২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:৪৮

টংগীবাড়িতে একজন পিয়নের মাধ্যমে চলছে স্কুলের পাঠদান

 

শেখ মোহাম্মদ রতন, ষ্টাফ রিপোর্টার : একজন পিয়নের মাধ্যমে চলছে স্কুলের পাঠদান কর্মসূচি মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ি উপজেলার দক্ষিণ কুরমিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।স্কুলটি প্রধান শিক্ষক একটি মার্ডার মামলায় জেল খেটে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।পরবর্তীতে তিনি জেল থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যোগদান করতে পারেন নি।

এখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সহকারি শিক্ষক জহিরুল ইসলাম।এছাড়া এই স্কুলটিতে সেলিনা আক্তার নামের একজন সহকারি শিক্ষিকা রয়েছেন যিনি এখন পিটিআই এ ট্রেনিং এ রয়েছেন। বর্তমানে স্কুলটি শিক্ষক শূণ্য।রবিবার স্কুলটিতে পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় ৩-৪জন শিক্ষার্থী স্কুলে এসেছেন।একটি কক্ষে তাদেরকে বসে থাকতে দেখা যায়।

অপর দুইটি শ্রেণি কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। দক্ষিণ কুরমিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন নামেই স্কুল কাজে কর্মে শূণ্য।স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটি রযেছে। জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার রয়েছেন তত্ত্বাবধানে।কিন্তু কিভাবে এ ধরনের একটি স্কুল পরিচালিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।শিক্ষার্থী নেই, শিক্ষক নেই।

যারা ছিলো কেউ জেলে, কেউ ট্রেনিংয়ে।কিভাবে সম্ভব এমন একটি স্কুল সরকারীভাবে পরিচালিত হচ্ছে।স্কুলটিতে নতুন ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে।ভবন আছে, কক্ষ আছে সকল কিছু আছে শুধুমাত্র শিক্ষার্থী নেই আর শিক্ষক নেই।৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য সাদ্দাম হোসেন রুবেল নামের একজন দফতরী রয়েছেন।সেই দফতরীই এখন স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এ বিষয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি সিরাজ শিকদার বলেন, আমি স্কুলের শিক্ষক আনার জন্য বহুবার জেলা শিক্ষা অফিসে গিয়েছি। কিন্তু কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি জেলা শিক্ষা অফিস।একজন শিক্ষিকা ছিলেন।তাকে ট্রেনিংয়ে যেতে বারণ করেছিলাম কিন্তু আমার কথা কেউ শোনেনি।তিনি চান স্কুলটিতে দ্রুত শিক্ষক পদায়ন করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে জেলা শিক্ষা অফিস।

স্থানীয় বাসিন্দা জানে আলম বলেন, আমাদের এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের আসতে খুবই সমস্যা হয়।বাড়ির ভিতর দিয়া যে সড়কটি রয়েছে সেটি দিয়া যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে এই স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে।এমনিতেই শিক্ষার্থী নেই তার পরে আবার শিক্ষক শূন্য।এভাবে কি একটি স্কুল চলে আমার জানা নেই।

এ প্রসঙ্গে টঙ্গীবাড়ি শিক্ষা অফিসার হাসিনা বেগম জানান শিঘ্রই স্কুলে পরিদর্শনে যাবেন।কারণ শিক্ষক ছাড়া স্কুলে বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।তাছাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক কেন জেলে রয়েছেন এবং স্কুুলে কেন তালা ঝুলে আছে সে ব্যপারে তিনি তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

এ ব্যপারে জেলা শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারি বলেন, প্রধান শিক্ষক কি মামলায় জেলে আছেন তা আমি অবগ নই এবং একটি সরকারী স্কুল তালাবন্ধ থাকতে পারে না।আমি এর দ্রুত সমাধানের জন্য টঙ্গীবাড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহ সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। আশা করি পিয়ন দিয়ে বেশিদিন স্কুল কার্যক্রম চালানো হবে না।

কিউএনবি/রেশমা/১৯শে জুলাই, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:০৪