১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:০৩

গাজীপুরে মারধোরের শ্বিকার আর টিভি’র সাংবাদিক ক্যামেরা ভাংচুরের অভিযোগ : মিশ্র প্রতিক্রিয়া

 

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর সটি কর্পোরেশনের টেক নগপাড়ার শাহলম বাড়ি এলাকায় গত রোববার দুপুরে ক্যামেরা ও মোবাইল ভাংচুরসহ আরটিভি সাংবাদিক আজহারুল হক ও তার ভাতিজাকে এলোপাতারি মারধোর করা হয়েছে।

এই ঘটনানায় স্বামী-স্ত্রী ও ছেলেসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখসহ আজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনকে আসামি করে গত সোমবার জয়দেবপুর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।মামলার বাদি হয়েছেন আরটিভি’র ষ্টাফ রির্পোটার আজাহারুল হক।

এই ঘটনায় গাজীপুরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মামলায় মো. আব্দুল বারিক (৪৫), তার স্ত্রী মোসাঃ শাহিনুর বেগম (৩৫) ও ছেলে মো. পারভেজ(২০) সর্ব সাং বারিষাব, দরগাবাজার, কাপাশিয়া, মো. জাহিদ হাসান বিপ্লব ওরফে জাহিদ মন্ডল পিতা মো. কলিম উদ্দিন সং আউটপাড়া, মো. সাগর (২২) পিতা অজ্ঞাত, শরিফপুর, গাজীপুর আসামী করা হয়েছে।

এজাহার সুত্রে আজহারুল হক জানায়, বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে আসামি বারিক মিয়ার সাথে আজহারুল হকের ভাতিজা মো. আলমগীর হোসেনের লেন দেন ছিল।কিন্তু সে ভাতিজাকে বিদেশ না পাঠিয়ে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। গত রোববার ১১টার দিকে আলমগীর আসামিদের টেক নগপাড়াস্থ শামসুদ্দিনের ভাড়াবাড়িতে দেখা করতে গেলে তারা তাকে মারধোর করে আটক করে রাখে।

ভাতিজা কান্নাকাটি করে তাকে উদ্ধ্যারের অনুরোধ জানালে দুপুর একটার দিকে অফিসিয়াল ক্যামেরাসহ আর টিভির সাংবাদিক আজহারুল হক ঘটনাস্থলে যায়।এসময় আসামীরা তাকে দেখে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকী দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুললে আসামিরা তার উপর আরো বেশী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

এ সময় তার ভাতিজা আলমকে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ফেরার সময় উল্লেখিত আসামীসহ অজ্ঞাত আরো ১০-১২জন তাদের উপর হামলা ও মারধোর শুরু করে।হামলাকারিরা আজাহারের ঘাড়ে, পিঠে, পায়েসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতারি পিটিয়ে আহত করে।

একপর্যায়ে আসামীরা তার নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের অফিসিয়াল ক্যামেরা ও ২১হাজার টাকার মূল্যের মোবাইল সেট নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে।পরে তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে গুরুতর আহতাবস্থায় তাদের উদ্ধার করে শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এলাকাবাসি জানায়, আলমগীর হোসেন রোববার দুপুরে আরটিভি’র ওই সাংবাদিককে নিয়ে টেকনগপাড়াস্থ বারিকের ভাড়া বাসায় এসে আদম পাচার ও ব্যাবসার অভিযোগ তুলে টেলিভিশনে নিউজ প্রচারের ভয় দেখানোর চেষ্টা করে।

এক পর্যায়ে আর টিভির সাংবাদিককে ম্যানেজ করার কথা বলে টাকা দাবি করলে তাদের মাঝে বাক বিতন্ডা শুরু হয়।আচমকা একটি ভাঙ্গা ক্যামেরা দিয়ে ওই সাংবাদিক ছবি তোলা শুরু করে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে উচ্চকন্ঠে অশ্লিল ভাষায় গালাগাল করে বলে, তোরাসব আদম পাচারকারী ব্যাপারি, অমানুষ, আরটিভিতে তোদের সবকিছু দেখাব, আর এখনি ডিবি পুলিশ দিয়ে তোদের এরেষ্ট করিয়ে নিয়ে যাব, এমন হুমকী দিয়ে ফোন করতে থাকলে উৎসুক জনতা জড়োহয়।

একহাতে ক্যামেরা আর এক হাতে আর টিভির লঘু নাড়াতে নাড়াতে মাস্তানের ভঙ্গিতে জড়োহওয়া জনতার ছবি তুলতে থাকলে লোকজন উত্বেজিত হয়ে উঠে।এক পর্যায়ে তা বাক বিতন্ডা, হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় রুপ নেয়।মুলত আলমগীর হোসেন সাংবাদিক আজহারুল হকের কোন ভাতিজা নয়, তারা একই এলাকার বাসিন্দা।সাংবাদিককে দিয়ে নিউজের ভয় দেখিয়ে তাদের নকিট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ধান্দায় এসেছিল।

আরটিভি’র সাংবাদিক আজহারকে মারধোরের খবর পেয়ে গাজীপুর প্রেসক্লাবে ছুটে আসেন গাজীপুর জেলা শহরের ছায়াবিথি এলাকার বাসিন্দা ও মাই টিভির ইস্পোস রিপোটার শাকিল কালাম।সে জানায় এই আজাহার একটি ইন্সুরেন্স কম্পানির ডিপিএসের বিষয়ে ব্ল্যাকমিল করে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ডিবি পুলিশ দিয়ে তার মাকে গত রোজার ইদের আগের রাত দুইটার সময় বাসা থেকে আটক করে নিয়ে আসে।পরে ডিবি অফিসে সারা রাত বসিয়ে রেখে ১লাখ ৮০হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে সকালে ছেড়ে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, সাংবাদিকদের মানুষ সম্মানের চোখে দেখে।কিন্তু অপসাংবাদিকতা পছন্দ করেন না।এর আগেও ইথিক্সের বাইরে সাংবাদিকতা করতে গেলে আর টিভির এই সাংবাদিকসহ কয়েক জন অনুরুপ ঘটনার শ্বিকার হয়েছিলেন।পরে ক্যামেরা ভাংচুরসহ ক্ষয়ক্ষতি বাবদ তাদেরকে ৫লাখ টাকার ব্যাবস্থা করে দেয়া হয়েছিল, এছাড়াও সে আরো কিছু অপ্রিতিকর ঘটনার ঘটিয়েছে, এসব কারণে ভাল সাংবাদিকসহ প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় যা অনাকাঙ্খিত।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৮ই জুলাই, ২০১৮ ইং/রাত ৯:৩০