২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:৩৭

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার নানা রকম ঝুকি ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে পদ্মায় চলছে ৫ শতাধিক স্পিডবোট

 

শেখ মোহাম্মদ রতন, ষ্টাফ রিপোর্টার : নানা রকম ঝুকি ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে প্রায় ৫ শতাধিক স্পিডবোট। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের মুল প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে।

মালিক ও চালকরা সরকারি কোন নির্দেশনাকে তোয়ক্কা ও অমান্য করে বছরের পর বছর ধরে স্পিডবোট চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি নির্দেশনায় প্রতিটি যাত্রীর জন্য লাইফ জ্যাকেট ও বয়া বাধ্যতামূলক থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

এ ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং সন্ধ্যার পর চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেই খরস্রোতা পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছে স্পিডবোটগুলো।এমনকি স্পিডবোট চালকদের নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স, নেই রেজিস্ট্রেশন।আলোকবাতি ও হর্নও নেই অবৈধ স্পিডবোটগুলোতে।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী-মাঝিকান্দি নৌরুটে ৫ শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করে। সেগুলো বড়, মাঝারি ও ছোট- এই তিন ধরনের। এর মধ্যে ২২০টি স্পিডবোটের মালিক মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার এবং বাকি ১৮০টি স্পিডবোটের মালিক মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি, কাঁঠালবাড়ী ও শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি এলাকার।

ঘাট সংশ্নিষ্টরা জানান, নৌরুটের বড় স্পিডবোট ২০ জন ধারণক্ষমতা হলেও যাত্রী নিচ্ছে ২৮ জন, ১৫ জন ধারণক্ষমতার মাঝারি স্পিডবোটে ২২ জন এবং ছোট স্পিডবোটের ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১০ জনের স্থলে পারাপার করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ জন। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে শিশু যাত্রী নিয়েও স্পিডবোট দিয়ে পদ্মা পারাপার হচ্ছেন দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা।

এ ছাড়াও যাত্রীপ্রতি ১২০ টাকা ভাড়া হলেও ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, কখনও ২০০ টাকাও স্পিডবোটে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে অবৈধ স্পিডবোট চলাচল অব্যাহত থাকায় এ নৌরুটে প্রায়ই ঘটছে স্পিডবোটডুবির ঘটনা। এতে অনেক প্রাণহানির পাশাপাশি নিখোঁজের ঘটনা ঘটছে। এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার সকালে লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীতে স্পিডবোট উল্টে সুফিয়া খাতুন নামে এক ইউপি সদস্য মারা গেছেন। এ ছাড়া নিখোঁজ আছেন জালাল সর্দার নামে আরও একজন।

এদিকে রোববার সকালে ফেরির সঙ্গে ধাক্কা লেগে যাত্রীবাহী ওই স্পিডবোটটি উল্টে যায়। এ সময় এতে থাকা ২৪ যাত্রী কোনোমতে পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও, সুফিয়া খাতুন ও জালাল সর্দার তলিয়ে যান। পরে লৌহজং থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তল্লাশি চালিয়ে সুফিয়া খাতুনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। সুফিয়া খাতুন মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাঁষাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। তার স্বামীর নাম সেলিম শেখ। নিখোঁজ জালাল সর্দার শ্রীনগর উপজেলার কেওয়াটখালী গ্রামের বাবর আলী সর্দারের ছেলে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে প্রচুর স্রোত প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে পদ্মায়। এর মধ্যেই স্পিডবোটগুলো চলাচল করছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মায় প্রচন্ড গতিবেগে স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় তার বিপরীতে চলতে ব্যর্থ হচ্ছে ডাম্ব ও ছোট ফেরিগুলো। বর্তমানে মূল পদ্মা উত্তাল হয়ে উঠেছে। তারপরও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যেই চলাচল করছে স্পিডবোটগুলো।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী-মাঝিকান্দি নৌরুটে চলাচলরত স্পিডবোটগুলো অবৈধভাবে বহু বছর ধরে চলাচল করছে। এই স্পিডবোটগুলোর নেই কোনো রেজিস্ট্রেশন। এমনকি স্পিডবোট চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া বন্দর কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, গত রোববার স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ যাত্রীর লাশ এখনো না পাওয়ায় পদ্মার পারে নিখোঁজের খোজে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভাড়ি হয়ে উঠেছে।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১৯শে জুলাই, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:৪২