঝিয়ে দিচ্ছে।

এক সময় ব্যাংকে জুনিয়র ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতেন ফারুক। তবে কোম্পানির আর্থিক সমস্যার কারণে ছাঁটাই করা হয় তাকে। বাধ্য হয়েই ট্যাক্সি চালাতে শুরু করেন। গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর এখন নতুন চাকরির আশাও দেখছেন তিনি।

 

কিউএনবি/ অদ্রি / ২০.০৭.১৮ / সকাল ১১.০৫