১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ২:১৫

নতুন মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

 

ডেস্কনিউজঃ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে বড় রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট। নির্মাণে খরচ হবে ১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান জানান, প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে মাত্র ৮ মাসে প্রথম ইউনিটের চুল্লির কংক্রিট ঢালাইকাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। সন্তুষ্ট হয়ে দ্বিতীয় ইউনিটের লাইসেন্স দিয়েছে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা।

প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী ইউরিক লিমারেনকো জানান, রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশি কর্মী মিলে এই প্রকল্পে এক হাজারের বেশি মানুষ কাজ করছেন। এই প্রকল্পে থ্রি প্লাস রিঅ্যাক্টর বসবে, যা বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তি। রাশিয়ার পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের রূপপুরেই এটির ব্যবহার হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকায় রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্ঘটনার কোনো আশঙ্কা নেই। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদি মোকাবেলায় সক্ষম এই রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার ভারী মালামাল পরিবহনে প্রকল্প এলাকায় সংযুক্ত হচ্ছে রেলপথ। এই বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ২০২২ ও ২০২৩ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পের ‘লাইফ’ বা আয়ুষ্কাল হবে ৫০ বছর। আর সংস্কারের পর আয়ুষ্কাল দাঁড়াবে ৮০ বছর।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো, সাইট ডেভেলপমেন্ট, মাটি পরীক্ষা, কনস্ট্রাকশন ল্যাবরেটরিসহ প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে রাশিয়া থেকে আসবে রিঅ্যাক্টর ভেসেলসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ। পরে তা সংযোজন করা হবে।

তিনি জানান, পদ্মা নদী ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে জাহাজ এবং কার্গো চলাচলের উপযোগী করা হবে। মূলত নৌপথেই মালামাল এনে এই প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ শেষ করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, পদ্মা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে গেলেও আণবিক চুল্লি পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না। এখানে দৈনিক মাত্র ১৭৫০ ঘনমিটার পানির প্রয়োজন হবে। রি-সাইক্লিং করে এর অর্ধেক পানি ব্যবহার করা যাবে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ধোঁয়া নির্গত হবে না, শব্দও থাকবে না। চওড়া দেয়ালের মধ্যে ৮০ টনের রিঅ্যাক্টর বসবে। একবার রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি ভরলে চলবে অনেক বছর। তাছাড়া ব্যবহৃত তেজষ্ক্রিয় বর্জ্যও ফেরত নেবে রাশিয়া। ফলে পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।

 

কিউএনবি/বিপুল/ ১৩.০৭.২০১৮/রাত ৮:১৯