১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:৪১

গোবিন্দগঞ্জে দেনাদারের বাড়িতে গিয়ে লাশ হলেন পাওনাদার

ডেস্ক নিউজ : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দেনাদারের বাড়ি থেকে পাওনাদার হোসিয়ারী ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান মানু (৪০) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।শনিবার দুপুরে দেনাদার ব্যাংক কর্মকর্তা মশিউর রহমানের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের মহিমাগঞ্জ স্টেশন রোডের শ্রীপতিপুর এলাকার বাড়ির পিছনে একটি ঘরের চালের তীরে ঝুলন্ত অবস্থায় এই লাশ উদ্ধার করা হয়। 
নিহত আব্দুর রহমান মানু উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের আইজ উদ্দিনের ছেলে।দেনাদার ব্যাংক কর্মকর্তা মশিউর রহমান ওই (শ্রীপতিপুর) এলাকার মোজাফ্ফর রহমানের ছেলে এদিকে এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িঘর ভাংচুর ও আগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।খবর পেয়ে বগুড়ার সোনাতোলা ও গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তার আগেই বাড়ির আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল আগুনে পুড়ে যায়।  
নিহত আব্দুর রহমানের বড় ভাই আনিছুর রহমানের অভিযোগ, তার ভাগ্নে ফয়জুল ইসলামকে ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রায় তিন/চার বছর আগে মশিউর রহমান তার ছোট ভাই আব্দুর রহমানের কাছে ৫ লাখ ৬৫হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তার চাকরির কোন ব্যবস্থা করতে না পেরে তিনি (মশিউর) টালবাহানা শুরু করেন।
পরে এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠকের পর ওই ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে এক লাখ টাকা ফেরতও দেন। বাকী টাকা দেয়ার কথা বলে পাওনার যাবতীয় কাগজপত্রসহ তাকে (আব্দুর রহমান) গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মশিউর বাড়িতে ডেকে আনেন।
কিন্তু রাতে বাুড় ফিরে না আসায় তার স্বজনরা তাকে খুজঁতে শনিবার সকালে মশিউরের বাড়িতে যান। এ সময় তারা তার (মশিউর) বাড়ির পিছনে একটি ঘরের চালের তীরের সঙ্গে আব্দুর রহমানের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।তিনি আরও জানান, মশিউর ও তার সহযোগীরা তার ভাইকে মারপিট ও গলাটিপে হত্যা করে এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ একটি ঘরের ধর্নায় ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার গল্প প্রচার করে।
প্রত্যক্ষ্যদর্শী ও এলকাবাসী জানান, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শতশত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তের বাড়ি-ঘর ভাংচুর শুরু করে।এক পর্যায়ে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।পরে গোবিন্দগঞ্জ ও সোনাতলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ছাড়াও গাইবান্ধা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।তবে অভিযুক্ত মসিউর রহমানের বাড়িতে কেউ না থাকায় পরিবারের কারো সঙ্গে এ ব্যাপারে কোন কথা বলা সম্ভব হয়নি।
গেবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।এই ঘটনায় নিহত আব্দুর রহমানের বড় ভাই আনিছুর রহমান বাদী হয়ে মশিউরসহ ছয়জনকে আসামি করে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা চলছে।
কিউএনবি/আয়শা/১৪ই জুলাই, ২০১৮ ইং/রাত ৮:১৫