১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:৪৯

শিশু মায়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সৎ বাবার মৃত্যুদণ্ড

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের শরণখোলায় নয় বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আলামিন হাওলাদার (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।দণ্ডিত আলামিন শিশু মায়ার সৎ বাবা। বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ ও শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এই রায় দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও আদালত ওই আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। আলামিন হাওলাদার বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার মঠেরপাড়া গ্রামের ফজলুল হক হাওলাদারের ছেলে।রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
হত্যার স্বীকার মায়ার শরণখোলা উপজেলার সদরের রায়েন্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের উপজেলার মঠেরপাড়া গ্রামের আলামিনের সাথে মায়ার মা পুতুল বেগমের বিয়ে হয়।ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর সকালে আলামিন তাঁর স্ত্রী পুতুল বেগমকে ফোন করে মুরগি নিতে মেয়েকে বাজারে পাঠাতে বলে।
স্বামীর ফোন পেয়ে তিনি একটি ভ্যানে করে মেয়েকে বাজারে তার স্বামীর কাছে পাঠান।এরপর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল।অনেক খোঁজাখুঁজির পরও শিশুরটির সন্ধান না পেয়ে ওই দিন রাতে পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানায়।শরণখোলা থানা পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে শিশু মায়ার সৎ বাবা আলামিনকে আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরদিন মঠেরপাড়া গ্রামের জনৈক লিটু মিয়ার ধান ক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।ওই ঘটনায় ২১ ‍ডিসেম্বর নিহতের নানা কামরুল হাসান দুলাল বাদী হলে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শরণখোলা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আমির হোসেন সৎ বাবা আলামিনকে অভিযুক্ত করে ২০১৭ সালের ২০ এপ্রির আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।আদালত মামলার ১৩জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার এই রায় ঘোষনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট খান সিদ্দিকুর রহমান এবং আসামি পক্ষে এ্যাডভোকেট ওজিয়ার রহমান পিকলু।
কিউএনবি/সাজু/১৮ই জুলাই, ২০১৮ ইং/রাত ৮:২৯