১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:১৩

ছোট হয়ে আসছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত!

 

ডেস্কনিউজঃ বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের আঘাতে ছোট হয়ে আসছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকত। ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার স্পটগুলো। গত কয়েক বছরে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙনের কবল থেকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষায় দু’বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষা ও উন্নয়ন’ প্রকল্প হাতে নিলেও তা আজও বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। চলতি মৌসুমে সৈকত রক্ষার উদ্যোগে অনিশ্চয়তার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে শতাধিক ব্যবসায়ি।

সরেজমিন দেখা গেছে, কুয়াকাটা জিরোপয়েন্ট থেকে সমুদ্র সৈকতের দিকে যেতেই চোখে পড়ে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ। সমুদ্রের ভাঙনে প্রায় ১০ ফুট পিচ ঢালাইয়ের রাস্তা বিলীন হয়ে গেছে। সৈকত ধরে পূর্বদিকে চলতেই চোখে পড়ে শতবর্ষী নারিকেল, মেহেগনি, তাল গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধশত গাছ ভেঙে পড়ে আছে। কিছু গাছের গোড়া থেকে বালু সরে গিয়ে গাছের মূলসহ শিকড়-বাকর কঙ্কালের মতো বের হয়ে আছে। যে কোন সময়ে গাছগুলো উপড়ে পড়তে পারে। ঝাউ বাগানের ঝাউ গাছ সারি সারি পড়ে আছে সৈকতে।

কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসা পর্যটক মো. লুৎফর রহমান মঞ্জু বলেন, অনেক দিন ধরে জানতাম কুয়াকাটা হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ধারক। প্রায় ২০ কিলোমিটারের এই সৈকতের পূর্ব দিকে রয়েছে রামনাবাদ নদের মোহনা ও পশ্চিম দিকে রয়েছে আন্ধারমানিক নদের মোহনা। রামনাবাদ নদের মোহনা হচ্ছে সূর্য্যদয়ে সময়ে রূপসী আর আন্ধারমানিক নদের মোহনা হচ্ছে সূর্যাস্তের সময়ে অপরূপ রূপসী।

হোটেল মালিক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, সৈকতের ভাঙনে আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি। জমি এবং হোটেলসহ প্রায় এক কোটি টাকার সম্পত্তি সমুদ্রে গেছে। এ বছর সমুদ্রের ভাঙনে হোটেলসহ জমি সমুদ্রের ঢেউয়ের তাণ্ডবে বিলীন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের জানান, ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ীভাবে কুয়াকাটা সৈকত রক্ষার জন্য একটি ‘সৈকত রক্ষা প্রকল্প’ প্রস্তাবনা আকারে পাঠানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। যা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে ফের বিস্তারিত সমীক্ষার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। যার জন্য এবছর বর্ষা মোৗসুমে সাগরের ভাঙন রোধে সৈকত রক্ষা প্রকল্পের কাজ অনিশ্চিত হয়ে গেল। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে স্বল্প পরিসরে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ এবং সৈকত রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র ও সি বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য আ. বারেক মোল্লা বলেন, পর্যটকদের স্বার্থে পাবলিক টয়লেটটি রক্ষার জন্য বালুর বস্তা এবং ইট শুরকি দিয়ে রক্ষার চেষ্টা চলছে। পৌর সভার উদ্যোগে কোরবানির পর জিও পাইপে বালু ঢুকিয়ে স্বল্প পরিসরে সৈকত রক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো সৈকত রক্ষার উদ্যোগ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গ্রহণ করলে কুয়াকাটার জন্য এবং পর্যটকদের জন্য সুবিধা হবে।

হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, ২০০৪ সাল থেকে কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু কোনটাই বাস্তবায়ন হয়নি। এ প্রকল্পটি কুয়াকাটার উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত ছিল। এখন অনিশ্চিয়তার কারণে আমরা শঙ্কিত রয়েছি। তার ওপর এখন উত্তাল সমুদ্রের ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সৈকত ও সেখানকার শত শত ব্যবসায়ী।

এ ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ড. মো. মাছুমুর রহমান জানান, কুয়াকাটা সৈকতে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ট্যুরিজম পার্ক এলাকাসহ পর্যায়ক্রমে সৈকতের বেলাভূমি রোধে দুই কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন রোধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।

 

কিউিএনবি/বিপুল/১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:২৩