১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:৩২

কান্ডজ্ঞানহীন নতুন নিয়মে হতবাক ও ক্ষুদ্ধ জয়পুরহাটের বিকাশ গ্রাহকরা

 

মিজানুর রহমান মিন্টু,জয়পুরহাট প্রতিনিধি : বিকাশ একাউন্টে টাকা রাখা, লেনদেন করতে নিরাপদ মনে করলেও হঠাৎ করে দেশের বৃহৎ মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানী বিকাশ কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই হঠাৎ করে কান্ডজ্ঞানহীন নতুন নিয়মে হতবাক ও ক্ষুদ্ধ জয়পুরহাটের বিকাশ গ্রাহকরা।

গ্রাহক সূত্রে জানা গেছে, বিকাশ একাউন্ট খুলতে এক সময় একটি মাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে একাধিক একাউন্ট খোলা যেত। কিন্ত হঠাৎ করেই বিকাশ কর্তৃপক্ষরা একটি মাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে একাধিক একাউন্ট খোলা গ্রাহকদের শুধু অধিক সচল একাউন্টটি খোলা রেখে বাকী একাউন্টগুলো নোটিশ ছাড়াই একাউন্টে টাকা থাকা অবস্থায় বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে গ্রাহকরা ওই একাউন্ট থেকে আর টাকা তুলতে পারছে না। ইতিপূর্বে গ্রাহকরা বন্ধ একাউন্ট থেকে টাকা বের করতে পারত কিন্ত পাঠাতে পারত না। এখন তারা নিজেরাই এই নিয়ম ভঙ্গ করছে।

বিকাশ একাউন্ট খোলার ২ থেকে ৩ বছর পর হালনাগাদের কথা বলে হঠাৎ করেই গ্রাহকদের একাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছে। ইতিপূর্বে বিকাশের একাউন্ট থেকে দিনে ২৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা তোলা যেত, বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা ছিল, সেই সুযোগ-সুবিধাগুলো বন্ধ করে এখন মাত্র দিনে ১০ হাজার টাকার উপর তোলা যায় না এবং মাসে ১০ বারের উপর টাকা উত্তোলন করা যায় না বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা।

এই বিষয়গুলো নিয়ে বিকাশের অভিযোগ সেন্টারের ১৬২৪৭ নম্বর এ কল করলে স্বাভাবিক মোবাইল অপারেটরের চেয়ে অধিক পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।

এদিকে বিকাশ কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক প্রচারণার কথা বললে তারা মোবাইলে এসএমএস দেওয়ার কথা বলেন যা আমাদের দেশের অধিক বিকাশ একাউন্ট গ্রাহকরা ইংরেজিতে দেওয়া এসএমএস পড়তে জানেন না বা দেখেন না।বিকাশ একাউন্ট পার্সোনাল ও এজেন্ট এই দুই পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়।

সরেজমিন ভূক্তোভোগী পার্সোনাল একাউন্ট গ্রাহক সূত্রে জানা যায়, পার্সোনাল একাউন্ট খোলা গ্রাহক সাহেবপাড়ার সাহিদা বেগমের নামে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে ৩-৪টি একাউন্ট খোলা হয়, কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই একটি একাউন্ট রেখে বাকী একাউন্টগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্ষেতলাল উপজেলার বড় তারা ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের সালেমা বেগমের বিকাশ একাউন্টে ২ হাজার টাকা তার এক আত্মীয় পাঠায়, টাকা আসার পর টাকা তুলতে গেলে পিন নম্বর ভূল দেওয়ার কারণে তার একাউন্ট থেকে টাকা উঠবে না বলে স্থানীয় বিকাশ এজেন্ট থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

শহরের প্রফেসরপাড়ার তিতাস মোস্তফার একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে দুইটি একাউন্ট খোলা হয়, হঠাৎ করে তার দুইটি একাউন্টই বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই রকম ভাবে অনেকেই বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানা যায়।

এদিকে এজেন্ট একাউন্ট গ্রাহক সূত্রে জানা যায়,জয়পুরহাট সদর রোডের পৃথিবী কমপ্লেক্সের পাশে একতা বিপনী ষ্টোরের স্বত্বাধিকারী মোকাররম হোসেন দেড় বছর আগে মুদি দোকানের পাশাপাশি বিকাশের এজেন্ট নেন।

গত জুন মাসের ৭ তারিখে প্রায় ২০ হাজার টাকা একাউন্টে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে একাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়, পরবর্তীতে বিকাশ অফিসে গেলে তারা হালনাগাদ কাগজপত্র দেওয়ার কথা বলেন, কাগজপত্র দেওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত একাউন্টটি খুলে দেওয়া হয়নি। তারপর আবারও অফিসে যোগাযোগ করা হলে নতুন সীম ও কাগজপত্র দিতে বলে।

জয়পুরহাট সদর থানার সামনে এস ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী শাহীন আলম প্রায় দুই বছর আগে বিকাশ এর এজেন্ট নেন, আড়াই মাস আগে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা একাউন্টে রেখে একাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়,অফিসে যোগাযোগ করা হলে নাম ভূল আছে বলে দুই দফায় তার কাছ থেকে স্মার্ট কার্ড ও ট্রেড লাইসেন্স এর কাগজ নেওয়া হয়। সর্বশেষ তাকে নতুন সীম ও নতুন করে একই কাগজপত্র দিতে বলা হয়।

সাহেবপাড়া মোড় এলাকার এজেন্ট শারমিন ষ্টোরের স্বত্বাধিকারী রাজু আহম্মেদ মুদি দোকানের পাশাপাশি ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধির জন্য বিকাশের ব্যবসা আসার পরই বিকাশের এজেন্ট নেন, সে সময় তারও জাতীয় পরিচয়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়, হঠাৎ করে তিনমাস আগে বিকাশের অফিস থেকে মোবাইল করে তার ট্রেড লাইসেন্স এ তার নাম ভূল আছে বলে তাকে জানানো হয় এবং ওই দিনই তা সংশোধন করে দিতে বলা হয়। দুই-তিন দিন পর সংশোধিত ট্রেড লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার পরও ৭২৮ টাকা বিকাশের একাউন্টে রেখে একাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জয়পুরহাট শহরের প্রফেসরপাড়ার তিতাস মোস্তফা জানান, দেশের বৃহৎ মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ কর্তৃপক্ষের হঠাৎ করে এই রকম কান্ডজ্ঞানহীন আচরণে আমরা হতবাক, তবে গ্রাহকদের কথা ভেবে তাদের আরও সচেতন হওয়ার দরকার ছিল।

জয়পুরহাট শহরের শান্তিনগর মহল্লার মাসুদ রানা জানান, দিনে একাধিক সময় একাধিক বারে বিকাশ একাউন্ট থেকে টাকা তোলা যাবে না, যদি টাকা পকেটে নিয়েই ঘুরতে হয় তবে বিকাশ একাউন্ট কেন, ব্যাংকে এক লক্ষ টাকা লেন-দেনের ক্ষেত্রে ৫৭ টাকা সার্ভিস চার্জ কাটা হয়, সেখানে বিকাশ একাউন্টে এক লক্ষ টাকায় অতি উচ্চ সার্ভিস চার্জ ১৮৫০ টাকা দেওয়ার পরেও আমাদের স্বাধীনতা থাকবে না কেন।

একতা বিপনী ষ্টোরের স্বত্বাধিকারী মোকাররম হোসেন ও এস ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী শাহীন আলম জানান, কয়েক মিনিটের জন্যও যদি আমাদের বিকাশ একাউন্ট খুলে দেওয়া হত, তাহলে আমরা টাকাগুলো বের করে ব্যবসার অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারতাম বলে আক্ষেপ করেন।

জয়পুরহাট বিকাশ অফিসের জুনিয়র অফিসার হুমায়ন কবিরকে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার আগে অধিক প্রচারণার কথা বলা হলে তিনি মোবাইলে দুইবার এসএমএসের পাওয়ার কথা বলেন।

জয়পুরহাট জেলার বিকাশের আঞ্চলিক অফিসার সুব্রত কুমার দাস এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে পারবেন না বলে জানান এবং বিকাশের মিডিয়া কর্মকর্তার সাথে কথা বলার জন্য নম্বর দিতে চেয়ে আর তিনি তা দেননি।

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৫ই জুলাই, ২০১৮ ইং/বিকাল ৩:৫৯