১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:৫৮

পাহাড়ে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিডন্যাপ করার চেষ্টা

 

ডেস্কনিউজঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমাকে ‘তুলে নেওয়ার চেষ্টা’ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা উপজেলা চেয়ারম্যানকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় জনগণ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর চার যুবককে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি পুলিশ।

চঞ্চুমনি চাকমা পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) নেতা। হামলার পর তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে এ ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) দায়ী করা হয়েছে। যদিও দলটি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এর আগে গত ৩ মে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে (৫২) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। উপজেলা পরিষদের পাশের বাসা থেকে নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার পথে  দুই দুর্বৃত্ত তাঁকে গুলি করে হত্যা করে।

শক্তিমান চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) নামে যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে তার অন্যতম উদ্যোক্তা ও শীর্ষ নেতা। সর্বশেষ তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর দল এই ঘটনার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছিল। যদিও দলটি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।

এর পরদিন ৪ মে শক্তিমান চাকমার অন্তোষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে  ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) থেকে বেরিয়ে গঠন করা ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলের আহ্বায়ক তপনজ্যোতি চাকমা বর্মা, সজীব চাকমা, সেতুলাল চাকমাসহ পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্ত:কোন্দলের জের ধরে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে পার্বত্য তিন জেলায়। এর মধ্যেই আজ খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যানকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা ও হামলার ঘটনা ঘটল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১২টার দিকে চার-পাঁচ যুবক উপজেলা চেয়ারম্যানকে খাগড়াছড়ি বাজারের দিক থেকে ধাওয়া করে কোর্ট এলাকায় ডাকঘরের দিকে নিয়ে আসে। ডাকঘরের সামনে এসে তারা চেয়ারম্যানকে ধরে ফেলে। সেখান থেকে তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা ইট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে।

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্থানীয়রা ধাওয়া করে চার দুর্বৃত্তকে ধরে ফেলেন। পরে তাদেরকে পুলিশে দেওয়া হয়।

এ দিকে এ ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতিকে (এম এন লারমা) দায়ী করেছে ইউপিডিএফ। তবে জনসংহতি সমিতি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দোষ চাপানো হয়েছে। এর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন টিটু জানান, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদের ধরতেও অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।

 

কিউএনবি/বিপুল/ ১৩.০৭.২০১৮/সন্ধ্যা ৭:০১